বিজ্ঞাপন
রাজধানীতে বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়ার তথ্য সংগ্রহ করছে ডিএমপি
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০২:০৯ এএম
বিজ্ঞাপন
রাজধানীতে বসবাসকারী বাড়িওয়ালা, ভাড়াটিয়া ও মেসে থাকা ব্যক্তিদের তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে সংরক্ষণের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশের দাবি, এই উদ্যোগ নাগরিকদের পরিচয় যাচাই সহজ করার পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধ ও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সহায়তা করছে।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, ‘সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (সিআইএমএস) নামে এই ডিজিটাল কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয় ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর রমনা থানায়। পরের বছর এটি রাজধানীর সব থানায় চালু করা হয়। পরে ২০১৯ সালে নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে চালু হয় সিআইএমএস মোবাইল অ্যাপ।
বর্তমানে এই ডাটাবেজে প্রায় ৩৬ লাখ ৭৩ হাজার পরিবারের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। সংরক্ষিত রয়েছে ৫০ লাখের বেশি নাগরিকের তথ্য। ডিএমপির মতে, রাজধানীতে বসবাসকারী যত বেশি মানুষ এই ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত হবেন, ততই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তথ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে।
পুলিশ বলছে, সিআইএমএসে থাকা তথ্য বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে সহায়তা করে। কোনো অপরাধের তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিকে শনাক্ত করা, সন্দেহভাজনের পরিচয় যাচাই কিংবা জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ—এসব ক্ষেত্রেও এই ডাটাবেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নিবন্ধনের জন্য রাজধানীর প্রতিটি থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে নির্ধারিত ফরম পাওয়া যায়। ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে হয়। ডিএমপি নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছে, জমা দেওয়ার আগে ফরমের একটি অনুলিপি নিজের কাছে সংরক্ষণ রাখতে। বাসা পরিবর্তন করলে নতুন ঠিকানার আওতাধীন থানায় আবারও নিবন্ধন করতে হবে।
ডিএমপি জানায়, প্রতিটি থানার অধীনে একাধিক বিট রয়েছে এবং প্রতিটি বিটের জন্য একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজ করেন। প্রয়োজনে এলাকার বাসিন্দারা সরাসরি ওই বিট অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনগত বা নিরাপত্তাসংক্রান্ত সহায়তা নিতে পারেন।
পুলিশের মতে, সিআইএমএসে নিবন্ধনের ফলে বাড়িওয়ালারা সহজেই ভাড়াটিয়ার পরিচয় যাচাই করতে পারেন। এতে অপরাধী বা প্রতারকদের পরিচয় গোপন করে বাসা ভাড়া নেওয়ার সুযোগ কমে আসে। একই সঙ্গে ভাড়াটিয়ারাও প্রয়োজনে দ্রুত পুলিশি সহায়তা, পরিচয় নিশ্চিতকরণ এবং বিট পুলিশের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুবিধা পান।
ডিএমপি আরও জানায়, নিবন্ধিত তথ্য অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিচয় যাচাই, পলাতক আসামিকে শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নিতে এই তথ্যভান্ডার ব্যবহৃত হচ্ছে। এর পাশাপাশি জনগণ ও পুলিশের মধ্যে যোগাযোগ ও আস্থা বাড়াতেও এই উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
রাজধানীকে আরও নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর নগর হিসেবে গড়ে তুলতে বাড়িওয়ালা, ভাড়াটিয়া এবং মেসে বসবাসকারী সবাইকে সিআইএমএসে নিবন্ধন করার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।