বিজ্ঞাপন
ঢাবিতে ২৩১ জনের তালিকা নিয়ে শিক্ষক নেটওয়ার্কের উদ্বেগ
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৫ পিএম
বিজ্ঞাপন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) চলমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, ২৩১ জন শিক্ষকের তালিকা প্রণয়ন এবং তদন্ত কমিটির কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সেগুলো পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।
রোববার (২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থানের নামে ২৩১ জন শিক্ষকের তালিকা তৈরি করে প্রশাসনের কাছে শাস্তির দাবি জানানো এবং অভিযোগ প্রমাণের আগেই কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩ সালের আদেশ, একাডেমিক স্বাধীনতা ও স্বাভাবিক বিচারপ্রক্রিয়ার পরিপন্থী।
শিক্ষক নেটওয়ার্কের দাবি, যারা অতীতে শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতা, নিপীড়ন বা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিরোধিতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তবে সেই প্রক্রিয়া অবশ্যই আইন, প্রমাণ এবং প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে পরিচালিত হতে হবে; রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা মতাদর্শগত শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কেবল রাজনৈতিক মত, পরিচয় বা সমর্থনের ভিত্তিতে কোনো শিক্ষককে শাস্তি দেওয়া কিংবা চাকরিচ্যুত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক প্রশাসনের প্রতি পাঁচ দফা আহ্বান জানিয়ে বলেছে, যেকোনো ব্যবস্থা নেওয়ার আগে লিখিত অভিযোগ নিশ্চিত করা, নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা, অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া, ১৯৭৩ সালের আদেশ অনুযায়ী শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নেওয়া সব শাস্তিমূলক পদক্ষেপ প্রত্যাহার করতে হবে।
সংগঠনটির মতে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিহিংসার জায়গা নয়; এটি মুক্ত জ্ঞানচর্চা, একাডেমিক স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের প্রতিষ্ঠান। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সব সিদ্ধান্ত আইন, প্রমাণ ও নিরপেক্ষ তদন্তের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, এর আগে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত শিক্ষক সংগঠন নীল দলও তাদের এক বিবৃতিতে নীল দল নিষিদ্ধের দাবি, তদন্ত কমিটি গঠন এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপ্রসূত আখ্যা দিয়ে সেগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের সর্বশেষ বিবৃতিতেও একই ধরনের যুক্তি ও দাবি উঠে এসেছে।