বিজ্ঞাপন
এমপি আয়নুল হকের ওপর হামলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা গ্রেফতার
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৩ এএম
বিজ্ঞাপন
সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ভিপি আয়নুল হকের ওপর হামলার ঘটনায় রায়গঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ও রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মুক্তাদিরকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাত ১০ টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, এমপিকে হত্যাচেষ্টা ও গাড়ি ভাঙচুরের মামলায় অভিযান চালিয়ে গোলাম মুক্তাদিরকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তিনি ওই মামলার ৮ নম্বর আসামি। গোলাম মুক্তাদির রায়গঞ্জ পৌরসভার গুনগাঁতী গ্রামের মোশাররফ হোসেনের ছেলে।
এরআগে, এদিন বিকেল পৌনে ৫টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলা সদরের ধানগড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের সামনে অবস্থিত ক্যাফে ফাস্ট ফুডে অভিযান চালিয়ে আলমগীর হোসেন নামের আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
আলমগীর হোসেন পৌরসভার রনতিথা মহল্লার প্রয়াত বাবলু সেখের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী ও ক্যাফে ফাস্ট ফুডের স্বত্বাধিকারী।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রায়গঞ্জ উপজেলায় সরকারি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) স্থাপনের বিষয়ে গত শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় ধানগড়া বাজারে জরুরি মতবিনিময় সভা ছিল। সভাশেষে বের হওয়ার সময় সংসদ সদস্যের গাড়ির ওপর অতর্কিত হামলা হয়। পরে এমপি আয়নুল হক দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা ফয়সাল বিশ্বাসের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে যুক্ত হন এমপি আয়নুল হক। এসময় তিনি তার ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াত, শিবির ও এনসিপিকে দায়ী করেন।
ওই হামলায় এমপি আঘাতপ্রাপ্ত না হলেও তার গাড়ির পেছনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও সলঙ্গায় উত্তেজনা পরিস্থিতি সৃষ্টি ও বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এরপর জেলা বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি পৃথকভাবে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
ওইদিন রাতেই স্থানীয় বিএনপি নেতা শামীমুল হাসান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩০-৪০ জনকে আসামি করা হয়। তবে, পুলিশ তদন্তের স্বার্থে আসামিদের নাম-পরিচয় এখনো প্রকাশ করেনি। তারা বলছে, হামলার ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে গ্রেফতার হওয়া আলমগীর হোসেন ও মুক্তাদিরের পরিবারের দাবি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের ফাঁসানো হয়েছে। তারা এ হামলার ঘটনায় কোনোভাবেই জড়িত নয়।