বিজ্ঞাপন
প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সাংবাদিককে ব্যঙ্গ করা মন্ত্রীর পেশাদার আচরণ নয়: হাসনাত
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৬ এএম
বিজ্ঞাপন
নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে দেওয়া মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।
হাসনাত বলেন, ‘কূটনীতিকরা বিনয়ী ও ভদ্র হন। কোনো প্রশ্ন এড়িয়ে যেতে চাইলে, তা কূটনীতির মারপ্যাঁচে এড়িয়ে যান। কিন্তু বিএনপির প্রতিমন্ত্রী তো কূটনীতির ধারেকাছেও গেলেন না। বরং তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সেটিকেই আক্রমণ করলেন।’
সোমবার (২৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক সাংবাদিক প্রতিমন্ত্রীর কাছে তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন করেন।
সাংবাদিক বলেন, ‘আপনার নাগরিকত্বের বিষয়ে নেটিজেনরা গতকাল যে ঝড় তুলেছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে মন্ত্রিত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা আছে কি না, একটি পত্রিকায় রিপোর্টও হয়েছে?’
জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি তো সিটিজেন (নাগরিক) নিয়ে আছি, আপনি বলেন নেটিজেন! মানে কোন... আমি তো সিটিজেন নিয়ে আছি, আমরা কাজ করি।’
এরপর তিনি বলেন, ‘আপনি বলেন নেটিজেন! তো মানে কোন নিউজপেপার? মানে কার এত জ্বালা... যে কাজ শুরু করার আগেই... হ্যাঁ? তো তার জ্বালা কেন হচ্ছে? তার কি ২০০৮-এর জ্বালা উঠছে নাকি আবার? মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের জ্বালা উঠছে তার আবার? নাকি?’
এদিকে, এ দিন দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের জন্য প্রশ্নটি ছিল, তিনি কি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ছেড়েছেন?’
উত্তর খুব সহজ, হ্যাঁ অথবা না। উত্তর হ্যাঁ হলে তিনি নাগরিকত্ব ছেড়ে থাকলে তিনি কাগজ দেখাবেন। কিন্তু তা না করে জবাবদিহিতা এড়িয়ে যেভাবে অপেশাদার, ব্যঙ্গাত্মক ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য দিয়েছেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নতুন চাপ তৈরি করবে।
পোস্টে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে হাসনাত বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এই রকম আচরণ দিয়ে একজন মানুষ কী করে কূটনীতি সামাল দেবেন! কূটনীতিকরা বিনয়ী ভদ্র হন। কোনো প্রশ্ন এড়াতে চাইলে, তা কূটনীতির মারপ্যাচে এড়িয়ে যান। কিন্তু বিএনপির প্রতিমন্ত্রী তো কূটনীতির ধারেকাছে গেলেন না, বরং তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এটাকেই আক্রমণ করলেন।
তিনি জানান, সংবিধান, আইন, বিধি-বিধান সবার জন্য সমান ও সহজ। কোনো ব্যক্তির বিদেশি নাগরিকত্ব থাকলে তিনি এমপি, মন্ত্রী হতে পারবেন না। এনসিপির একজন নেতা এ কারণে নির্বাচন করতে পারেননি। আমরা কষ্ট পেলেও আইনী বিধান মেনে নিয়েছিলাম।
এনসিপির এই মুখ্য সমন্বয়কের দাবি, বিএনপির অন্তত হাফডজন প্রার্থী নির্বাচনের সময় বিদেশি নাগরিকত্ব গোপন করেছিলেন। টিআইবির তিনজনের কথা বলেছে। কিন্তু আমরা জানি, এই সংখ্যাটি আরও বড়। যে ব্যক্তি তথ্য গোপনের মত অসততা করে এমপি, মন্ত্রী হতে পারেন, তার পক্ষে আরও বহুরকমের অসততা করা সম্ভব। হুমায়ুন কবির আমাদের শত্রু নন মন্তব্য করে পোস্টে তিনি আরও লেখেন, হুমায়ুন কবির বহু বছর যুক্তরাজ্যে তারেক রহমানের সহযোগী ছিলেন। সুতরাং প্রধানমন্ত্রী তো জানার কথা হুমায়ুন কবিরের সেই দেশের নাগরিকত্ব রয়েছে। তিনি কী জেনে বুঝেই এ কাজটি করেছেন?
গণতন্ত্রে মন্ত্রী এবং মন্ত্রিপরিষদে জবাবদিহিতা বাধ্যতামূলক। আমরা হুমায়ুন কবিরের জেল ফাঁসি চাইছি না। শুধু জানতে চাই, তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ছেড়েছেন কিনা? ছেড়ে থাকলে প্রমাণ কী? তিনি যদি উত্তর না দেন, তাহলে এটা সত্য যে উনি এখনও যুক্তরাজ্যের নাগরিক। এর মাধ্যমে তিনি জনগণের সঙ্গে অসততা করছে। সংবাদমাধ্যমকে গরম চোখ দেখিয়ে ক্ষমতার দম্ভ দেখাচ্ছেন বলেও পোস্টে মন্তব্য করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
আওয়ামী লীগের দুই সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বেলজিয়ামের এবং আবদুল মোমেনের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তারা এই তথ্য গোপন করে মন্ত্রীত্ব করে প্রতারনা করেছেন। ৫ আগস্টের পর তাঁরা নিজ নিজ দেশে পালিয়ে গেছেন। একই রকম প্রতারনা অসততা এই বাংলাদেশে আর চাই না। বিএনপি আরেকটা আওয়ামী লীগ সরকার হোক চাই না।
কিন্তু প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সাংবাদিকদের ব্যঙ্গ করা, তাঁদের উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনৈতিক ইঙ্গিত দেওয়া এবং ২০০৮ ও মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীন আমলের প্রসঙ্গ টেনে আনা কোনোভাবেই একজন মন্ত্রীর কাছ থেকে প্রত্যাশিত পেশাদার আচরণ হতে পারে না বলে অভিযোগ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
তিনি যুক্ত করেন, আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মন্ত্রী এখনো মূল প্রশ্নটির কোনো স্পষ্ট ও তথ্যভিত্তিক জবাব দেননি। মন্ত্রীর এই আচরণ শুধু একজন সাংবাদিককে নিরুৎসাহিত করে না; এর প্রভাব পুরো সংবাদমাধ্যমের ওপর পড়ে। আজ একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করতে ভয় পেলে, কাল আরও দশজন প্রশ্ন করার আগে ভাববেন। সেখান থেকেই শুরু হয় self-censorship।
আমরা অতীতে দেখেছি, ক্ষমতাসীনদের প্রশ্ন করা সাংবাদিকদের কীভাবে রাজনৈতিক তকমা দেওয়া হয়েছে, কীভাবে ভয় ও চাপের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নতুন সরকারের কাছ থেকে সেই সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি আমরা নিশ্চয়ই প্রত্যাশা করি না।
প্রতিমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের জন্য শুধু দুঃখপ্রকাশ নয়, আসলেই তিনি বিদেশি নাগরিক কিনা—অবশ্যই তাকে জবাব দিতে হবে বলে পোস্টের শেষে দাবি করেন, এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।