বিজ্ঞাপন
অপচিকিৎসার অভিযোগে ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১২ পিএম
বিজ্ঞাপন
অপচিকিৎসা প্রদান ও অননুমোদিত সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগে চিকিৎসক ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের পরিচালক ডা. মো. নূরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত ৫ মে অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ অপচিকিৎসা প্রদান এবং অননুমোদিত সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন দিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির সভাপতি করা হয়েছে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনির-উজ-জামানকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম এ হালিম খান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নুরজাহান বানু এবং বারডেম হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আজিমুন্নেছা শিউলী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. মো. মাহমুদুর রহমানকে কমিটির সদস্যসচিব করা হয়েছে। চিঠিতে কমিটিকে অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদনটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জমা দিতে হবে।
এদিকে কমিটি গঠনের সত্যতা নিশ্চিত করে অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. নুরুল ইসলামকে বলেন, ‘অনেকে এ ধরনের আবেদন করেছেন। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষাও চলছে। আমাদের কাছে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ আসছে। এ কারণে আমরা এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটিতে অ্যান্ডোক্রাইনোলজিস্ট, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও ফার্মাকোলজিস্টরা রয়েছেন। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেওয়ার পর আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।’
সম্প্রতি ঢামেক হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ ও একই বিভাগে কর্মরত চিকিৎসকরা অধিদপ্তরের কাছে অভিযোগ করেন, ৩৬ বছর বয়সী সুমি বেগম দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি নিয়মিত ইনসুলিন ব্যবহার করতেন। পরে অনলাইনের মাধ্যমে হেলথ রেভুলেশন লিমিটেডে সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হেলথ রেভুলেশন লিমিটেড রোগীর ইনসুলিন বন্ধ করে নির্দিষ্ট শর্করাবিহীন খাদ্যতালিকা অনুসরণ ও উচ্চমূল্যের কিছু সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
‘ওই পরামর্শ অনুসরণ করে ইনসুলিন বন্ধ করার পর রোগীর ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। পরে তিনি সিভিয়ার ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগে ভর্তি হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তিনি মারা যান’—বলা হয় অভিযোগপত্রে।
এর আগে ডা. জাহাঙ্গীর কবীর ও তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
গত ২৯ জুলাই রাজধানীর আফতাবনগরে ডা. জাহাঙ্গীর কবীরের মালিকানাধীন ‘জে কে লাইফ স্টাইল’ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। আমদানিকারকের স্টিকার ছাড়া পণ্য বিক্রি ও মোড়কের গায়ে সঠিক তথ্য না থাকায় অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।
এছাড়াও সম্প্রতি ‘কফি অ্যানেমা’ নামে একটি বিকল্প চিকিৎসাপদ্ধতির প্রচার ও ব্যবহার নিয়ে চিকিৎসাঙ্গনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ পদ্ধতিতে পায়ুপথ দিয়ে কফি ও পানির মিশ্রণ প্রবেশ করানো হয়। এর প্রচারকারীদের দাবি, এতে শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের হয়ে যায় এবং লিভার ‘ডিটক্সিফাই’ করা সম্ভব। তবে পরিপাকতন্ত্র ও লিভার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কফি অ্যানেমার কার্যকারিতার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং ভুলভাবে প্রয়োগ করলে এটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। সম্প্রতি ‘ওষুধবিহীন বিকল্প লাইফস্টাইল’-এর প্রচারক হিসেবে পরিচিত ডা. জাহাঙ্গীর কবিরসহ কয়েকজন চিকিৎসক এই পদ্ধতির প্রচারে সোচ্চার হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।