Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

‘তারেক ইকোনমিকস’ বলতে কী বোঝালেন নাসিরুদ্দীন?

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২০ পিএম

‘তারেক ইকোনমিকস’ বলতে কী বোঝালেন নাসিরুদ্দীন?

বিজ্ঞাপন

নদী থেকে বালু উত্তোলন, নদীভাঙন, পুনর্বাসন প্রকল্প ও টেন্ডারকে ঘিরে একটি ‘শোষণের চক্র’ গড়ে ওঠার অভিযোগ তুলে ‘তারেক ইকোনমিকস’ নামে একটি ধারণার কথা বলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী।

নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো মানুষের দুর্দশাকেও কাজে লাগিয়ে একটি সুবিধাভোগী গোষ্ঠী অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে উল্লেখ করে পাটোয়ারী লেখেন, ‘বালুর ব্যবসা নয়, নদীভাঙনকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা এক “তারেক ইকোনমিকস”।’

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব অভিযোগ করেন নাসিরুদ্দিন। সেখানে তিনি বালু উত্তোলন থেকে শুরু করে পুনর্বাসন প্রকল্প, টেন্ডার এবং চাঁদাবাজি পর্যন্ত একটি ধারাবাহিক চক্রের কথা তুলে ধরেন।

পোস্টে এনসিপি নেতা বলেন, ‘এক ট্রাক বালুর দাম ৬ হাজার টাকা। প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকার বালু বিক্রি হলে আনুমানিক ৩৩৩ থেকে ৫০০ ট্রাক বালু বাজারজাত হয়। মাসে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬ থেকে ৯ কোটি টাকা। এই বিপুল অর্থের ব্যবসায় লাভবান হচ্ছে কারা, আর সর্বস্ব হারাচ্ছে কারা?’

নাসিরুদ্দিনের অভিযোগ, নদী থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনে খরচ খুবই কম হলেও সেই বালু কোটি কোটি টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর একটি অংশ স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী, প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী চক্রের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এরপর নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ঘর, বাঁধ ও পুনর্বাসনের নামে প্রকল্প নেওয়া হয় এবং এসব প্রকল্পের টেন্ডারকে ঘিরে আবারও অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় বলে অভিযোগ করেন এনসিপির এই নেতা।

তিনি আরও দাবি করেন, নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে ঢাকায় আশ্রয় নেওয়া মানুষের একটি অংশকে সামান্য অর্থের বিনিময়ে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কোথাও ছোট দোকান বা ফুটপাতে ব্যবসার সুযোগ দিয়ে পরে সেই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পোস্টে নাসিরুদ্দীন ঠিক এভাবে লেখেন, ‘নদী থেকে বালু → বালুর ব্যবসা → রাজনৈতিক ভাগ → প্রশাসনিক ভাগ → নদীভাঙন → মানুষের সর্বস্বান্ত হওয়া → পুনর্বাসন প্রকল্প → টেন্ডার → আবার রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ভাগ-বাটোয়ারা’—এভাবেই একটি চক্র তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

এই চক্র ভাঙতে বালু উত্তোলন, ড্রেজারের অবস্থান, উত্তোলনের পরিমাণ, ট্রাক চলাচল, বালুর বিক্রির হিসাব, ইজারা ও অনুমোদন, ব্যাংক লেনদেন এবং সরকারি প্রকল্পের টেন্ডার স্বাধীনভাবে অডিট ও তদন্তের দাবি জানান নাসিরুদ্দিন।

তবে নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীর এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তা বা ব্যবসায়ীচক্রের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার