Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

আ.লীগ আমলে পাওয়া সোহেল তাজের প্লট বাতিল করছে সরকার

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম

আ.লীগ আমলে পাওয়া সোহেল তাজের প্লট বাতিল করছে সরকার

বিজ্ঞাপন

সরকার থেকে বিশেষ কোটায় প্লট বরাদ্দ পান সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমদ সোহেল তাজ। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বরাদ্দ পাওয়া সেই প্লটটি নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা শুরু করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। প্রচলিত আইন ও বরাদ্দের শর্ত মেনে এই প্লটটি দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তথ্য সংগ্রহ করেছে সংস্থাটি। এতে বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় নানা অসংঙ্গতি উঠে এসেছে। রাজউক কর্মকর্তারা বলছেন, আওয়ামী সরকারের সাংসদ হিসেবে প্লট বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে শুরু দিকেই রয়েছে সোহেল তাজের নাম। তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে এ সংক্রান্ত কমিটি প্রাথমিকভাবে প্লটটি বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে, যা বর্তমানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানা যায়।

রাজউকের নথি পর্যালোচনা করে জানা গেছে, ২০১১ সালে বিশেষ কোটায় রাজউকের উত্তরা (তৃতীয় পর্ব) আবাসিক এলাকায় পাঁচ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ পান সোহেল তাজ। ওই বছরে অনুষ্ঠিত রাজউকের ষষ্ঠ বোর্ড সভায় উত্তরা আবাসিক এলাকার ১৬ নম্বর সেক্টরের ই-ব্লকের ১/এ নম্বর সড়কের ১ নম্বর প্লটটি তার নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়।

নথিতে প্লটটির আইডি নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে ১৬/ই-০১/এ-০০১। বরাদ্দসংক্রান্ত নথিতে সোহেল তাজের জন্মতারিখ ৫ জানুয়ারি ১৯৭০ এবং পিতার নাম হিসেবে তাজউদ্দীন আহমদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজউক কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা টাউন ইমপ্রুভমেন্ট (অ্যালটমেন্ট অব ল্যান্ডস) রুলস, ১৯৬৯-এর ১৩(এ) ধারায় বিশেষ বিবেচনায় প্লট বা ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই ধারার আওতায় প্রধানমন্ত্রী অথবা গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী বিশেষ কোটায় প্লট বা ফ্ল্যাট বরাদ্দ দিতে পারেন। এই প্রক্রিয়ায় সোহেল তাজও একটি প্লট নেন।

বরাদ্দের নথিতে সোহেল তাজের বর্তমান ঠিকানা হিসেবে বাড়ি নম্বর ১৮/এ, রোড নম্বর ৩, পুরাতন ডিওএইচএস, ঢাকা উল্লেখ করা হয়েছে। স্থায়ী ঠিকানা দেওয়া হয়েছে গ্রাম-দরদরিয়া, ডাকঘর-ভুলেশ্বর, উপজেলা-কাপাসিয়া, জেলা-গাজীপুর। রাজউকের সংরক্ষিত কোটায় সংসদ সদস্য ক্যাটাগরিতে গাজীপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সোহেল তাজকে প্লটটি বরাদ্দ দেওয়া হয়।

রাজউকের নথি অনুযায়ী, পাঁচ কাঠার প্লটটি বরাদ্দ পাওয়ার পর সোহেল তাজ রাজউকের কোষাগারে কাঠাপ্রতি মূল্য হিসেবে ৬ লাখ করে মোট ৩০ লাখ টাকা জমা দেন। পরবর্তী সময়ে প্লটটি তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। যার দলিলের নম্বর ৯৩২১ এবং হস্তান্তর তারিখ ৩০ জুলাই ২০১২। তবে প্লটটি বরাদ্দ নেওয়ার পর বেশিদিন নিজের দখলে রাখেননি সোহেল তাজ। ২০১৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর তিনি প্লটটি তাসফিয়া কলিম ও লামিমা কলিম নামে দুই ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন। রাজউক কর্মকর্তারা তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে ধারণা করছেন, ৫ কাঠা প্লটটি কমপক্ষে ৬ থেকে ৭ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, সোহেল তাজের নামে বরাদ্দ দেওয়া প্লটটিতে বর্তমানে কোনো স্থাপনা নেই। আশপাশের বেশ কয়েকটি প্লটে ভবন নির্মাণের কাজ চললেও এটি খালি পড়ে আছে। সেখানে কোনো নামফলকও চোখে পড়েনি।

রাজউক কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা টাউন ইমপ্রুভমেন্ট (অ্যালটমেন্ট অব ল্যান্ডস) রুলস, ১৯৬৯-এর ১৩(এ) ধারায় বিশেষ বিবেচনায় প্লট বা ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই ধারার আওতায় প্রধানমন্ত্রী অথবা গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী বিশেষ কোটায় প্লট বা ফ্ল্যাট বরাদ্দ দিতে পারেন। এই প্রক্রিয়ায় সোহেল তাজও একটি প্লট নেন।

স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সরকারের আমলেই এই ধারায় বিশেষ কোটায় প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এই ধারায় যাদের নামে প্লট বা ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো আইন ও বরাদ্দের শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা বর্তমানে যাচাই করছে রাজউক। এই বিষয়ে গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্লটগুলো বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করে রাজউক এবং প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়।

এই বিষয়ে রাজউকের চেয়ারম্যানের ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটি প্লটগুলোর তালিকা পর্যালোচনা করেছে। এখন সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়। এখানে রাজউকের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার