Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

সেপ্টেম্বরে চালু হতে পারে ‘সপ্তপদী এক্সপ্রেস’

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৯ এএম

সেপ্টেম্বরে চালু হতে পারে ‘সপ্তপদী এক্সপ্রেস’

বিজ্ঞাপন

পাবনা-ঢাকা-পাবনা রুটে নতুন আন্তনগর ট্রেনের নাম চূড়ান্ত করেছে রেলওয়ে। ‘সপ্তপদী এক্সপ্রেস’ নামের ট্রেনটি যমুনা সেতু হয়ে চলাচল করবে।

৮০৭/৮০৮ নম্বরের এ এক জোড়া আন্তনগর ট্রেন পরিচালনার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। তবে ট্রেনটি কবে চালু হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ভারত থেকে নতুন ব্রডগেজ কোচ আসার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ট্রেনটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরে ট্রেনটি চালু হতে পারে।

এক প্রতিবেদনে আজকের পত্রিকা জানায়, রেলওয়ের মহাপরিচালকের কার্যালয়ের ট্রাফিক ট্রান্সপোর্টেশন শাখা গত ১৬ আগস্ট নতুন ট্রেনটির নাম ও পরিচালনার অনুমোদন দেয়। এর আগে গত ২২ জুলাই পাবনা-ঢাকা-পাবনা রুটে নতুন এক জোড়া আন্তনগর ট্রেন চালুর প্রস্তাব দিয়েছিল রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল। তখন ‘সপ্তপদী’, ‘পাবনা’, ‘ইছামতী’, ‘চলনবিল’, ‘বুনন’, ‘হারমনি’ ও ‘রূপপুর এক্সপ্রেস’সহ কয়েকটি নাম প্রস্তাব করা হয়। শেষ পর্যন্ত ‘সপ্তপদী এক্সপ্রেস’ নামটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিমাঞ্চল) ফরিদ আহমেদ বলেন, নতুন ট্রেনটির নাম, সময়সূচিসহ সার্বিক বিষয় চূড়ান্ত হয়েছে। ট্রেন চালুর জন্য প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। এখন ভারত থেকে কোচ আসার অপেক্ষা। কোচ আসার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করে ট্রেনটি চালু করা হবে। তবে চালুর আনুষ্ঠানিক তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ কোচের প্রথম চালান শিগগির দেশে আসার কথা রয়েছে। এসব কোচ দিয়েই পাবনা-ঢাকা-পাবনা রুটে ‘সপ্তপদী এক্সপ্রেস’ চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি আগস্টে ট্রেনটি চালুর পরিকল্পনার কথা এর আগে রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হলেও মাস শেষ হতে এক সপ্তাহের মতো সময় বাকি থাকায় এ সময়ে ট্রেন চালু করা কঠিন। ফলে আগামী সেপ্টেম্বরে ট্রেনটি চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রেলের সময়সূচি অনুযায়ী, ৮০৮ নম্বর ‘সপ্তপদী এক্সপ্রেস’ পাবনা থেকে সকাল ৮টায় ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছাবে বেলা ২টা ১০ মিনিটে। পথে টেবুনিয়া, দাশুড়িয়া, ঈশ্বরদী, চাটমোহর, বড়ালব্রিজ, উল্লাপাড়া, শহীদ মনসুর আলী, টাঙ্গাইল ও ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে। ঢাকা থেকে ট্রেনটি ছাড়বে বেলা ৩টা ২৫ মিনিটে এবং পাবনায় পৌঁছাবে রাত ৯টা ২০ মিনিটে। পাবনা থেকে ঢাকায় যেতে সময় লাগবে ৬ ঘণ্টা ১০ মিনিট এবং ঢাকা থেকে পাবনায় ৫ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট।

নতুন ট্রেনটির জন্য ১২ কোচের একটি রেক নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে এসি সিট, স্নিগ্ধা ও শোভন চেয়ার শ্রেণির আসন থাকবে। খাবার ও অন্যান্য সেবার জন্যও কোচ থাকবে। ট্রেনটিতে মোট আসন থাকবে ৮১৭টি।

অনুমোদন নথি অনুযায়ী, ট্রেনটির রেকের বেস হবে ঈশ্বরদী। পাবনা স্টেশনে শিডিউল মেইনটেন্যান্স, ওয়াটারিং ও ক্লিনিংয়ের সুবিধা না থাকায় ট্রেনটির খালি রেক ঈশ্বরদী-পাবনা-ঈশ্বরদী চলাচল করবে। ওয়াটারিং ও ক্লিনিংয়ের কাজও হবে ঈশ্বরদীতে।

এদিকে ‘সপ্তপদী এক্সপ্রেস’ চালুর সঙ্গে বিদ্যমান ৭৭৯ নম্বর ‘ঢালারচর এক্সপ্রেস’-এর সময়সূচিতে আংশিক পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন ট্রেনটি পাবনা থেকে সকাল ৮টায় ছাড়লে ঢালারচর এক্সপ্রেসকে বর্তমান সময়ের ২০ মিনিট আগে সকাল ৬টা ১০ মিনিটে ঢালারচর থেকে ছাড়তে হবে।

রেলওয়ে জানিয়েছে, শুরুতে ‘সপ্তপদী এক্সপ্রেস’-এর ক্যাটারিং সেবা দেবে বাংলাদেশ রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম সার্ভিসেস। পরে ২০২০ সালের ক্যাটারিং সার্ভিসে নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এ সেবা দেওয়া হবে। যাত্রীসেবায় অ্যাটেনডেন্ট সরবরাহ করবে বাংলাদেশ রেলওয়ের ‘অনবোর্ড সার্ভিস’।

অনুমোদন নথি অনুযায়ী, সোমবার ‘সপ্তপদী এক্সপ্রেস’ চলাচল বন্ধ থাকবে। সপ্তাহের বাকি ছয় দিন পাবনা-ঢাকা-পাবনা রুটে ট্রেনটি চলাচল করবে।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক হাদিউজ্জামান বলেন, নতুন ট্রেন চালুর পাশাপাশি সময়সূচি ও যাত্রাবিরতির যৌক্তিকতা, সময়ানুবর্তিতা এবং যাত্রীসেবার মানের দিকে নজর দিতে হবে। সড়কপথের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় রেলকে কার্যকর বিকল্প করতে হলে নির্ধারিত সময়ে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে যাত্রী পৌঁছে দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার