বিজ্ঞাপন
কোন পে স্কেলে কত শতাংশ বেতন বেড়েছিল, এবার কত বাড়বে?
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ পিএম
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের নবম পে স্কেল (বেতন কাঠামো) চলছে নানা আলোচনা। সরকারি চাকরিজীবীদের কোন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন কত শতাংশ বাড়বে, দেশজুড়ে এ নিয়েও রয়েছে নানাজনের কৌতূহল।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে এখন পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য মোট আটবার পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে। সর্বশেষ পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে।
এরপর থেকে প্রতি বছর পাঁচ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট হলেও, নতুন করে আর আনুষ্ঠানিক বেতন কাঠামোর ঘোষণা দেয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত বেতন বাড়লেও মূলত মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বেতন বৈষম্য দূর করার জন্য নতুন পে স্কেল ঘোষনার প্রয়োজন হয়।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম জাতীয় পে কমিশন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল, সেখানে ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
এতে, বর্তমানের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রস্তাব করা হয় এক লাখ ৬০ হাজার টাকা।
বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পে স্কেল বিষয়ে পৃথক একটি কমিটি গঠন করে বিষয়টি আবারও পর্যালোচনা শুরু করে। পে কমিশন প্রতিবেদন দেওয়ার পর থেকেই বেতন বৃদ্ধির শতাংশের হিসাব নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। অতীতে যেসব পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল, তাতে কী পরিমাণ বেতন বৃদ্ধি হয়েছিল, সেই আলোচনাও রয়েছে।
নবম জাতীয় পে স্কেলের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে।
কোন পে স্কেলে কত শতাংশ বেতন বেড়েছিল
স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ১৯৭৩ সালে। সে সময় পাকিস্তান আমলের পে স্কেল ভেঙে একটি নতুন বেতন কাঠামোর প্রবর্তন করেছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।
দশটি গ্রেড রেখে ঘোষণা করা ওই পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ছিল দুই হাজার টাকা। যদিও এই বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
১৯৭৭ সালে দ্বিতীয় পে স্কেল ঘোষণা করা হয়। যেখানে সরকারি চাকরজীবীদের ১০টি গ্রেডের পরিবর্তে ২১টি গ্রেড বা ধাপ করা হয়।
দ্বিতীয় পে স্কেলে সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন ধরা হয়েছিল ২২৫ টাকা। আর সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা। অর্থাৎ সর্বনিম্ন গ্রেডে ৭৩ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে বেতন বৃদ্ধি পেয়েছিল পঞ্চাশ শতাংশ।
এরপর ১৯৮৫ সালে তৃতীয় পে স্কেল ঘোষণা করা হয়। যেখানে একশ শতাংশের বেশি বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছিল। ওই পে স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন, ১২২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে পাঁচশ টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে শতভাগ বাড়িয়ে ছয় হাজার টাকার নির্ধারণ করা হয়।
১৯৯১ সালে ঘোষিত চতুর্থ পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন নয়শ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আগের পে স্কেলের তুলনায় যা ৮০ শতাংশ বেশি। আর সর্বোচ্চ মূল বেতন প্রায় ৬৭ শতাংশ বাড়িয়ে দশ হাজার টাকা করা হয়।
পঞ্চম পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। ওই পে স্কেলে সর্বোচ্চ বেতন ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন মূল বেতন প্রায় ৬৭ শতাংশ বাড়িয়ে এক হাজার পাঁচশ টাকা করা হয়।
২০০৫ সালে ঘোষিত ষষ্ঠ পে স্কেলে সর্বোচ্চ ২৩ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন মূল বেতন দুই হাজার ৪০০ টাকা করা হয়। এসময় সর্বোচ্চ বেতনভুক্তদের ৫৩ শতাংশ এবং সর্বনিম্নদের ৬০ শতাংশ বেতন বেড়েছিল।
২০০৯ সালে ঘোষণা করা হয় সপ্তম পে স্কেল। যেখানে সর্বনিম্ন গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন বাড়িয়ে করা হয় চার হাজার ১০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।
দেশের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সবশেষ বেতন কাঠামো অর্থাৎ অষ্টম পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। যেখানে সর্বনিম্ন মূল বেতন ১০১ শতাংশ বেড়ে আট হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৯৫ শতাংশ বেড়ে ৭৮ হাজার টাকা করা হয়েছিল।
নবম পে স্কেল ঘোষণার কাজ কতদূর?
২০২৫ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির একটি প্রতিবেদন জমা দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গঠিত নবম জাতীয় পে কমিশন। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে বেতন কাঠামোর সুপারিশ প্রণয়নে গত ২১শে এপ্রিল একটি কমিটি গঠন করা হয়। যে কমিটির সুপারিশ অনুযায়ীই বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর করবে সরকার।
সংসদের বাজেট অধিবেশনে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর বিষয়ে বক্তব্য দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এরপর থেকে বেতন বৃদ্ধি নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ দেখা গেলেও নবম পে স্কেলের চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।
বুধবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
নবম পে স্কেলের গেজেট প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের নতুন ঋণ পাওয়া নিয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের ঋণের সঙ্গে নতুন বেতনকাঠামোর কোনো সম্পর্ক নেই। বেতনকাঠামো হবে এবং প্রজ্ঞাপন জারি করতেও বেশি সময় লাগবে না।
সূত্র বিবিসি বাংলা