বিজ্ঞাপন
শিক্ষক বরখাস্ত, তদন্ত ও তালিকা ঘিরে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
বিজ্ঞাপন
সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি, নিয়োগ প্রক্রিয়া যাচাই এবং রাজনৈতিক বিভাজন নিয়ে দেশের কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এর আগে গত এক বছরে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থী নির্যাতন, হামলা এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
শিক্ষক দলাদলি সবচেয়ে প্রকট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে কয়েকজন শিক্ষককে সম্প্রতি সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের আমলের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যালোচনারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর প্রচেষ্টা এবং রাষ্ট্রবিরোধী গোপন কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৮ শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আওয়ামীপন্থি প্রায় ৩০০ শিক্ষকের একটি তালিকা উপাচার্যের কাছে জমা দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)।
দেশের ২২ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতায় যুক্ত থাকার অভিযোগ এনে গত কয়েক দিনে পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো– চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। গতকাল রোববার সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একই অভিযোগে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মনে করেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষক রাজনীতির সমীকরণও দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ– শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চা ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে অবশ্যই আইন ও বিধি অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। তবে তদন্ত ও শাস্তির প্রক্রিয়া যেন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার হাতিয়ার হয়ে না ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন, একাডেমিক স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের নীতি যাতে সমুন্নত থাকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৩০ জুলাইয়ের সিন্ডিকেট সভায় কয়েকজন আওয়ামীপন্থি শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিমকে সাময়িক বরখাস্ত করে। একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক আফরোজা শেলীর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি চার শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
তাদের বিরুদ্ধে ‘অশিক্ষকসুলভ আচরণ’ এবং ‘নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ’-এর অভিযোগ এনেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে অভিযোগের প্রকৃতি, তদন্তের ভিত্তি কিংবা ১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ অনুযায়ী এসব অভিযোগ কীভাবে সাময়িক বরখাস্ত বা চাকরিচ্যুতির পর্যায়ে পড়ে, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিস্তারিত জানায়নি। এ নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থাই নয়; আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াও পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালামকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করা হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের ডিন সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
একই সঙ্গে বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অর্থায়নে পরিচালিত হেকেপ প্রকল্পের আওতায় গবেষণা কার্যক্রম এবং প্রকল্পের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়েছে কিনা, তা তদন্তে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীর নেতৃত্বে আলাদা কমিটি করা হয়েছে।
বিএনপি-জামায়াতপন্থি শিক্ষক সংগঠন সাদা দল গত ২৭ জুলাই আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষক সংগঠন নীল দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। সাদা দলের অভিযোগ, ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় নীল দলের শিক্ষকরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন; ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করেছিলেন এবং দীর্ঘ ১৭ বছর ভিন্নমতের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়নে ভূমিকা রেখেছিলেন।
এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উপাচার্য, দুই উপ-উপাচার্য এবং সাদা দলের আহ্বায়ককে নিয়ে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। এর মাধ্যমে নীল দলের ২৩১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।
সাদা দলের এমন উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে নীল দল। সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যাপক জিনাত হুদার স্বাক্ষরিত প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, নীল দল নিষিদ্ধের দাবি রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপ্রসূত এবং এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সংগঠনটির দাবি, ১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ অনুযায়ী প্রত্যেক শিক্ষক নিজস্ব রাজনৈতিক দর্শন অনুযায়ী সংগঠন করার অধিকার রাখেন। নীল, সাদা ও গোলাপি দলের সহাবস্থান দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য।
নীল দলের অভিযোগ, দুই বছর ধরে মতভিন্নতার কারণে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত, বরখাস্ত এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যা উচ্চশিক্ষার জন্য অশনিসংকেত। তাদের ভাষ্য, আইন, বিধি ও ন্যায়বিচারের বদলে ভয়ভীতি ও মব-সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগপন্থি হিসেবে পরিচিত অন্তত ৬৮ শিক্ষককে পাঠদান থেকে বিরত রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের সময় তারা শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, কেউ কেউ ছাত্রলীগের হামলায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছিলেন।
পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে হামলার অভিযোগে এরই মধ্যে ১২৮ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষক’ ব্যানারে অভিযোগ পাওয়ার পর উপাচার্যের নেতৃত্বে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনে কোনো শিক্ষকের দোষ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো সংগঠন জড়িত থাকলে তাদেরও নিষিদ্ধ করা হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন ঘটনার অভিযোগে গত ১৫ জুন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট ১৩ শিক্ষক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়। অভিযুক্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের সদস্য।
একজন শিক্ষককে বাধ্যতামূলক অবসর, ৯ শিক্ষক ও এক কর্মকর্তার পদাবনতি বা বেতন অবনমন এবং দুই শিক্ষককে সতর্ক করা হয়।
প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে নাম আসায় তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মো. নুরুল আলম, সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মনজুরুল হক ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক রাশেদ আখতারের বিষয়ে আলাদা তিনটি স্ট্রাকচারাল কমিটি গঠন করা হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা এবং রাষ্ট্রবিরোধী গোপন কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে গত বৃহস্পতিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৮ শিক্ষকের বিরুদ্ধে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১৩ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
কমিটিকে শুধু রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ নয়, বিগত সরকারের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন কিংবা আন্দোলনকারীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তদন্ত করতে বলা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
আওয়ামী লীগপন্থি প্রায় ৩০০ শিক্ষকের একটি তালিকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলামের কাছে জমা দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)।
গত ২৮ জুলাই উপাচার্যের কার্যালয়ে রাকসু ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতারা এ তালিকা হস্তান্তর করেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
রাকসুর নেতারা দাবি করেছেন, জুলাই আন্দোলনের সময় তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষক সংগঠন ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’-এর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হুমকি, চাপ প্রয়োগ এবং অপপ্রচারেরও অভিযোগ আনা হয়।
তালিকা জমা দেওয়ার পর রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানবিরোধী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত অনেক শিক্ষক এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। কেউ কেউ সামাজিক মাধ্যমে জুলাই বিপ্লববিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষার্থীরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
কীসের ভিত্তিতে এ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে– এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষকদের বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সম্পৃক্ততা, সামাজিক মাধ্যমে তাদের কর্মকাণ্ড এবং আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মাঠে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে তালিকাটি করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। বিচার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
‘শেখ হাসিনাতেই আস্থা’ শীর্ষক শান্তি মিছিলে অংশ নেওয়া এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গত বছরের ৪ আগস্ট ১৩৩ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৫৭ শিক্ষকের মধ্যে ছয়জনকে বরখাস্ত, ১২ জনকে অপসারণ, আটজনকে পদাবনতি এবং ৩১ জনকে তিরস্কার করা হয়। ২৪ কর্মকর্তার মধ্যে আটজনকে বরখাস্ত, আটজনকে অপসারণ, সাতজনকে তিরস্কার এবং একজনকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। ২১ কর্মচারীর মধ্যে দুজনকে বরখাস্ত এবং তিরস্কার করা হয় ১৯ জনকে। এ ছাড়া ৩১ শিক্ষার্থীর মধ্যে সাতজনকে আজীবন বহিষ্কার এবং ২৪ জনের সনদ বাতিল করা হয়।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. হাসিবুর রশীদ বর্তমানে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে আছেন। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর তিনি গ্রেপ্তার হন। তাঁকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
একই মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডলও দণ্ডিত হন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আন্দোলনকালে নিপীড়নের অভিযোগে এ দুই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে এবং তাদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা স্থগিত করে।
এ ছাড়া সাবেক সরকারের রাজনৈতিক কার্যক্রমে গোপনে যুক্ত থাকার অভিযোগে সাত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আলাদা ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি তদন্ত করছে।