বিজ্ঞাপন
আগস্ট থেকে অনেক বাংলাদেশীর ইবিটি সুবিধা বন্ধের ঝুঁকি, নতুন ৩ শর্ত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্কে স্ন্যাপ বা ইবিটি তোমার মাথায় কি উকুন সুবিধা নেওয়া অনেক বাসিন্দার জন্য নতুন কাজের নিয়ম কার্যকর হয়েছে। বিশেষ করে ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের একটি অংশ নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না করলে তাদের স্ন্যাপ সুবিধা সীমিত বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশিসহ নিউইয়র্কে বসবাসরত যেসব পরিবার এই সুবিধা পান, তাদের জন্য নতুন নিয়মগুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ।
নিউইয়র্ক সিটির তথ্য অনুযায়ী, নতুন নিয়মটি মূলত এমন কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য, যাদের ওপর নির্ভরশীল ছোট সন্তান নেই। একজন ব্যক্তির বয়স ১৮ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে হলে, তার সঙ্গে ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু বসবাস না করলে এবং শারীরিক বা মানসিক কারণে কাজ করতে অক্ষম হিসেবে ছাড় না থাকলে তিনি এই কাজের শর্তের আওতায় পড়তে পারেন।
নতুন নিয়মে মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, বয়স ১৮ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে হতে হবে। দ্বিতীয়ত, ব্যক্তির সঙ্গে ১৪ বছরের কম বয়সী নির্ভরশীল শিশু না থাকলে কাজের শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। তৃতীয়ত, কোনো বৈধ ছাড় না থাকলে মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা কাজ, স্বেচ্ছাসেবা বা অনুমোদিত প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হবে।
মাসে ৮০ ঘণ্টার হিসাবে সপ্তাহে গড়ে প্রায় ২০ ঘণ্টা কাজ বা অনুমোদিত কার্যক্রমে যুক্ত থাকতে হয়। কেউ চাকরি করলে সেই কাজের সময় গণনা হতে পারে। একইভাবে অনুমোদিত চাকরির প্রশিক্ষণ, শিক্ষা বা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের নির্দিষ্ট সময়ও শর্ত পূরণে বিবেচিত হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তিন মাসের সীমা। যাদের ওপর এই কাজের শর্ত প্রযোজ্য, তারা প্রয়োজনীয় কাজ বা অনুমোদিত কার্যক্রমে অংশ না নিলে এবং কোনো ছাড়ের আওতায় না থাকলে তিন বছরের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র তিন মাস স্ন্যাপ সুবিধা পেতে পারেন। এরপর আবার যোগ্যতা অর্জন না করা পর্যন্ত সুবিধা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
নতুন ফেডারেল আইনে এই কাজের শর্তের আওতায় পড়ার বয়সসীমাও বাড়ানো হয়েছে। আগে সর্বোচ্চ বয়স ছিল ৫৪ বছর। নতুন নিয়মে তা বাড়িয়ে ৬৪ বছর করা হয়েছে। ফলে ৫৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী অনেক কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কও এখন এই শর্তের আওতায় আসতে পারেন।
তবে ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী হলেই সবার স্ন্যাপ সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে, বিষয়টি এমন নয়। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। গর্ভবতী নারী, শারীরিক বা মানসিক কারণে কাজ করতে অক্ষম ব্যক্তি এবং ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুর সঙ্গে বসবাসকারী ব্যক্তি কাজের এই বিশেষ সময়সীমা থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন।
এ ছাড়া নির্দিষ্ট ধরনের প্রতিবন্ধী ভাতা বা সম্পূরক নিরাপত্তা আয় গ্রহণকারী ব্যক্তির ক্ষেত্রেও সাধারণ কাজের শর্ত থেকে ছাড় থাকতে পারে। কারও পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও ছাড় প্রযোজ্য হতে পারে। তাই নিজের ক্ষেত্রে নিয়মটি প্রযোজ্য কি না, সেটি নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
নতুন আইনে আগে বিশেষ ছাড় পাওয়া কয়েকটি শ্রেণির মানুষের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। কিছু সাবেক সেনাসদস্য, গৃহহীন ব্যক্তি এবং পালক পরিবার থেকে বেরিয়ে আসা নির্দিষ্ট বয়সী তরুণ তরুণীর ক্ষেত্রেও নতুন কাজের শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে।
যারা নিউইয়র্ক সিটির মানবসম্পদ প্রশাসন থেকে কাজের কার্যক্রমসংক্রান্ত চিঠি বা নোটিশ পেয়েছেন, তাদের সেটি উপেক্ষা করা উচিত নয়। চাকরি, প্রশিক্ষণ বা অন্য অনুমোদিত কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার প্রমাণ চাওয়া হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা জমা দিতে হবে।
অনলাইনে নিজের সরকারি সুবিধার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া যায়। চাইলে নিকটস্থ মানবসম্পদ প্রশাসনের কার্যালয়েও যোগাযোগ করা যেতে পারে। কাজ করতে না পারার বৈধ কারণ থাকলে সেটিও কর্তৃপক্ষকে জানানো জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্রসহ অতিরিক্ত প্রমাণ চাওয়া হতে পারে।
পারিবারিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও তথ্য হালনাগাদ করা গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণ হিসেবে, ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু আপনার সঙ্গে বসবাস শুরু করলে সেটি আপনার ওপর কাজের বিশেষ শর্ত প্রযোজ্য হবে কি না, সেই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
নিউইয়র্ক সিটির স্ন্যাপ সহায়তা নম্বর ৭১৮-৭৬২-৭৬৬৯। নিজের সুবিধার বর্তমান অবস্থা, নতুন কাজের শর্ত কিংবা কোনো ছাড় প্রযোজ্য কি না জানতে এই নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি বাংলাদেশি বা অভিবাসী পরিবারগুলোর স্ন্যাপ সুবিধা একযোগে বন্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত নয়। জাতীয়তা বা বাংলাদেশি পরিচয়ের কারণে কারও সুবিধা বন্ধ হবে না। কার ওপর নতুন কাজের শর্ত প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করবে বয়স, কাজের সক্ষমতা, নির্ভরশীল শিশু, কাজ বা অনুমোদিত কার্যক্রম এবং প্রযোজ্য ছাড়ের ওপর।
তাই যারা বর্তমানে নিউইয়র্কে স্ন্যাপ সুবিধা পাচ্ছেন, তাদের কর্তৃপক্ষের পাঠানো চিঠি বা নোটিশ ভালোভাবে পরীক্ষা করা জরুরি। নিজের ওপর নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হলে নির্ধারিত কাজের সময়ের তথ্য অথবা ছাড় পাওয়ার প্রমাণ সময়মতো জমা না দিলে স্ন্যাপ সুবিধা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।