বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসার আগে যা জানতে হবে
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০১ পিএম
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি সঠিক শিক্ষার্থী ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির প্রস্তাব পেলেই যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা নিশ্চিত হয় না। শিক্ষার্থীকে অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, প্রয়োজনীয় শিক্ষার্থী নথি সংগ্রহ, নির্ধারিত নিবন্ধন ও ফি পরিশোধ এবং ভিসা আবেদনসহ একাধিক ধাপ সম্পন্ন করতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে পূর্ণকালীন একাডেমিক পড়াশোনার জন্য সাধারণত এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা স্নাতক, স্নাতকোত্তর, পিএইচডি বা অন্যান্য একাডেমিক কর্মসূচিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই ভিসা ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারেন।
প্রথম ধাপ হলো উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা। শিক্ষার্থীকে এমন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে হবে, যেটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষার্থী নথি দেওয়ার জন্য অনুমোদিত। বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন, শিক্ষাক্রম, টিউশন ফি, আবাসন ব্যয়, বৃত্তির সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যমান নিয়ম যাচাই করা জরুরি।
ভর্তি অনুমোদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীর জন্য ফরম আই-২০ ইস্যু করে। এই নথি এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে শিক্ষার্থীর শিক্ষাক্রম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পড়াশোনার সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো—বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পত্র, ফরম আই-২০ এবং ভিসা আবেদনে দেওয়া তথ্যের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি থাকা উচিত নয়। নাম, জন্মতারিখ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, শিক্ষাক্রম, পড়াশোনার সময়কাল এবং আর্থিক তথ্যসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।
এরপর শিক্ষার্থীকে শিক্ষার্থী ও বিনিময় দর্শনার্থী তথ্য ব্যবস্থায় নিবন্ধন এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধের ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। ভিসা আবেদনের আগে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
ভিসা সাক্ষাৎকার এ প্রক্রিয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সেখানে শিক্ষার্থীর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার উদ্দেশ্য, নির্বাচিত বিশ্ববিদ্যালয়, কোন বিষয়ে পড়বেন, পড়াশোনা শেষে পরিকল্পনা কী, পড়াশোনা ও জীবনযাপনের খরচ কীভাবে বহন করবেন—এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা হতে পারে।
আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার খরচ বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে অনেকটা ভিন্ন হতে পারে। টিউশন ফি ছাড়াও বাসস্থান, খাবার, স্বাস্থ্যবীমা, বই, যাতায়াত এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত খরচ রয়েছে। তাই বাংলাদেশ থেকে আবেদন করার আগে পুরো শিক্ষাক্রমের সম্ভাব্য ব্যয় সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা নেওয়া প্রয়োজন।
যেসব শিক্ষার্থী পরিবারের অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাচ্ছেন, তাদের অর্থের উৎস ও প্রয়োজনীয় আর্থিক নথি সঠিকভাবে প্রস্তুত রাখা উচিত। আবার যারা বৃত্তি, সহকারী শিক্ষকতা, গবেষণা সহায়তা বা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক অর্থায়ন পাচ্ছেন, তাদের সংশ্লিষ্ট নথিও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বা আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ থাকলেই ভিসা নিশ্চিত—এমন কোনো নিয়ম নেই। শিক্ষার্থী ভিসার সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট ভিসা কর্মকর্তার মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে। তাই কোনো ব্যক্তি বা এজেন্ট যদি আগেই ভিসা নিশ্চিত হওয়ার দাবি করেন, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকা উচিত।
ভিসা পাওয়ার পরও শিক্ষার্থীদের নিয়ম মেনে চলতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর নির্ধারিত শিক্ষাক্রমে নিয়মিত পড়াশোনা করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং শিক্ষার্থী অবস্থার নিয়ম বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এফ-১ শিক্ষার্থীদের কাজের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করার সুযোগ থাকলেও সব ধরনের চাকরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত নয়। ক্যাম্পাসের ভেতরের কাজ এবং পড়াশোনার সঙ্গে সম্পর্কিত নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ বা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম ও অনুমোদন প্রযোজ্য হতে পারে। তাই কোনো চাকরি শুরু করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তরের কাছ থেকে নিয়ম জেনে নেওয়া উচিত।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার—ভিসা আবেদনের সময় ভুল তথ্য দেওয়া বা জাল নথি ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। শিক্ষাগত সনদ, পরীক্ষার ফল, ব্যাংক নথি, বৃত্তির কাগজপত্র কিংবা অন্য কোনো নথি জমা দেওয়ার আগে সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা ও অভিবাসন নীতিকে ঘিরে নিয়মিত পরিবর্তন ও অতিরিক্ত যাচাইয়ের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা অনির্ভরযোগ্য পরামর্শের ওপর নির্ভর না করে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সরকারি তথ্য এবং যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছেন, সেই প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তর থেকে সর্বশেষ নির্দেশনা নেওয়া উচিত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পাওয়া এবং শিক্ষার্থী ভিসা পাওয়া দুটি আলাদা বিষয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে গ্রহণ করতে পারে, কিন্তু ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত আলাদা কর্তৃপক্ষের। একইভাবে কোনো এজেন্ট বা পরামর্শক ভিসা নিশ্চিত করে দিতে পারেন না।
বাংলাদেশ থেকে যারা আগামী শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের তাই আগে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাক্রম যাচাই, এরপর ভর্তি প্রক্রিয়া, ফরম আই-২০, শিক্ষার্থী নিবন্ধন, আর্থিক প্রস্তুতি এবং শেষে ভিসা আবেদন—প্রতিটি ধাপ পরিকল্পনা করে এগোনো উচিত।
বিশেষ করে আবেদন করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট খরচ, বৃত্তির শর্ত, আবাসন ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের কাজের নিয়ম এবং পড়াশোনা শেষে সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেওয়া উচিত। এতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর অপ্রত্যাশিত আর্থিক বা প্রশাসনিক সমস্যার ঝুঁকি কমে।