Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

এসএসসির ফল প্রকাশে বিলম্ব : জানা গেল যেসব কারণের কথা

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১:৫১ পিএম

এসএসসির ফল প্রকাশে বিলম্ব : জানা গেল যেসব কারণের কথা

বিজ্ঞাপন

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় গত ২০ মে। নিয়মানুযায়ী, পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা। সে হিসাবে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এবার ফল প্রকাশ করতে পারেনি শিক্ষা বোর্ড। অবশেষে ঘোষণা আসলো আগামী ১০ আগস্ট ঘোষণা করা হবে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল। 

এতে একদিকে ফল পেতে সাড়ে ১৮ লাখ পরীক্ষার্থীর অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। এদিকে ফলাফল প্রকাশে কেন দেরি হচ্ছে তা নিয়ে নানা গুঞ্জন ডালপালা মেলছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ফল বিপর্যয় ঘটেছে— এমন দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণেই ফল প্রকাশে দেরি হচ্ছে বলেও গুঞ্জন উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী ৯ আগস্ট এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হচ্ছে। এজন্য ১০ আগস্টকে এসএসসির ফলাফল দেয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একটি অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, এবারের প্রথম পর্যায়ে প্রস্তুতকৃত ফলাফলে কারিগরি, সিলেট ও চট্টগ্রাম বোর্ডের ফলাফল খুবই খারাপ হয়েছে। সে জন্য এ ৩টি বোর্ডের ফলাফল রি-চেক করা হয়েছে। তবে বোর্ডের দায়িত্বশীল কেউই এ দাবির সাথে একমত নয়। তারা বলেন এটি প্রকৃতপক্ষে একটি গুজব। 

ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে দেরি হওয়ার জন্য যে কারণগুলো উল্লেখযোগ্য ছিল তার মধ্যে অন্যতম ছিল শিক্ষা প্রশাসনে অতি মাত্রায় বদলি। প্রায় প্রতিটি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, সচিব, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গত চার মাসে বদলি অথবা নতুন পদায়ণ হয়েছে। ফলে অনেকেই এ কাজটি ঠিকঠাক মত করতে পারেননি। এই জন্যই ফলাফল প্রকাশে দেরি হচ্ছে। 

এদিকে নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশ করতে না পারাকে ২০ বছর পর ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের ব্যর্থতা হিসেবেও দেখছেন অনেকে। শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফল প্রকাশে এমন বিলম্বের কারণে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এমনকি ফল প্রকাশের পরও তা নিয়ে তাদের মধ্যে বিশ্বাসহীনতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্বঘোষিত ২০ জুলাই ফল প্রকাশ না করার পর থেকেই পরীক্ষার্থী-অভিভাবকদের মনে নানান প্রশ্ন দেখা দেয়। সন্দেহ-সংশয় দানা বাঁধতে শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে ছড়ানো হয় যে, এবার এসএসসির ফল খুব খারাপ হয়েছে, সেজন্য প্রকাশ করতে সময় নিচ্ছে বোর্ড। কোথাও কোথাও লেখা হয়, পাসের হার বাড়াতে সময় নিচ্ছে শিক্ষা বোর্ড।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বলেন, খাতা মূল্যায়ন শেষ। নম্বর সফটওয়্যারেও দেওয়ার কাজও শেষ। তাহলে ফল প্রকাশে দেরি কেন হচ্ছে, সেটা তো বড় প্রশ্ন। নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে।

কারণ কী এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন রকম কারণ থাকতে পারে। যে ফল এসেছে, সেটা হয়তো মন্ত্রণালয় বা সরকারের পছন্দ নয়। হয়তো এটা খুব খারাপ বা খুব ভালো মনে করছেন তারা। যে কোনোটাই হতে পারে। আমি তো সেটা বলতে পারবো না।’

বোর্ডের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘স্যারদের কাছে শুনেছি, পাস-ফেল নিয়ে কিছু ঝামেলা আছে। কীভাবে ছাড়লে (প্রকাশ করলে) এটা সঠিক বা বস্তুনিষ্ঠ হবে, তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে। ওপর থেকে অনুমতি না দিলে তো বোর্ড রেজাল্ট ছাড়তে পারে না। যে রেজাল্ট তাতে হয়তো শিক্ষামন্ত্রী বা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এর বেশি তো বলা যাবে না।’

গত ২১ এপ্রিল এ বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। এতে অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদরাসা বোর্ডে দাখিলে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার এসএসসিতে বহিষ্কার ছিল খুবই কম।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার