বিজ্ঞাপন
সরকারিগাড়ি ব্যবহার করছেন না প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-উপদেষ্টারাও
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
বিজ্ঞাপন
সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ব্যক্তিগত গাড়িতে চলাচল করছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নিজের গাড়ি, ব্যক্তিগত চালক এবং নিজ অর্থে কেনা জ্বালানি ব্যবহার করছেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সাভার ও শেরেবাংলা নগরের কর্মসূচিতে তিনি নিজের টয়োটা গাড়িতে অংশ নেন। পরে একই গাড়িতে সচিবালয়ে যান। এরপর থেকে সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত অব্যাহত রেখেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারের পাঁচ প্রতিমন্ত্রী, আট উপদেষ্টা ও দুই বিশেষ সহকারীও সরকারি যানবাহন ব্যবহার করছেন না বলে জানিয়েছে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন পুল সূত্র।
শুধু গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রেই নয়, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাঁর গাড়িবহরে আগে ১৩ থেকে ১৪টি গাড়ি থাকলেও তা কমিয়ে চারটিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের সময় সড়কের দুই পাশে পুলিশের সারিবদ্ধ অবস্থানের প্রচলিত ব্যবস্থাও বাদ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন না পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর (সুমন), পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তবে পূর্ণ মন্ত্রীদের মধ্যে কেউ সরকারি গাড়ি ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এই তালিকায় নেই বলে সূত্র জানিয়েছে।
অন্যদিকে পরিবহন পুল থেকে সরকারি গাড়ি নেননি আট উপদেষ্টাও। তাঁরা হলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, মো. রুহুল কবির রিজভী, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তাঁরা ব্যক্তিগত গাড়িতেই চলাচল করছেন।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনিও সরকারি গাড়ির পরিবর্তে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অতীতে সরকারি গাড়ি বরাদ্দ পাওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা দেখা যেত। এতে কেন্দ্রীয় পরিবহন পুলের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হতো। বর্তমান সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তকে তাই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে সরকারি পরিবহন ও জ্বালানি খাতে ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারের শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রীর আরও একটি সিদ্ধান্ত আলোচনায় এসেছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বৈঠকগুলো সচিবালয়ে আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসব বৈঠক হলে মন্ত্রীদের সচিবালয় থেকে সেখানে যেতে গিয়ে যানজট তৈরি হয়। ভিআইপি চলাচলের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির পাশাপাশি বাড়ে জ্বালানি ব্যয়ও। সচিবালয়ে বৈঠক আয়োজনের ফলে এসব সমস্যা ও ব্যয় কমানো সম্ভব হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
উল্লেখ্য, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন বিএনপি সরকার ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেয়। সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের রোডম্যাপ অনুযায়ী বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি ও অর্জন নিয়ে বর্তমানে পর্যালোচনা চলছে।