Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

আমার বাপেরে ওরা ১৫ জন মিইল্লা কোপাইছে

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম

আমার বাপেরে ওরা ১৫ জন মিইল্লা কোপাইছে

বিজ্ঞাপন

ময়মনসিংহ নগরের মাসকান্দা এলাকায় রাব্বি (২৫) নামের এক কম্পিউটার দোকানের কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আবদুল খালেক (২৭) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। 

গ্রেপ্তার আব্দুল খালেক শহরের মাসকান্দা এলাকার হাইস্কুল রোডের ফজলুল হকের ছেলে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) র‍্যাব-১৪ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১৪ ময়মনসিংহের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার রাতে নগরের রঘুরামপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিকালে আবদুল খালেককে আদালতের নির্দেশে  কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

র‍্যাব কার্যালয়ে ব্রিফিং শেষে ছবি তোলার সময় আবদুল খালেক দম্ভোক্তি করেন। নিজের বাবাকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনার প্রতিশোধ নিতে রাব্বিকে কুপিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশে আবদুল খালেক বলতে থাকেন, ‘শিক্ষিত মানুষ আমি। আমার কী কথা আছিল, এইনো আওয়ার? আপনাগর কাজ যদি আপনারা সঠিক করতাইন, তাইলে আমার এইন আগুন লাগত না, বুঝ্জইন না। সন্ত্রাসী মারছি। আমার বাপেরে কোপাইছে, আমি কোপাইছি।’

নিজের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমার বাড়িঘর পুড়াইছে, লুটপাট করছে কে? কোনো আইনের লোক তো বাঁচাইতে পারল না। যেইডি নিরীহ, হেইডির উপরেই জুলুম; সবলগরে পাইতো না। আমি বাইরইতে পারলে তাদের কপালে শনি আছে, যারা আমার বাড়িঘর পুড়াইছে।

রাব্বির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে আবদুল খালেক বলেন, হে (নিহত যুবক) প্রত্যেক দোকান থাইকা ২০০ টাকা করে চাঁদা তুলত। যারা না দিত, হেরেই মাইরা বইতো। আমি কখনো চাঁদাবাজি করি নাই। আমার এলাকায় গিয়া জিজ্ঞেস করে দেখেন। মারছি আমরা দুই ভাইয়েই। আঙ্গর বেশি লোক লাগে নাকি, আঙ্গর কি কইলজা নাই? আমার বাপেরে ওরা ১৫ জনে মিইল্লা কোপাইছে, আর আমরা দুই ভাইয়ে মিইল্লা কোপাইছি ওরে।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব জানায়, গতকাল দুপুরে মাসকান্দা এলাকায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে রাব্বির ওপর একদল ব্যক্তি দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলা থেকে বাঁচতে রাব্বি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নিলেও হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তাকে বাঁচাতে তার ভাই মুহাম্মদ রিয়াদ এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে রাব্বিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

র‍্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরপরই র‍্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার আট ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত আবদুল খালেককে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল খালেক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে রাব্বিকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে তিনি বড় আকারের একটি দা বা হাঁসুয়া ব্যবহার করেছেন বলেও জানিয়েছেন।

র‍্যাব জানায়, ২০১৮ সালে রাব্বির পক্ষের লোকজন আবদুল খালেকের বাবা ফজলুল হককে মারধর করেছিলেন এবং তাঁর একটি হাত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল বলে আবদুল খালেক দাবি করেছেন। ওই ঘটনার জেরে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল। এ ছাড়া রাব্বির পক্ষের লোকজন এলাকায় ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে চাঁদা দাবি করতেন বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। এসব ক্ষোভ থেকে তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। তবে আবদুল খালেকের এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি র‍্যাব। অন্য কোনো পক্ষের বিরোধ বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মো. সামসুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি চারজনের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের পেছনে আরও আট থেকে দশজনের একটি গ্রুপ থাকতে পারে। অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ঘটনার আগের দিন দুই পক্ষের মধ্যে একটি সালিশ হয়েছিল বলেও র‍্যাবের কাছে তথ্য এসেছে। তবে ওই সালিশ চাঁদাবাজিসংক্রান্ত বিরোধের কারণে হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহত রাব্বি নগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের জেলা পরিষদ হাইস্কুল রোডের মোড়লবাড়ি এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে। তিনি মাসকান্দা এলাকার আকাশ কম্পিউটারে চাকরি করতেন। হত্যাকাণ্ডের পর গতকাল সন্ধ্যায় অভিযুক্তদের বাড়িঘরে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল রাতে নিহতের বাবা মোবারক হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। র‍্যাব একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার