বিজ্ঞাপন
উত্তরা ফাইন্যান্সে চেয়ারম্যান-এমডিসহ চার পরিচালকের একযোগে পদত্যাগ
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৪ এএম
বিজ্ঞাপন
বিভিন্ন অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনায় আলোচিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও দুই স্বতন্ত্র পরিচালক একসঙ্গে পদত্যাগ করেছেন। রোববার (১৬ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকে তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগ করা চারজন হলেন উত্তরা ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান ও এনআরবিসি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মুখতার হোসেন, স্বতন্ত্র পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. নিয়ামুল কবির, স্বতন্ত্র পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওয়ালি উল্লাহ।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির একটি পক্ষ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার অনৈতিক চাপের কারণে তারা পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে পরিচালকদের মধ্যে আলোচনা হওয়ার পর একযোগে পদ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
ফেব্রুয়ারিতে নতুন পর্ষদ
উত্তরা ফাইন্যান্সের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক এবং উত্তরা গ্রুপের প্রধান অর্থ কর্মকর্তাকে (সিএফও) নিয়ে পাঁচ সদস্যের পর্ষদ গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এমডি হিসেবে ওয়ালি উল্লাহ দায়িত্বে ছিলেন।
রোববার চার পরিচালকের পদত্যাগের পর প্রতিষ্ঠানটির পর্ষদে এখন মাত্র দুজন পরিচালক রয়েছেন। তারা হলেন স্বতন্ত্র পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল আজম এবং উত্তরা গ্রুপের সিএফও ও পরিচালক মাহবুব আলম।
উত্তরা ফাইন্যান্সের এমডি হিসেবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যোগ দেন মো. ওয়ালি উল্লাহ।
৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকার অনিয়ম
উত্তরা ফাইন্যান্সের পরিচালনা পর্ষদে এর আগেও বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। আমানতের অর্থ প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা না দিয়ে অন্যভাবে ব্যবহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর উত্তরা গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচ পরিচালককে অপসারণ করা হয়।
অপসারিত পরিচালকদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন চেয়ারম্যান রাশেদুল হাসান, উত্তরা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠানের ভাইস চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, তার ভাই ও পরিচালক মুজিবুর রহমান এবং উত্তরা পরিবারের সদস্য ও পরিচালক জাকিয়া রহমান ও নাঈমুর রহমান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে প্রতিষ্ঠানটির ২০১৯ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর ভিত্তিতে নানা অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। এর মধ্যে আমানতের অর্থ প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা না রেখে ব্যবহার, কলমানি থেকে নেওয়া অর্থ নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, অগ্রিম ও প্রি-পেমেন্টের নামে অর্থ বের করে নেওয়া এবং ভুয়া এফডিআরের বিপরীতে ঋণ দেওয়ার মতো অভিযোগ ছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে এসব অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত ৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা বের করে নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় উত্তরা ফাইন্যান্সের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম শামসুল আরেফিনকেও ২০২২ সালের জুনে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর আগে ২০২১ সালের ১০ জানুয়ারি উত্তরা ফাইন্যান্সের অনিয়ম নিয়ে ‘আমানতের অর্থে উত্তরা ফিন্যান্সের স্বেচ্ছাচার’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।