বিজ্ঞাপন
একাদশে ভর্তি দৌড়: রাজধানীর সেরা কলেজ কোনগুলো, পছন্দের শীর্ষে কারা
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
বিজ্ঞাপন
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে গত ১০ আগস্ট। ফল প্রকাশের পর এখন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য পছন্দের কলেজ নির্বাচন। ভালো ফলাফল, শিক্ষার পরিবেশ, ঐতিহ্য ও দীর্ঘদিনের সুনামের কারণে রাজধানীর বেশ কিছু কলেজ প্রতিবছরই শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় থাকে।
একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির দুই বছর শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে একাডেমিক পরিবেশের পাশাপাশি কলেজের শৃঙ্খলা, সহশিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পরিবেশ এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের সুনামও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই একাদশে ভর্তির আগে কাঙ্ক্ষিত কলেজ সম্পর্কে ভালোভাবে জানা জরুরি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, উচ্চ মাধ্যমিকের এই দুই বছর শুধু একাডেমিক ভবিষ্যতের ভিত্তি গড়ার সময় নয়, বরং এটি একজন শিক্ষার্থীর চিন্তা, স্বপ্ন এবং ক্যারিয়ার গঠনের পথরেখা নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেখা যায়, এসব দিক বিবেচনা করলে শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে নটর ডেম কলেজ ও ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ । তাই এই ভর্তির সিদ্ধান্তকে সহজ করতে সাম্প্রতিক বছরগুলোর একাডেমিক ফল, শিক্ষার মান, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং র্যাংকিংয়ের বিচারে এগিয়ে রাজধানী ঢাকার সেরা ও খ্যাতিমান এমন কিছু কলেজের নাম তুলে ধরছে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস।
নটর ডেম কলেজ
দেশের অন্যতম খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নটর ডেম কলেজ রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত। এটি একটি ক্যাথলিক উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। হলি ক্রস মণ্ডলীর পুরোহিতদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত এ কলেজ দীর্ঘদিন ধরে ভালো ফলাফল ও শৃঙ্খলাপূর্ণ শিক্ষার জন্য পরিচিত।
২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় নটর ডেম কলেজের ৩ হাজার ২৫১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করেন। এর মধ্যে ৩ হাজার ২৩৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। পাস করেছেন ৩ হাজার ২২৬ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। অকৃতকার্য হয়েছেন ২৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৪৫৪ জন। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ১ হাজার ৯৬৮ জন, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩৭৮ জন এবং মানবিক বিভাগে ১০৮ জন।
আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ
রাজধানীর ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ দেশের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকের পাশাপাশি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়েও শিক্ষা কার্যক্রম রয়েছে।
২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজটির ২ হাজার ৩৫৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৩১৫ জন উত্তীর্ণ এবং ৫২ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ২২৯ জন। এর মধ্যে ৫৩৮ জন পুরুষ এবং ৬৯১ জন নারী শিক্ষার্থী।
মাইলস্টোন কলেজ
রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত মাইলস্টোন কলেজ একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কলেজিয়েট স্কুল হিসেবে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটিতে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ার সুযোগ রয়েছে। বাংলা মাধ্যম ও ইংরেজি ভার্সনে পাঠদানের পাশাপাশি ভালো ফলাফলের জন্যও কলেজটির পরিচিতি রয়েছে।
২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মাইলস্টোন কলেজ থেকে ২ হাজার ৯৮১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৯৭৬ জন পাস করেছেন এবং পাঁচজন অকৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৯১ জন। বিজ্ঞান বিভাগে ২ হাজার ৩৭৩ জনের মধ্যে ২ হাজার ৩৭০ জন পাস করেছেন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৪৮ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩০৫ জনই পাস করেছেন; এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৩ জন। মানবিক বিভাগে ৩০৩ জনের মধ্যে ৩০১ জন পাস করেছেন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২০ জন।
ঢাকা কলেজ
বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজ রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় অবস্থিত। উপমহাদেশের শিক্ষা ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এ কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকের পাশাপাশি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়েও পাঠদান করা হয়। ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ঢাকা কলেজের ১ হাজার ১৩৮ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত ছিলেন। এর মধ্যে ১ হাজার ১৩৭ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। পাস করেছেন ১ হাজার ১২৭ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৫৭ জন শিক্ষার্থী।
ঢাকা সিটি কলেজ
ধানমন্ডির কুদরত-ই-খুদা সড়কে অবস্থিত ঢাকা সিটি কলেজ রাজধানীর পরিচিত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। উচ্চ মাধ্যমিকের পাশাপাশি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়েও এখানে পাঠদান হয়। দীর্ঘদিন ধরে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের কারণে কলেজটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে পরিচিত।
২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ঢাকা সিটি কলেজে ৩ হাজার ৪৪৮ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেন। পরীক্ষায় অংশ নেন ৩ হাজার ৪৪১ জন। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৩৬৯ জন পাস করেছেন এবং ৭২ জন অকৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৯১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৫২ জন।
ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে অবস্থিত ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে পাঠদানের পাশাপাশি মেধাভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস, বিশেষ ক্লাস ও একাডেমিক কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজটির ৩ হাজার ১৮৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ৩ হাজার ১৭২ জন পাস করেছেন এবং ১১ জন অকৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯২০ জন। বিজ্ঞান বিভাগে ৭৭৭ জন, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১০৭ জন এবং মানবিক বিভাগে ৩৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ
রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ দেশের অন্যতম পরিচিত নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রধান শাখার পাশাপাশি ধানমন্ডি, আজিমপুর ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির আরও শাখা রয়েছে। নারী শিক্ষায় অবদান ও দীর্ঘদিনের ভালো ফলাফলের কারণে প্রতিষ্ঠানটি দেশজুড়ে পরিচিত।
২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ২ হাজার ৪৯৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৩৪ জন পাস করেছেন এবং ৬১ জন অকৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৮৬ জন।
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ
রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা এ প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ফলাফল ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের কারণে রয়েছে আলাদা পরিচিতি। ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজটির ১ হাজার ৬৯৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৯২ জন পাস করেছেন এবং মাত্র একজন অকৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ২১৮ জন। এর মধ্যে ৫৭৪ জন পুরুষ ও ৬৪৪ জন নারী শিক্ষার্থী।
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ
পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ আগে রাইফেলস পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে পরিচিত ছিল। বিজিবি সদস্যদের সন্তানদের জন্য প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে দেশের সব শিক্ষার্থীর জন্য এখানে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। শৃঙ্খলা ও ভালো ফলাফলের জন্য প্রতিষ্ঠানটির সুনাম রয়েছে।
২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজটির ১ হাজার ৭৮০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৭৮ জন পাস করেছেন এবং দুজন অকৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৭৪ জন। বিজ্ঞান বিভাগে ৭৫০ জন, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৭৯ জন এবং মানবিক বিভাগে ৪৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
বিএএফ শাহীন কলেজ ঢাকা
ঢাকা সেনানিবাসের জাহাঙ্গীর গেটে অবস্থিত বিএএফ শাহীন কলেজ বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিমান বাহিনীর সদস্যদের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও এখানে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজটির ২ হাজার ২১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৯৯৫ জন পাস করেছেন এবং ২৬ জন অকৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ২ জন শিক্ষার্থী।
সরকারি বিজ্ঞান কলেজ
রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত সরকারি বিজ্ঞান কলেজ দেশের অন্যতম পরিচিত সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়েছিল ‘ইন্টারমিডিয়েট টেকনিক্যাল কলেজ’ নামে। বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে এখানে মূলত বিজ্ঞান বিভাগে পাঠদান করা হয়।
২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজটির ১ হাজার ৫ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত ছিলেন। এর মধ্যে ৯৯৮ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। পাস করেছেন ৯৮৭ জন এবং ১১ জন অকৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৮৭ জন। জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ৬৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ
পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ আগে বাংলাদেশ রাইফেলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে পরিচিত ছিল। বিজিবি সদস্যদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে সব শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিষ্ঠানটি উন্মুক্ত।২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজটির ১ হাজার ৮২৭ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত ছিলেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৮২৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। পাস করেছেন ১ হাজার ৮০২ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫২৪ জন শিক্ষার্থী।
হলি ক্রস কলেজ
ঢাকার তেজগাঁওয়ে অবস্থিত হলি ক্রস কলেজ দেশের অন্যতম খ্যাতনামা নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। পবিত্র ক্রুশ সংঘের সন্ন্যাসিনীদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ কলেজে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা তিন বিভাগে পাঠদান করা হয়। দীর্ঘদিনের ভালো ফলাফল ও শৃঙ্খলাপূর্ণ শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠানটির আলাদা সুনাম রয়েছে।
২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজটির ১ হাজার ৩০৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৩০৪ জন পাস করেছেন এবং তিনজন অকৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৬০ জন। বিজ্ঞান বিভাগে ৬৩৪ জন, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৭৬ জন এবং মানবিক বিভাগে ১৫০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ দেশের অন্যতম পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষা ও শৃঙ্খলার সমন্বিত পরিবেশের জন্য প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের সুনাম রয়েছে। তৃতীয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা এ কলেজে দুই শিফটে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজটির ১ হাজার ১৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ১ হাজার ১৪ জন পাস করেছেন এবং দুজন অকৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৮০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৫১ জন শিক্ষার্থী।
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ
রাজধানীর কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক এলাকা মতিঝিলে অবস্থিত আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে পরিচিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ভালো ফলাফল এবং বড় পরিসরের শিক্ষা কার্যক্রমের কারণে প্রতিষ্ঠানটির আলাদা পরিচিতি রয়েছে।
২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ১ হাজার ৬০৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৫৭৪ জন পাস করেছেন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৮০ জন। বিজ্ঞান বিভাগে ৯৫৩ জনের মধ্যে ৯৩৩ জন পাস করেছেন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৫৯ জন। মানবিক বিভাগে ২৭৩ জনের মধ্যে ২৬৯ জন পাস করেছেন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৪ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩৭৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৭ জন।
সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ
ঢাকার ডেমরায় অবস্থিত সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ একটি পরিচিত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে পাঠদানের পাশাপাশি ২০১৪ সালে এখানে ইংরেজি মাধ্যম শাখাও চালু করা হয়। মানসম্মত শিক্ষা ও ভালো ফলাফলের কারণে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে পরিচিত।
২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪২৩ জন শিক্ষার্থী। বিভাগভিত্তিক ফলাফল ও অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা আলাদাভাবে প্রকাশিত হয়নি।
শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ
ঢাকা সেনানিবাসের অভ্যন্তরে অবস্থিত শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মেয়েদের জন্য একটি পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশের পাশাপাশি একাডেমিক সাফল্যের জন্য প্রতিষ্ঠানটির সুনাম রয়েছে। ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজটির ১ হাজার ২৮৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ১ হাজার ২৭৯ জন পাস করেছেন এবং সাতজন অকৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৭৭ জন শিক্ষার্থী।
সেইন্ট জোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়
খ্রিষ্টান মিশনারিদের পরিচালিত সেইন্ট জোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ঢাকার অন্যতম পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানটি আগে ‘সেইন্ট জোসেফ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল’ নামে পরিচিত ছিল। পুরান ঢাকার নারিন্দায় প্রথম ক্যাম্পাস স্থাপনের পর ১৯৬৫ সালে এটি আসাদ অ্যাভিনিউয়ে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাঠদান করা হয়।
২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ৭১৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ৭১০ জন পাস করেছেন এবং তিনজন অকৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৩৯ জন। বিজ্ঞান বিভাগে ৪৯৫ জনের সবাই পাস করেছেন এবং ৪৭২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৫০ জনের মধ্যে ১৪৯ জন পাস করেছেন এবং ৩৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। মানবিক বিভাগে ৬৮ জনের মধ্যে ৬৬ জন পাস করেছেন এবং ২৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ
রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ দেশের অন্যতম বড় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বাংলা মাধ্যম ও ইংরেজি ভার্সনে পাঠদানের সুযোগ রয়েছে এখানে। শিক্ষার্থীসংখ্যা ও ধারাবাহিক ভালো ফলাফলের কারণে প্রতিষ্ঠানটি রাজধানীর পরিচিত কলেজগুলোর একটি।
২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বাংলা মাধ্যম ও ইংরেজি ভার্সন মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ৩ হাজার ১০৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। সবাই পাস করেছেন। ফলে পাসের হার শতভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার শিক্ষার্থী। জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ৬৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
ঢাকা কমার্স কলেজ
১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা কমার্স কলেজ রাজধানীর প্রথমদিককার বাণিজ্য বিশেষায়িত কলেজগুলোর একটি। মিরপুরে অবস্থিত এ কলেজে বাংলা ও ইংরেজি উভয় মাধ্যমে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। ব্যবসায় শিক্ষার পাশাপাশি বর্তমানে বিজ্ঞান বিভাগেও পাঠদান করা হয়।
২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ঢাকা কমার্স কলেজে ২ হাজার ৯৩৩ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৯২৫ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। পাস করেছেন ২ হাজার ৮৫৪ জন এবং ৭১ জন অকৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৫৬ জন। বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৭৫ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৮১ জন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ প্রকাশিত কলেজ র্যাংকিং অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে সেরা বেসরকারি কলেজ ঢাকা কমার্স কলেজ। ২০১৮ সালের কলেজ র্যাংকিংয়ের ফল ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশ করেছিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। পরে ২০২৬ সালে ‘বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ র্যাংকিং ২০২৫’ কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও নতুন র্যাংকিংয়ের চূড়ান্ত ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।
লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়া বি-ব্লকে অবস্থিত লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজ একটি পরিচিত সরকারি নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এখানে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পাঠদান করা হয়। পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক, সম্মান ও মাস্টার্স পর্যায়েও শিক্ষা কার্যক্রম রয়েছে। ২০২৪ সালের পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ৬০৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৫৯৫ জন পাস করেন এবং ১৪ জন অকৃতকার্য হন। জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১১৪ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৯৪ জন, মানবিকে ১৪ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ছয়জন জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন।
সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ
ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে অবস্থিত সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্যাথলিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। ১৮৮২ সালে বেলজিয়ামের বেনেডিক্টাইন ধর্মযাজক গ্রেগরি ডি গ্রুট এটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৪৭ সালের পর এখানে বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা শুরু হয়। পরে ২০০৮ সালের দিকে ইংরেজি ভার্সন চালু করা হয় এবং ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে কলেজে উন্নীত করা হয়।
২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩৬৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ৩৬৬ জন পাস করেছেন এবং দুজন অকৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৪৫ জন। বিজ্ঞান বিভাগে ২৬০ জন পাস করেছেন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৪০ জন। মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনজন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে দুজন।
ঢাকা অঞ্চলের সেরা কলেজগুলো হলো ঢাকা কমার্স কলেজ, ঢাকা; তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা; লালমাটিয়া মহিলা কলেজ, ঢাকা; সরকারি সা’দত কলেজ, টাঙ্গাইল; সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, ফরিদপুর; সরকারি তোলারাম কলেজ, নারায়ণগঞ্জ; আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা; হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ, ঢাকা; সিদ্ধেশ্বরী কলেজ, ঢাকা ও সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ, ঢাকা।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ প্রকাশিত র্যাংকিংয়ে জাতীয় পর্যায়ে সেরা সরকারি কলেজ হিসেবে রাজশাহী কলেজের নাম রয়েছে। আর সেরা বেসরকারি কলেজ হিসেবে ঢাকা কমার্স কলেজ নির্বাচিত হয়েছিল। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ কলেজ র্যাংকিং ছিল ২০১৮ সালের।২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ র্যাংকিং-২০১৮ এর ফলাফল ঘোষণা করেছিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সর্বশেষ ২০১৮ সালের কলেজ র্যাংকিং প্রকাশ করেছিল, যার ফলাফল ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এর পরে দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৬ সালের মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ 'বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ র্যাঙ্কিং ২০২৫' কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে, যার তথ্য জমা নেওয়ার শেষ সময় ছিল ১৮ জুন ২০২৬, তবে নতুন র্যাংকিংয়ের চূড়ান্ত ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।
একাদশে ভর্তির ক্ষেত্রে তাই শিক্ষার্থীদের শুধু কলেজের ফলাফল বা জিপিএ-৫-এর সংখ্যা দেখলেই হবে না। নিজের এসএসসি ফল, পছন্দের বিভাগ, কলেজের আসনসংখ্যা, যাতায়াত ব্যবস্থা, শিক্ষার পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনা করে পছন্দক্রম ঠিক করা উচিত।