বিজ্ঞাপন
শেখ হাসিনার শেষ কথা ছিলো-‘আমাকে গুলি করে মেরে ফেলো’
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
বিজ্ঞাপন
গণ-অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত মুহূর্ত ৫ আগস্ট সকালে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন সামরিক কর্মকর্তারা। কিন্তু তিনি চরম ক্ষোভে ফেটে পড়ে বলেছিলেন, ‘তাহলে তোমরা আমাকে গুলি করে মেরে ফেলো, গণভবনে কবর দিয়ে দাও।’ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর এই শ্বাসরুদ্ধকর তথ্য প্রকাশ করেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠনের দিন শুনানিতে উঠে আসে শেখ সরকারের শেষ ২৪ ঘণ্টার অজানা ইতিহাস। গত বছরের ৪ আগস্ট রাতেই গণভবনে রাজনৈতিক শীর্ষ নেতা ও বাহিনীর প্রধানদের মধ্যকার বৈঠকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেনাপ্রধানকে কঠোর হতে চাপ দেওয়া হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শেষ মুহূর্তে বোন শেখ রেহেনা এবং ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শেই দেশত্যাগে রাজি হতে হয় শেখ হাসিনাকে।
২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনে নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস, গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের যে ভিত গড়ে উঠেছিল, তা কোটা সংস্কার থেকে শুরু হওয়া ছাত্র-জনতার অদম্য আন্দোলনের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। ১৪০০ প্রাণ ও ২০ হাজার আহত মানুষের ত্যাগে রচিত হয় ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক '৩৬ জুলাই'। ‘ভয় পেলে শেষ, লড়লে বাংলাদেশ’ কিংবা ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানে মুখরিত জনতার লং মার্চ টু ঢাকা রুখে দেওয়ার মতো শক্তি অবশিষ্ট ছিল না রাষ্ট্রযন্ত্রের।
অবশেষে সামরিক হেলিকপ্টারে চেপে শেখ হাসিনার ভারতে পালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে পতন ঘটে এক দীর্ঘ স্বৈরশাসনের। রাজপথে লাখো মানুষের বিজয়ের উল্লাস প্রমাণ করেছে, কোনো বুলেট বা ট্যাঙ্ক দিয়ে জনগণের চূড়ান্ত আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করা যায় না। ইতিহাস তার নিজস্ব নিয়মে শোষকের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দেয়, আর গণমানুষের লড়াইকে দান করে চিরন্তন বিজয়ের মুকুট।