Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২০ পিএম

২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ

বিজ্ঞাপন

২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি থেকে এই পরীক্ষা শুরু হবে। শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় সাশ্রয় এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, ঘোষিত সময় অনুযায়ীই ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘সরকার ঘোষিত নির্ধারিত সময়েই ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। এর আগেই নির্ধারিত সিলেবাস শেষ করে টেস্ট পরীক্ষা নিতে হবে। পরীক্ষার সময় পেছানোর কোনো সুযোগ নেই।’

সরকারের ২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, এসএসসির টেস্ট বা নির্বাচনী পরীক্ষা আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। এর ফলাফল ১৮ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। অর্থাৎ টেস্ট পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পাবলিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য শিক্ষার্থীরা সময় পাবে প্রায় দুই মাস। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার প্রস্তুতির সময় কিছুটা কমছে। সাধারণত টেস্ট বা নির্বাচনী পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য আড়াই থেকে তিন মাস সময় পেয়ে থাকে।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রি-টেস্ট পরীক্ষা শেষ হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের আগেই পাঠ্যসূচি শেষ করে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে টেস্ট পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাজধানী ঢাকা এবং বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরের বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী টেস্ট পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অক্টোবরের শেষ দিকে কিংবা নভেম্বরের শুরুতে নির্বাচনী পরীক্ষা হতে পারে। এতে শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষার আগে দুই মাসেরও কম সময় পেতে পারে।

এ নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে। তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, টেস্ট পরীক্ষার পর প্রস্তুতির সময় কমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে এবং এর প্রভাব পরীক্ষার ফলাফলেও পড়তে পারে। তবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান মনে করেন, নির্ধারিত সময়ে পাঠ্যসূচি শেষ করে টেস্ট পরীক্ষা নেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের সমস্যা হবে না।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সিলেবাস শেষ করেই টেস্ট পরীক্ষা নেওয়া হবে। এতে তারা প্রস্তুতি নিয়েই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলব, তারা যেন নির্ধারিত সময়ে সিলেবাস শেষ করে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করে তোলে।’ রাজধানীর সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রাদার প্লাসিড পিটার রেবেইরো সিএসই জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে টেস্ট পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষার আগে পর্যাপ্ত সময় পাবে বলে মনে করেন তিনি।

অন্যদিকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বলছেন, সব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে পাঠ্যসূচি শেষ করা সম্ভব নাও হতে পারে। বিশেষ করে শহরের বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক কম সময় পেলে প্রস্তুতিতে ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারির শুরুতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলের শুরুতে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। তবে করোনা মহামারির পর থেকে সেই সূচি আর ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।

চলতি ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২১ এপ্রিল এবং এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, বছরের পর বছর নানা কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে বড় একটি সময় হারিয়ে যাচ্ছে। এতে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরাও সেশনজটের কারণে সমস্যায় পড়ছে। তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর যদি আমাদের জীবন থেকে কর্মঘণ্টা হারিয়ে যায়, তাহলে সঠিক দিক খুঁজে পেতে আমাদের কষ্ট হবে। সামাজিক, রাজনৈতিক ও দুর্যোগের কারণে কাজগুলো সময়মতো করতে পারি না। সব মিলিয়ে প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে এসএসসির ক্ষেত্রে চার-পাঁচ মাস, এইচএসসির ক্ষেত্রে ছয়-সাত মাস হারাচ্ছে।

সেশন মিসের ফলে দীর্ঘ জীবনের অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে, এটা অনাকাঙ্ক্ষিত।’ তার মতে, শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে ফিরিয়ে আনতে পরীক্ষার সময়সূচিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করতে হবে। ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারির শুরুতে নেওয়ার উদ্যোগ সেই প্রক্রিয়ারই অংশ বলে মনে করছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার