বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশিদের টার্গেট করে চলে পতিতাবৃত্তি, মালয়েশিয়ায় আটক ২৫
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
বিজ্ঞাপন
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের জালান কুচাই লামা ও জালান গেলুগোর এলাাকায় অভিযান চালিয়ে পতিতাবৃত্তি চক্রের মূলহোতাসহ ২৫ জনকে আটক করেছে দেশিটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)। দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারি শেষে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ১০টা ৫০ মিনিটে এই অভিযান চালানো হয়।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মালয় মেইল জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় কর্মরত ও পর্যটক বাংলাদেশিদের টার্গেট করে পতিতাবৃত্তি চালানোর চক্রের ২৫ জনকে আটক করেছে জেআইএম। চক্রটির মূলহোতা এক বাংলাদেশি ও থাই দম্পতি। তাদেরও আটক করা হয়েছে।
দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষের মতে, পতিতাবৃত্তির চক্রটির টার্গেট ছিল বাংলাদেশি শ্রমিক ও পর্যটক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে বিদেশি নারীদের দিয়ে দেহব্যবসা চালাচ্ছে একটি চক্র। তারা ওই আবাসিক ভবনের চত্বরে প্রতি ৬০ মিনিটের জন্য ‘গ্রাহকদের’ কাছ থেকে ২০০ রিঙ্গিত এবং বাণিজ্যিক ভবনের চত্বরে প্রতি ৯০ মিনিটের জন্য ২৬০ থেকে ৪০০ রিঙ্গিত করে বিনিময় নিচ্ছিল।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, গত দুই মাস ধরে সক্রিয় থাকা এই সিন্ডিকেটটি আবাসন ও বাণিজ্যিক ভবন ব্যবহার করে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিল। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মালয়েশীয় নাগরিক রয়েছেন। তিনি ভবনটির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কর্মরত।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, থাই দম্পতি ছাড়াও আটকদের মধ্যে রয়েছেন মিয়ানমারের তিন পুরুষ, একজন নারী, বাংলাদেশের তিন নারী, ইন্দোনেশিয়ার ১৪ জন নারী এবং ভিয়েতনামের দুজন নারী রয়েছেন। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তারা সবাই পতিতাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত।
তদন্তে দেখা গেছে, আটক বিদেশি নাগরিকদের কারও কাছেই বৈধ ভিসা বা ভ্রমণ নথি ছিল না। এই চক্রটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে বিশেষ করে ক্লাং ভ্যালিতে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের কাছে তাদের সেবা প্রচার করত।
মূলহোতা দম্পতি অন্য কর্মীদের পাসপোর্ট নিজেদের দখলে রেখে তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করত বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযানস্থল থেকে চারটি বাংলাদেশি, একটি থাই ও একটি ইন্দোনেশীয় পাসপোর্ট, একাধিক মোবাইল ফোন, কনডম এবং নগদ ১ হাজার ২১৫ মালয়েশীয় রিঙ্গিত জব্দ করা হয়েছে। আটকদের অভিবাসন আইনের ধারা ৫৬(১)(ডি) ও ৬(১)(সি)-এর অধীনে আটক রাখা হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে আরও সাত স্থানীয় ব্যক্তিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।