Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

বাদের তালিকায় তিন পূর্ণ মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম

বাদের তালিকায় তিন পূর্ণ মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী

বিজ্ঞাপন

একশ আশি দিন। মানে পুরো ছয় মাস। দেশের সচেতন লোকেরা এই একশ আশিকেই বেঞ্চমার্ক বলে ধরে নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার মন্ত্রিসভা গড়েন ফেব্রুয়ারি মাসের ১৭ তারিখ। সেদিন থেকে ছয়টি মাসকে সচেতন নাগরিকেরা সরকারের জন্য ‘অ্যাসিড টেস্ট’-এর সময় হিসেবে মঞ্জুর করেছেন। তারা ধরে নিয়েছেন মন্ত্রিসভাসহ সরকারের জন্য যে টিম তারেক রহমান গড়েছেন, সেই টিমের সদস্যদের পারফরম্যান্স প্রধানমন্ত্রী নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ ও পরখ করবেন এবং তার ভিত্তিতেই রদবদল ও নতুন করে বিন্যস্ত করবেন।

এর মধ্যে পেরিয়ে গেছে একশ পঁয়ষট্টি দিন। হাতে আছে মাত্র ১৫ দিন। এখন অনেকেই ভাবছেন রদবদলের সময় এসে গেছে। পরিবর্তন নজদিক বা সন্নিকটে। আস্থা রাখা যায়Ñ এমন সূত্রগুলো বলছে, এই জনভাবনা প্রধানমন্ত্রীর ভেতরেও সংক্রমিত হয়েছে এবং তিনি দ্রুতই তার টিম নতুন করে সাজাবেন। 

রাজনৈতিক ও দল পরিচালনার ক্ষেত্রে তারেক রহমানের অভিজ্ঞতার দৈর্ঘ্য যথেষ্ট হলেও সরকার পরিচালনার দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করেছেন প্রথমবারের মতো। জাতীয় সংসদে প্রথমবারের মতো সদস্য নির্বাচিত হয়েই তাকে নিতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার। এর আগে তাকে বিলেতে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়েছে। এ সময়ে দেশের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল খানিকটা পরোক্ষ। এসব কারণে প্রায় দুই দশক বাদে নির্বাচিত হয়ে দলীয় সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সঠিক লোক বাছাই ছিল তারেক রহমানের জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। নিজের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা এবং ঘনিষ্ঠদের দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করে তাকে টিম গড়তে হয়েছে। এক্ষেত্রে কতটা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছেন তারেক রহমান, তা সহকর্মীদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে যাচাই করে নেওয়ারই পক্ষপাতী। ছ’মাসের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে তিনি এখন তার ক্যাবিনেট ঝাড়বাছ করতে যাচ্ছেনÑ এটা এখন প্রায় নিশ্চিত।

ওয়াকেবহাল মহল জানাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তার অফিস, ব্যক্তিগত স্টাফ ও ব্যুরোক্রেসির আগে মন্ত্রিসভায় হাত দিচ্ছেন সবার আগে। মন্ত্রিসভার সাজানো ছক থেকে তিনি কাকে কাকে তুলে ফেলবেন, সে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন অচিরেই। ইতোমধ্যে তিনি পারফরম্যান্স-ভিত্তিক তালিকা তৈরি করেছেন। আরও তথ্য হালনাগাদ করে তিনি এ তালিকা চূড়ান্ত করবেন। অযোগ্যতা, ব্যর্থতা, নিষ্ক্রিয়তা এবং দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ ওঠা ক্যাবিনেট সদস্যদের বাদ দেওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সূত্রমতে, ইতোমধ্যে বাদের তালিকায় অন্তত তিনজন পূর্ণ মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রীর নাম চূড়ান্ত হয়েছে। শেষ অব্দি এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আন্দোলনের সাথিদেরসহ, বিএনপির নিবেদিত কিছু নেতাকে মূল্যায়নের বিবেচনায় সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর মতো পদে অন্তত সাতজন মুখ অন্তর্ভুক্ত হবেন এই রদবদলে। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, বাদ পড়াদের সংখ্যা বেশি হলে সরকারের সুনামহানি ও নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ সৃষ্টির বিষয়টি তারেক রহমানের বিবেচনায় রয়েছে। তাই অল্প অভিযোগে অভিযুক্তদের এখনই বাদ না দিয়ে তাদেরকে সতর্ক করে সুযোগ দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, মুষ্টিমেয় কয়েকজনকে বাদ দিলেই অন্যরা এটাকে সতর্কসংকেত হিসেবে নিয়ে হুঁশিয়ার হয়ে যাবেন।

এদিকে রাষ্ট্রপতির শূন্যপদে বিএনপির প্রার্থী বাছাই আজ শনিবার জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় হবার সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্রমতে, দলের ভেতর থেকে রাষ্ট্রপতি করার বিবেচনায় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এগিয়ে আছেন। দলের বাইরে থেকে রাষ্ট্রপতি করার প্রস্তাবও তারেক রহমানের ভাবনায় রয়েছে। এছাড়া সংসদ উপনেতা নির্বাচনের ব্যাপারেও এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার