Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে হবে ৭ পৃথক এসআরও, সরকারি চাকরিজীবীরা কে কোন ক্যাটাগরিতে

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে হবে ৭ পৃথক এসআরও, সরকারি চাকরিজীবীরা কে কোন ক্যাটাগরিতে

বিজ্ঞাপন

‘নবম জাতীয় পে স্কেল ২০২৬’ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইনগত পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভেটিং শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করতে বিভিন্ন শ্রেণি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য সাতটি পৃথক এসআরও বা বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ জারি করা হবে। এসব আদেশের মাধ্যমে বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সশস্ত্র বাহিনী এবং বিচার বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য পৃথকভাবে বেতন ভাতা ও সংশ্লিষ্ট বিধান কার্যকর করা হবে।

অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, প্রজ্ঞাপন জারির পরই বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা কর্মচারীর বেতন কাঠামো প্রয়োগে কারিগরি ও প্রশাসনিক পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে পৃথক এসআরও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

সরকারি চাকরিজীবীরা কে কোন ক্যাটাগরিতে

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে যে সাতটি পৃথক কাঠামো বা এসআরও থাকবে, সেগুলো হলো—

১. সিভিল বা বেসামরিক প্রশাসন

সরকারের সাধারণ বেসামরিক কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য এই কাঠামো প্রযোজ্য হবে।

২. পুলিশ বিভাগ

পুলিশ সদস্যদের বেতন, ভাতা ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক সুবিধা নির্ধারণে পৃথক এসআরও থাকবে।

৩. বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)

বিজিবির কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার জন্য আলাদা বিধান রাখা হবে।

৪. ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান

সরকারি ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ক্ষেত্রে পৃথক কাঠামো কার্যকর হবে।

৫. স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান

সরকারের বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য পৃথক এসআরও থাকবে।

৬. সশস্ত্র বাহিনী

সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর জন্য সংশ্লিষ্ট যৌথ বাহিনী নির্দেশনা ও পৃথক বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে।

৭. বিচার বিভাগ

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তা ও বিচারকদের জন্য প্রযোজ্য থাকবে পৃথক বেতন কাঠামো।

অর্থাৎ একটি সাধারণ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নবম পে স্কেলের মূল কাঠামো কার্যকর হলেও বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিজীবীর ক্ষেত্রে প্রয়োগের বিস্তারিত বিধান পৃথক এসআরওর মাধ্যমে স্পষ্ট করা হবে।

আরও পড়ুন
আইবাসে হবে নতুন বেতন নির্ধারণ

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবীদের প্রয়োজনীয় চাকরিসংক্রান্ত তথ্য আইবাস প্লাস প্লাসে হালনাগাদ করতে হবে। এরপর নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

এ ব্যবস্থায় পদ, গ্রেড, মূল বেতন, চাকরিতে যোগদানের তথ্য, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেডসহ প্রয়োজনীয় তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তথ্য পূরণ ও যাচাই শেষে নতুন কাঠামো অনুযায়ী মূল বেতন ও প্রযোজ্য ভাতা সফটওয়্যারের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

আরও পড়ুন
অর্থ বিভাগের লক্ষ্য, কাগজে কলমে বেতন নির্ধারণের পরিবর্তে তথ্যভিত্তিক ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নতুন বেতন নির্ধারণ করা। এতে হিসাবরক্ষণ অফিসে বারবার যাওয়ার প্রয়োজন কমার পাশাপাশি ভুল হিসাব, দ্বৈত সুবিধা বা অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের ঝুঁকিও কমবে।

নবম পে স্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। এতে ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

অর্থ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, প্রজ্ঞাপন জারির পর সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বাস্তবায়নের বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট করা হবে। একই সঙ্গে আইবাস প্লাস প্লাসে তথ্য হালনাগাদ ও নতুন বেতন নির্ধারণের কারিগরি প্রস্তুতিও চলছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার