Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

শিক্ষার্থী হেনস্থায় প্রভোস্টের পদত্যাগ ও সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:১২ এএম

শিক্ষার্থী হেনস্থায় প্রভোস্টের পদত্যাগ ও সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি

বিজ্ঞাপন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলের এক শিক্ষার্থীকে প্রভোস্টের কক্ষে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখানো ও জোর করে বক্তব্য নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস আল মামুনের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।

রোববার (১৬ আগস্ট) দিনগত রাতে আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ডাকসুর নেতৃবৃন্দ। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে প্রক্টর উপস্থিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং ‘প্রক্টর প্রক্টর, দালাল দালাল’—সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থী মো. আহসান হাবিব অভিযোগ করেন, একসময় ছাত্রলীগের কর্মীদের বিরুদ্ধে গেস্টরুমে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের মুখে প্রভোস্টদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তিনি দাবি করেন, ফজলুল হক মুসলিম হলের ঘটনায় প্রশাসন তদন্তের আশ্বাস দিয়ে মূল বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

ঘটনাস্থলে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, প্রভোস্টের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের জন্য তারা প্রভোস্টের কক্ষে যান। বিশৃঙ্খলার অভিযোগ যাতে না ওঠে, সেজন্য ডাকসু ও হল সংসদের কয়েকজন নেতৃবৃন্দই সেখানে প্রবেশ করেন বলে জানান তিনি।

জুবায়েরের ভাষ্য, প্রভোস্টকে তারা বলেন, তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে এবং তার সঙ্গে আলোচনা করার আগ্রহ নেই; শুধু সিসিটিভি ফুটেজটি দিতে বলা হয়েছিল। এ সময় প্রভোস্ট তার সঙ্গে ‘উগ্র আচরণ’ করেন বলে অভিযোগ করেন জুবায়ের।

পরে তারা প্রভোস্টের কক্ষের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন। জুবায়ের বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ না দেওয়া এবং প্রভোস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তালা বহাল থাকবে।

jagonews24প্রভোস্ট অফিসে তালা দেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

তিনি আরও বলেন, প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে তারা সেখানে অবস্থান করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুটেজ দেখানো হয়নি। প্রভোস্ট নির্দোষ হলে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশে সমস্যা কোথায়—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী রিয়াদুল ইসলাম জুবা বলেন, প্রভোস্ট অধ্যাপক ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, সমন্বয়হীনতা ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে সিসিটিভি ফুটেজ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ফজলুল হক মুসলিম হল প্রশাসন।

আন্দোলনের সময় ওমর খালেদ প্রভোস্টের সমালোচনা করে বলেন, শিক্ষার্থীদের কাজ শুধু পড়াশোনা করা নয়; বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ও হল ব্যবস্থাপনা নিয়েও শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করার অধিকার রয়েছে।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। তারা প্রভোস্টের পদত্যাগ এবং সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে হল প্রশাসনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার