বিজ্ঞাপন
সংবিধান সংস্কারে সংসদীয় কমিটির প্রথম বৈঠক আজ, আলোচনায় যেসব বিষয়
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৬ এএম
বিজ্ঞাপন
সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নিতে প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসছে এ উদ্দেশ্যে গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটি। মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট)জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ক্যাবিনেট কক্ষে দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠেয় বৈঠকে সংবিধান সংস্কারের প্রাথমিক কর্মপদ্ধতি, সম্ভাব্য রোডম্যাপ এবং বিভিন্ন পক্ষের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, কমিটির সদস্যদের কাছে বৈঠকের নোটিশ ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। বৈঠকে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ, রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত এবং বিভিন্ন মহল থেকে আসা সংশোধনী প্রস্তাব পর্যালোচনা করে পরবর্তী কার্যক্রমের ভিত্তি নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ছাড়া সংবিধানের কোন কোন অনুচ্ছেদে পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে, সে বিষয়ে প্রাথমিক মতবিনিময় হবে। ভবিষ্যতে বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ, জনপরামর্শের সুযোগ সৃষ্টি এবং কমিটির কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ।
গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সংবিধান সংস্কারের দাবি নতুন মাত্রা পেয়েছে। নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ—এসব বিষয় এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশেষ কমিটির অন্যতম বড় দায়িত্ব হবে এসব ইস্যুতে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরির চেষ্টা করা। তবে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব ছাড়া সেই প্রক্রিয়া কতটা অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হওয়ার দুই দিন আগে, ১৩ জুলাই ১৭ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। বিরোধী দলের পাঁচ সদস্যের নাম না পাওয়ায় আপাতত ১২ সদস্য নিয়ে কার্যক্রম শুরু করছে কমিটি। সরকারি দলের পাশাপাশি কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি থাকলেও বিরোধী জোটের জন্য নির্ধারিত আসনগুলো এখনো খালি রয়েছে।
কমিটি গঠনের সময় বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। পরে সংসদে জানানো হয়, বিরোধী দল চাইলে যেকোনো সময় কমিটিতে যোগ দিতে পারবে। সংসদ সূত্রের দাবি, কমিটিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে বিরোধী পক্ষের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধানে এ পর্যন্ত ১৭ বার সংশোধনী আনা হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নটি নতুন করে সামনে আসে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংবিধান, বিচার বিভাগ, নির্বাচনব্যবস্থা, পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন, জনপ্রশাসনসহ ১১টি খাতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসব কমিশনের সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর 'জুলাই জাতীয় সনদ' গৃহীত হয়।
পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন 'জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ' জারি করেন। ওই আদেশের ভিত্তিতে গণভোট অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয় এবং সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেওয়ার বিধান রাখা হয়।
তবে এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিভাজনও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের ৭৭ জন সদস্য উভয় শপথ নিলেও সরকারি দল বিএনপি জোটের সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। ফলে সংবিধান সংস্কারের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলেও রাজনৈতিক ঐকমত্যের প্রশ্নটি এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে।