বিজ্ঞাপন
বিটিভির নতুন মহাপরিচালক কাজী জেসিন : এক বর্ণাঢ্য পথচলা
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ টেলিভিশনে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত মহাপরিচালক (ডিজি) কাজী জেসিন বাংলাদেশের গণমাধ্যমে পরিচিত একটি নাম। তিনি বাংলাদেশে প্রথম নারী যিনি রাজনৈতিক টক শো সঞ্চালনা শুরু করেন।
সাংবাদিক হিসেবে দৈনিক পত্রিকা দিয়ে নিয়মিত কাজ শুরু করলেও তিনি টেলিভিশনে রাজনৈতিক টক শো ছাড়াও বৈচিত্র্যময় নতুন ধারার অনুষ্ঠান শুরু করেন। একুশে টিভিতে করা তাঁর অনুসন্ধানী শো ‘এক্সপ্লোসিভ’, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের নিয়ে করা অনুষ্ঠান ‘তিনি’, ও প্রতিদিনের টক শো ‘একুশে সংকেত’ অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। ১/১১ এর কঠিন সময়ে তিনি একুশে সংকেত অনুষ্ঠানে ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে প্রশ্ন করার সাহস দেখান—যার ফলশ্রুতিতে হাসিনা সরকার ১/১১ এর পাতানো নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একুশে টিভির অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়।
পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে তিনি দৈনিক আমার দেশ, এনটিভি, চ্যানেল ওয়ান, এটিএন বাংলা, একুশে টেলিভিশন, বাংলাভিশন এবং যমুনা টেলিভিশন-এ দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া তিনি সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় সংবাদপত্রে নিয়মিত কলাম ও প্রবন্ধ লিখে থাকেন।
রাজনৈতিক টকশোর উপস্থাপক হিসেবে তিনি দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি লাভ করেছেন। যদিও আওয়ামী লীগ আমলে তাঁর দুইটি অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সাংবাদিক পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁর রয়েছে সাহিত্যিক ও কবি পরিচয়।
তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘জোৎস্নামত্ত যাত্রা’ (১৯৯৭), ‘তানানুম তানানুম’ (২০১০) ইত্যাদি। এর পাশাপাশি রাজনীতি ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর লেখা বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
পারিবারিক পরিচয়
কাজী জেসিন গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একটি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তাঁর স্বামীর নাম রায়হান আমিন।
তাঁর প্রয়াত শ্বশুর নুরুল আমিন তালুকদার বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। পরে নেত্রকোণা-৩ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদের ৭ম, ৮ম ও ৯ম অধিবেশনে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৫ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর স্বামী রায়হান আমিন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ক্রীড়াবিষয়ক সহ-সম্পাদক ছিলেন। ২০১৪ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় গুলশান কার্যালয়ের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয় রায়হান আমিনকে।
তাঁর চাচা ড. কাজী এম. বদরুদ্দোজা ছিলেন জাতীয় ইমেরিটাস কৃষিবিজ্ঞানী। আধুনিক কৃষির জনক হিসেবে তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। এদেশে উচ্চফলনশীল বিভিন্ন ফসলের জাত উদ্ভাবন ও উন্নয়নে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। দেশীয় কৃষিতে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান হলো তিনি অহুল পরিচিত ‘কাজী পেয়ারা’-র উদ্ভাবক।
শিক্ষাদীক্ষা
কাজী জেসিন যুক্তরাজ্যের কামব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টেকসই উন্নয়ন ও লিডারশিপ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মর্যাদাপূর্ণ ইন্টারন্যাশনাল ভিজিটর লিডারশিপ প্রোগ্রামে (IVLP) নিউ মিডিয়া টেকনোলজি বিষয়ে ফেলো হিসেবে অংশগ্রহণ করেন এবং কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি বিষয়ে পেশাগত সনদ অর্জন করেন।
কর্ম ও অভিজ্ঞতা
প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে এক পর্যায়ে কাজী জেসিন দেশের বাইরে চলে যেতে বাধ্য হন। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মজীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেন। সেখানে তিনি তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল প্রশাসন এবং প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সফল ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন।
Comcast (NBC Universal)-এর প্রযুক্তি বিভাগে সম্প্রচার ও ওটিটি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার পর ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকায় জেল (Zelle) লেনদেনের জালিয়াতি প্রতিরোধ-সংক্রান্ত এন্টারপ্রাইজ প্রযুক্তি দলে দায়িত্ব পালন করেন। পরে নিউইয়র্ক সিটি সরকারের ডিপার্টমেন্ট অফ পার্কস অ্যান্ড রিক্রিয়েশনে প্রযুক্তি ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত দায়িত্বে থেকে ই-গভর্ন্যান্স, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
নারী নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা
কাজী জেসিন ইউএস ন্যাশনাল প্রেসক্লাব, সাউথ এশিয়ান জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (SAJA), এশিয়ান আমেরিকান জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (AAJA), এবং উইমেন মিডিয়া গ্রুপ, নিউইয়র্ক-এর সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতা ও পেশাগত নেটওয়ার্কের সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন এবং এখনও আছেন।