বিজ্ঞাপন
এক ভিসায় ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার ২২ দেশ ভ্রমণের সুযোগ
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশি ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে যুক্তরাজ্যের (ইউকে) ভিসা এখন আর শুধু ব্রিটেনে প্রবেশের অনুমতিপত্র নয়, বরং বহুদেশ ভ্রমণের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবেও গুরুত্ব পাচ্ছে। বৈধ ও ব্যবহৃত ইউকে ভিসা অথবা যুক্তরাজ্যের আবাসিক অনুমতিপত্র থাকলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের একাধিক দেশে সহজ শর্তে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া যায়। ফলে একটি ভিসা ব্যবহার করেই একাধিক দেশ ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশি পর্যটক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের মধ্যে ইউকে ভিসার প্রতি আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।
ভ্রমণ বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈধ ইউকে ভিসাধারী বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা অন্তত ২২টি দেশে ভিসামুক্ত, অন-অ্যারাইভাল ভিসা কিংবা সহজীকৃত প্রবেশ সুবিধা পেতে পারেন। এতে আলাদা আলাদা ভিসার জন্য আবেদন, অতিরিক্ত ফি এবং দীর্ঘ অপেক্ষার ঝামেলা অনেকাংশে কমে যায়।
বর্তমানে ইউকে ভিসাধারীদের জন্য সুবিধাজনক গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে আলবেনিয়া, সার্বিয়া, মন্টিনিগ্রো, নর্থ মেসিডোনিয়া, জর্জিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরব, মিশর, আজারবাইজান, মেক্সিকো, কোস্টারিকা, পানামা, ডোমিনিকান রিপাবলিক, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, অ্যাঙ্গুইলা, ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ এবং তুর্কস অ্যান্ড কাইকোস দ্বীপপুঞ্জ। এছাড়া যুক্তরাজ্যের অন্তর্ভুক্ত স্কটল্যান্ড, ওয়েলস, উত্তর আয়ারল্যান্ডসহ অন্যান্য অঞ্চলেও একই ভিসায় ভ্রমণ করা যায়।
ভ্রমণসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপের শেনজেনভুক্ত দেশগুলোর ভিসা পাওয়া তুলনামূলক কঠিন হয়ে উঠেছে। অনেক আবেদনকারী স্বল্পমেয়াদি ভিসা পাচ্ছেন, আবার আবেদন প্রক্রিয়াও দীর্ঘ ও জটিল হয়ে পড়েছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনেও কঠোর যাচাই-বাছাই এবং সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ার কারণে অনিশ্চয়তা থাকে।
এমন পরিস্থিতিতে ইউকে ভিসা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। একবার যুক্তরাজ্যের ভিসা পাওয়া গেলে শুধু ব্রিটেন নয়, বরং ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সুপরিকল্পিত ভ্রমণসূচির মাধ্যমে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশকে একই সফরে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব। এতে শুধু সময়ই সাশ্রয় হয় না, সামগ্রিক ভ্রমণ ব্যয়ও কমে আসে। অনেক ভ্রমণকারী এখন ইউকে ভিসাকে ‘মাল্টি-ডেস্টিনেশন ট্রাভেল স্ট্র্যাটেজি’র অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
তবে সব দেশের ক্ষেত্রে একই ধরনের সুবিধা প্রযোজ্য নয়। কোনো দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ থাকলেও অন্য কোনো দেশে অন-অ্যারাইভাল ভিসা বা ইলেকট্রনিক ভিসার প্রয়োজন হতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে ইউকে ভিসা অবশ্যই ব্যবহার করা থাকতে হবে অথবা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বৈধ থাকতে হবে।
ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বিভিন্ন দেশের অভিবাসন ও ভিসা নীতিমালা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস, কনস্যুলেট বা সরকারি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।
এদিকে ইউকে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের আর্থিক সক্ষমতা, আয়ের উৎস, পেশাগত তথ্য, ব্যাংক হিসাবের লেনদেন, ভ্রমণ ইতিহাস এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাযথভাবে প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কোনো ধরনের ভুয়া বা জাল কাগজপত্র ব্যবহার করলে শুধু আবেদন বাতিলই নয়, ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি ভিসা নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বচ্ছ আর্থিক তথ্য, সঠিক নথিপত্র এবং সুস্পষ্ট ভ্রমণ পরিকল্পনা থাকলে ইউকে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। আর একবার সেই ভিসা হাতে এলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের একাধিক দেশ ঘুরে দেখার সুযোগও তৈরি হয়, যা বাংলাদেশি ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে।