বিজ্ঞাপন
মক্কা চুক্তির অধীনে প্রথম বৈঠক সোমবার, বাংলাদেশ প্রসঙ্গ কি উঠবে?
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম
বিজ্ঞাপন
মক্কায় চুক্তি সইয়ের পর প্রথমবারের মতো এক টেবিলে বসতে যাচ্ছেন সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের শীর্ষ কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা। আগামী সোমবার (৩১ আগস্ট) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বসছে তিন দেশের কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠক।
বৈঠক ঘিরে এরই মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তিন দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে।
মক্কায় গত ৭ আগস্ট চুক্তিটি সই হওয়ার পর এটিই হতে যাচ্ছে এর আওতায় প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
ইস্তাম্বুলে কারা থাকছেন
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, সোমবারের বৈঠকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোগলু অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
পাকিস্তানের পক্ষে থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, ফেডারেল প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।
সৌদি আরবের পক্ষে বৈঠকে অংশ নেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল ফাইয়াদ বিন হামেদ আল-রুয়াইলি।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় জোর
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় বিভিন্ন কার্যক্রমের কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেওয়াই এই কমিটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
তুর্কি সংবাদমাধ্যম তুর্কিয়ে টুডের খবরে বলা হয়েছে, ইস্তাম্বুলের বৈঠকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি তিন দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।
তিন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও আন্তঃকার্যক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়টি বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্যসূচিতে থাকতে পারে। এর মধ্যে যৌথ উৎপাদন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের বিষয়ও রয়েছে।
সন্ত্রাসবিরোধী যৌথ উদ্যোগ
তিন দেশ যৌথভাবে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার সক্ষমতা কীভাবে আরও বাড়াতে পারে, সেটিও আলোচনায় আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া চুক্তির আওতায় গঠিত কমিটির কাজ পরিচালনার জন্য একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠার কাঠামো নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
যৌথভাবে যেসব কার্যক্রম পরিচালিত হবে, সেগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
আগামী দিনগুলোতে কীভাবে চুক্তির বাস্তবায়ন এগিয়ে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে একটি রোডম্যাপ তৈরির বিষয়ও বৈঠকে উঠতে পারে।
‘একজনের ওপর হামলা সবার ওপর হামলা’
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো পারস্পরিক নিরাপত্তা।
চুক্তিকে এমন একটি সহযোগিতামূলক নিরাপত্তা কাঠামো হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, যা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদারে ভূমিকা রাখতে পারে।
চুক্তির মূল ধারণা অনুযায়ী, এক পক্ষের ওপর হামলাকে অন্য পক্ষগুলোর ওপরও হামলা হিসেবে বিবেচনা করার নীতি রয়েছে।
সোমবারের বৈঠকে এই পারস্পরিক নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির বিষয়টি আবারও গুরুত্ব পেতে পারে।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গ কি উঠবে?
ইস্তাম্বুলের বৈঠকের আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচিতে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ থাকার কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে তিন দেশের এই নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামো দক্ষিণ এশিয়া ও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেদিকে নজর থাকবে।
রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির মক্কা চুক্তি প্রসঙ্গে বলেছেন, বাংলাদেশ প্রস্তাবিত চুক্তিটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। আমরা বর্তমানে এ বিষয়ে আলোচনা করছি এবং সব দ্বিপক্ষীয় অংশীদারের সঙ্গে এসব আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিলে বাংলাদেশ কোনো ঝুঁকির মুখে পড়বে না এবং এর ফলে অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততাও সীমিত হবে না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহর সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন হুমায়ুন কবির। তার মতে, এটি একটি অনন্য চুক্তি, যা নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে।
গত সপ্তাহে ওআইসির ২৩তম বিশেষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদ (সিএফএম) সভায় যোগ দিতে জেদ্দা সফরকালে হুমায়ুন কবির সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদসহ দেশটির অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে ধারাবাহিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
জেদ্দায় তার বৈঠকগুলোতে প্রস্তাবিত চুক্তির বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং তার আলোচনাসঙ্গীদের প্রতিক্রিয়া ছিল ‘ইতিবাচক, অত্যন্ত ইতিবাচক’।
তবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখনো চুক্তিতে যোগ দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক কোনো আমন্ত্রণ পায়নি। যখন আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হবে, আমরা অবশ্যই আপনাদের জানাব।
হুমায়ুন কবির বলেন, চুক্তিটির প্রতি বাংলাদেশের ইতিবাচক মনোভাবের পেছনে রয়েছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ভূমিকা এবং নিরাপত্তা কার্যক্রমে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অভিজ্ঞতা।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের কাঠামোর অধীনে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষায় বড় অবদান রাখছে। শান্তি বজায় রাখা বাংলাদেশের জন্য নতুন কোনো ধারণা নয়; এ ক্ষেত্রে আমাদের ব্যাপক অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা রয়েছে এবং এ জন্য আমরা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা সারা বিশ্বে এটি (শান্তিরক্ষা কার্যক্রম) করে থাকি। তাহলে এখানে আমাদের মুসলিম ভ্রাতৃসমাজের জন্য কেন করব না?’
মক্কায় চুক্তি সই
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গত ৭ আগস্ট মক্কায় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেন।
চুক্তির পর তিন দেশের মধ্যে কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার একটি নতুন কাঠামো তৈরি হয়েছে। সোমবার ইস্তাম্বুলের বৈঠকের মাধ্যমে সেই কাঠামো বাস্তবায়নের প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি হতে পারে।
সূত্র: তুর্কিয়ে টুডে