বিজ্ঞাপন
কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহউদ্ধার, প্রেমিককে পাঠানো স্ক্রিনশট ভাইরাল
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
বিজ্ঞাপন
কুমিল্লার দেবিদ্বারে আফরিন আক্তার (১৭) নামে এক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত্যুর আগে প্রেমিক সাখাওয়াত হোসেন সানিকে পাঠানো আফরিনের একটি আবেগঘন মেসেজের স্ক্রিনশট মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে দেবিদ্বার পৌরসভার মেল্লাবাড়ী মসজিদসংলগ্ন খান মঞ্জিলের চতুর্থ তলার একটি ভাড়া বাসা থেকে আফরিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আফরিন দেবিদ্বার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিনাইপাড় গ্রামের মৃত আব্দুল আউয়ালের মেয়ে। সে পারুয়ারা আব্দুল মতিন খসরু কলেজের উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। বাবার মৃত্যুর পর প্রায় ১০ বছর ধরে মায়ের সঙ্গে দেবিদ্বার সদরের মোল্লাবাড়িতে ভাড়া বাসায় থাকত সে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া ও বড়শালঘর গ্রামের জামসেদ মিয়ার ছেলে সাখাওয়াত হোসেন সানির সঙ্গে আফরিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সানি পেশায় ক্যামেরাম্যান। তবে মেয়ের সঙ্গে সানির সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি আফরিনের মা মরিয়ম বেগম। তাঁর অভিযোগ, সানি বিভিন্নভাবে আফরিনকে উত্ত্যক্ত করতেন।
এ নিয়ে গত রোববার (৯ আগস্ট) দুই পরিবারের সদস্য ও বাড়ির মালিককে নিয়ে সালিশি বৈঠক হয়। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে মরিয়ম বেগম মেয়েকে বাসায় একা রেখে বাবার বাড়িতে চলে যান।
পরদিন সোমবার সৌদি আরব থেকে ছেলে আজাদের ফোন পেয়ে বাসায় ফেরেন মরিয়ম। এসে দেখেন, বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। পরে স্থানীয় লোকজন ও কারিগরদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। এ সময় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে আফরিনের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা।
মৃত্যুর আগে সানিকে পাঠানো মেসেজে আফরিন লিখেছিল, ‘সানি, আমি জানি আমাকে কখনো ক্ষমা করবা না, তারপরও বলি আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি। কখনো ভাবিনি এমন একটা সময় আসবে, যে সময়ে তোমাকে হারিয়ে ফেলব। কিন্তু আমি তোমাকে আমার মৃত্যুর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আল্লাহর কাছে চাইব। আমি তোমাকে কখনো হারাতে চাই না। আমি অনেক ভালোবাসি তোমায়... হয়তো আজ আমার শেষ নিঃশ্বাসটাও কেউ দেখবে না। আমাদের আর কখনো কথা হবে না, দেখা হবে না। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি পাখি, বাই। আল্লাহ হাফেজ।’
আফরিনের মা মরিয়ম বেগম বলেন, ‘সানি আমার মেয়েকে নানাভাবে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। আমার মেয়ের এই অকাল মৃত্যুর জন্য সানিই সম্পূর্ণ দায়ী। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পর মঙ্গলবার বিকেলে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসি বলেন, পারিবারিক মনোমালিন্য ও প্রেমের সম্পর্কের জেরে আত্মহত্যায় প্ররোচনার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।