বিজ্ঞাপন
বদলে গেল বিউটিরানীর ভিডিও বিতর্ক, তদন্ত থেকে সরে এলো শিক্ষা বিভাগ
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৩ এএম
বিজ্ঞাপন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গানের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তীব্র সমালোচনা, সাইবার বুলিং ও প্রশাসনিক তদন্তের মুখে পড়েছিলেন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল।
গত ২৩ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিউটি রানী পালের একটি গানের ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক কটূক্তি, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং সাইবার বুলিং। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে মোবাইল ফোনও বন্ধ করে দেন তিনি।
বিউটি রানী পাল অভিযোগ করেন, 'ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন' নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে আসিফ ইকবাল হিরণ নামে এক প্রবাসী তরুণ নেতিবাচক ক্যাপশন দিয়ে তার ভিডিওটি ভাইরাল করেন। তার অভিযোগ, এর মাধ্যমে তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে এবং সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে হয়েছে।
আত্মপক্ষ সমর্থন করে বিউটি রানী পাল বলেন, তিনি রিল তৈরি করতে জানতেন না। স্কুল ছুটির পর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হাঁটার সময় এক সহকর্মী ভিডিওটি ধারণ করেন।
তিনি বলেন, আমরা মুখে বলব কারিকুলাম উন্নত, আর আমাদের মন-মানসিকতা থাকবে সংকীর্ণ, তাহলে দেশ ও জাতিকে কীভাবে এগিয়ে নেব? আমাদের মন-মানসিকতা ডিজিটাল ও আধুনিক হতে হবে। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন প্রয়োজন।
এদিকে রোববার সিলেট সফরে এসে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ভিডিওটি তিনি দেখেননি। তবে যাদের কাছ থেকে শুনেছেন, তারা জানিয়েছেন সেখানে কোনো অশ্লীলতা নেই।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যদি সত্যিই কোনো অশ্লীলতা না থাকে, তাহলে শুধু গান গাওয়াকে আমি অন্যায় মনে করি না। ভিডিও না দেখে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট মন্তব্য করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
অন্যদিকে সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাখাওয়াত এরশেদ বলেন, ভাইরাল ভিডিওর ঘটনায় শিক্ষিকা বিউটি রানী পালের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তুতি ছিল। তবে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সেই উদ্যোগ থেকে সরে আসা হয়েছে।