বিজ্ঞাপন
প্রবাসীদের পাসপোর্ট নবায়ন নিয়ে জরুরি নির্দেশনা
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
বিজ্ঞাপন
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের পাসপোর্টসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। নতুন পাসপোর্ট ইস্যু ও নবায়নের জন্য জমা পড়ে থাকা সব আবেদন আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২ আগস্ট) বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রবাসীদের পাসপোর্ট আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব, আইন সচিব এবং পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ মোট ১৪ জনকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ২১ দিনের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশন ও দূতাবাসে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠাতে হবে, যাতে প্রবাসীদের জমা দেওয়া নতুন পাসপোর্ট ও নবায়নের আবেদন দ্রুত পাসপোর্ট অধিদপ্তরে পৌঁছায়। এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপের অগ্রগতি ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে জানাতে হবে।
বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট আবেদন দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তি না হওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে ভিত্তি করে জনস্বার্থে রিট আবেদন করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। সংগঠনটির পক্ষে রিট করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সারোয়ার আহাদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট রিপন বাড়ৈ এবং অ্যাডভোকেট মাহবুবুল ইসলাম।
রিট আবেদনে বলা হয়, নতুন ই-পাসপোর্ট ইস্যু ও নবায়নে অস্বাভাবিক বিলম্ব সংবিধানে নিশ্চিত করা আইনের আশ্রয় লাভ, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারের পরিপন্থি। পাশাপাশি সরকারি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাও এতে ব্যাহত হচ্ছে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক প্রবাসী ভিসা নবায়ন করতে পারছেন না। ফলে তারা কর্মরত দেশে বৈধ অবস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন। অনেকের চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়ছে, কেউ কেউ আইনি জটিলতারও সম্মুখীন হচ্ছেন।
রিটকারীদের ভাষ্য, পাসপোর্ট অধিদপ্তরে আবেদন নিষ্পত্তি ও মুদ্রণ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে শুধু প্রবাসীদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, এর নেতিবাচক প্রভাব দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
শুনানি শেষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ পাসপোর্টসংক্রান্ত জটিলতার কারণে অনেকেই কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন। আদালতের এই নির্দেশ বাস্তবায়ন হলে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।