Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

হেপাটাইটিস সি আক্রান্তে শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম

হেপাটাইটিস সি আক্রান্তে শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

বিজ্ঞাপন

বিশ্বজুড়ে হেপাটাইটিস সি আক্রান্ত মানুষের সংখ্যায় শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এতথ্য জানিয়েছে। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়াতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে তারা।

২৮ জুলাই বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবসের ঠিক আগে আগে এ তথ্য প্রকাশ করে ডব্লিউএইচও সতর্ক করেছে, সময়মতো রোগ নির্ণয় ও সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা এখনও লাখ লাখ মানুষকে জরুরি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করছে।

দীর্ঘস্থায়ী ভাইরাল হেপাটাইটিস বিশ্বের অন্যতম প্রধান সংক্রামক রোগ হিসেবে প্রাণহানি ঘটাচ্ছে। এর সংক্রমণে হওয়া লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সারের কারণে প্রতিবছর অন্তত ১৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।

বিশ্বব্যাপী ভাইরাল হেপাটাইটিসজনিত মৃত্যুর প্রায় ৯৫ শতাংশের জন্য দায়ী হেপাটাইটিস বি ও সি। প্রতিদিন বিশ্বে এ দুই ধরনের হেপাটাইটিসে প্রায় ৬ হাজার নতুন সংক্রমণ এবং ৩ হাজার ৫০০ জনের মৃত্যু হচ্ছে।

ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ভাইরাল হেপাটাইটিসে আক্রান্ত। ২০২৪ সালে এ অঞ্চলে হেপাটাইটিস বি ও সিতে প্রায় ২ লাখ ৬৬ হাজার নতুন সংক্রমণ এবং প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

বাংলাদেশে সাধারণ জনগণের মধ্যে সক্রিয়  সংক্রমণের হার আনুমানিক শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। তবে ঝুঁকিপূর্ণ, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই রোগের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এসব জনগোষ্ঠীর মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীরাও রয়েছে।

ডব্লিউএইচও আরও জানিয়েছে, হেপাটাইটিস বি–এর ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের রোগের বোঝা অনেক বেশি। ২০২৪ সালে বিশ্বে হেপাটাইটিস বি–জনিত মোট মৃত্যুর ৬৯ শতাংশ যে ১০টি দেশে হয়েছে, বাংলাদেশ তাদের অন্যতম।

সংস্থাটি বলেছে, হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে কার্যকর টিকা এবং হেপাটাইটিস বি নিয়ন্ত্রণ ও হেপাটাইটিস সি সম্পূর্ণ নিরাময়ের কার্যকর চিকিৎসা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে এখনও বড় প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে।

বাংলাদেশে ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি আহমেদ জামশীদ মোহাম্মদ বলেন, ‘হেপাটাইটিস প্রতিরোধযোগ্য, চিকিৎসাযোগ্য এবং হেপাটাইটিস সি–এর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। কিন্তু এখনো অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, কারণ তাদের রোগ অনেক দেরিতে শনাক্ত হচ্ছে অথবা সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন না।’

ডব্লিউএইচও জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে হেপাটাইটিস নির্মূল করতে বাংলাদেশ দৃঢ় অঙ্গীকার দেখিয়েছে। এ লক্ষ্যে ২০২০–২০৩০ জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, হেপাটাইটিস বি–এর জন্মের পরপরই টিকা দেওয়ার কর্মসূচি জোরদার, পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ এবং প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণে কাজ করছে সরকার।

এক্ষেত্রে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে ডব্লিউএইচও। তবে সংস্থাটি বলছে, জনসচেতনতার অভাব, দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়া, সাশ্রয়ী মূল্যের পরীক্ষা ও চিকিৎসার সীমিত সুযোগ, সামাজিক কলঙ্ক ও বৈষম্য এবং সব এলাকায় সমানভাবে সেবা না পৌঁছানো—এসব কারণে বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সেবাপ্রাপ্তির সুযোগ এখনো সীমিত।

ডব্লিউএইচও চারটি অগ্রাধিকারভিত্তিক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে। এর মধ্যে রয়েছে—হেপাটাইটিস বি–এর টিকাদান কর্মসূচি, বিশেষ করে জন্মের পরপর টিকা নিশ্চিত করা, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন ও ইনজেকশন ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর জনসচেতনতামূলক প্রচারের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ জোরদার করা।

সংস্থাটি আরও সুপারিশ করেছে, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা, রক্তসেবা এবং এইচআইভি ও যক্ষ্মা কর্মসূচির সঙ্গে হেপাটাইটিস–সংক্রান্ত সেবা একীভূত করে পরীক্ষা ও চিকিৎসার পরিধি বাড়াতে হবে।

তাদের মতে, এ ধরনের সমন্বিত ব্যবস্থা দ্রুত রোগ শনাক্তে সহায়তা করবে এবং বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য পরীক্ষা, চিকিৎসা ও পরিচর্যার সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে।

ডব্লিউএইচও আরও বলেছে, বিশেষায়িত হাসপাতালের বাইরে সহজীকৃত হেপাটাইটিস সি চিকিৎসা চালু করতে হবে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে রোগ নির্ণয় ও ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

এ ছাড়া নিয়মিতভাবে হেপাটাইটিস পরীক্ষা, নিশ্চিত সংক্রমণ, চিকিৎসার ফলাফল, লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের তথ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে নজরদারি ও তথ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপরও জোর দিয়েছে ডব্লিউএইচও।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার