বিজ্ঞাপন
ত্যাগী ছাত্রদল নেতা জুলহাসের সংসার চলে ডাব বিক্রি করে
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৭ এএম
বিজ্ঞাপন
মো. এনামুল হক জুলহাস। ২০১৪ সালে সরাসরি যুক্ত হন ছাত্রদলের রাজনীতিতে। প্রায় এক যুগের ছাত্র রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী সব আন্দোলনে জুলহাস ছিলেন প্রথম সারিতে। জুলাই আন্দোলনের সময়ও ছিলেন ঢাকাতেই। লড়াই করেছেন শেষ পর্যন্ত কিন্তু জুলাই যোদ্ধার তালিকায় তার নাম নেই।
বিগত সময়ে শুধু ছাত্রদলের রাজনীতি করার কারণে ২০১৭ সালে আনসার ব্যাটালিয়নে তার চাকরি হয়নি। চাকরির মাঠ থেকেই বাদ দেওয়া হয় তাকে। বসতে দেওয়া হয়নি লিখিত পরীক্ষায়।
দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে। জুলহাসেরও ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। ভাগ্যের পরিবর্তন হয়ে ছাত্রদল নেতা জুলহাস এখন ঢাকার পথে পথে ঘুরে ভ্যানে করে ডাব বিক্রি করছেন।
সেই ছবি ফেসবুকে ছড়ালে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বিবেককে নাড়া দেয়। আবেগাপ্লুত হন সাবেক ও বর্তমান ছাত্রদল নেতাসহ বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলহাসের বিগত সময়ের ত্যাগ ও আন্দোলনের ছবি পোস্ট করে জুলহাসের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেন তারা। একই সঙ্গে রাজনীতিতে ত্যাগের যে কোনো দাম নেই, জুলহাসের বরাত দিয়ে সেই দাবিও তুলে ধরেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
মো. এনামুল হক জুলহাস পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য ও একই উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। তার বাড়ি ওই উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের কালারানী গ্রামে। তার বাবার নাম মো. বেল্লাল চৌকিদার। তার বাবা দশমিনা উপজেলা মৎস্যজীবী দলের ১নং সহ-সভাপতি।
জেলে পরিবারে বেড়ে ওঠা জুলহাসের সংসারে সদস্য সংখ্যা ৭ জন। তিনি পরিবারের বড় সন্তান। সংসারের হাল ধরতে স্ত্রী ও কন্যা সন্তাকে নিয়ে চলে যেতে হয়েছে ঢাকায়। তিন মাস ধরে ঢাকাতেই আছেন জুলহাস। ঢাকার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ঘুরে ডাব বিক্রি করছেন। যা রোজগার হয়, নিজের টানাটানির সংসারের খরচ রেখে বাকি টাকা পাঠান গ্রামে বাবা-মা ও ভাই বোনদের জন্য।
চাকরির জন্য পটুয়াখালীর বহু সিনিয়র নেতাকর্মীদের কাছে বহুবার গিয়েও কোনো লাভ হয়নি বলে জানান জুলহাস।
জুলহাস যুগান্তরকে জানান, ২০১৬ সালে দশমিনা উপজেলা সদর ইউনিয়নের এসএ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে পরে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারেননি।
জুলহাস দাবি করেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হাসান মামুন আগে তার খোঁজ-খবর নিতেন। সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করায় নিজের বিবেকের তাড়নায় তিনি হাসান মামুনের সঙ্গে কোনো কিছুর জন্য যোগাযোগ করছেন না।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি ঢাকার উত্তরায় ছিলেন। আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ওই আন্দোলনে তিনি যা করেছেন তা তিনি দলকে ভালোবেসে করেছেন। অন্যদের মতো জুলাই যোদ্ধার তকমা লাগিয়ে সুবিধা নেওয়ার জন্য আন্দোলনে অংশ নেননি বলে দাবি করেন তিনি।
রনগোপালদী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আন্দোলনের সময় জুলহাস এবং তারা একসঙ্গে ছিলেন। সে সময় ঢাকার উত্তরায় তারা এক সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেন।
জুলহাস উপজেলা ছাত্রদলের যে কমিটির সদস্য ছিলেন, সেই কমিটির সভাপতি ছিলেন এইচএম ইকবাল বশির। তিনি বলেন, জুলহাস দীর্ঘদিন ছাত্রদল করেছেন। জুলহাসের খারাপ সময়ে দলের পাশে থাকা উচিত। দশমিনা-গলাচিপায় যারা বিএনপির রাজনীতি করেছেন তারা এখন অবহেলিত। তারা খারাপ সময় কাটাচ্ছেন।