Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

শেখ মুজিব থেকে সাহাবুদ্দিন: রাষ্ট্রপতিদের বিদায়ের নানা কাহিনি

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:২১ পিএম

শেখ মুজিব থেকে সাহাবুদ্দিন: রাষ্ট্রপতিদের বিদায়ের নানা কাহিনি

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১৬ জন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করলেও পূর্ণাঙ্গ মেয়াদ শেষে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে পেরেছেন মাত্র চারজন। স্বেচ্ছায় বা চাপের মুখে বাধ্য হয়ে মেয়াদ শেষের আগেই পদত্যাগ করেছেন ১০ জন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা অবস্থায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন দুইজন এবং স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে একজনের। এর মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান এক ব্যক্তি, যিনি একবার পদত্যাগ করেছেন এবং পরবর্তী সময়ে আবার দায়িত্ব নেওয়ার পর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।

সবশেষ শুক্রবার দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেন। তবে গত কয়েকদিন ধরেই তার পদত্যাগের কথা শোনা যাচ্ছিল।

এর আগে যারা দেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের মধ্যে দুই বার করে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান এবং আবদুল হামিদ। এ ছাড়াও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সাহাবুদ্দিন আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার। পদে থাকা অবস্থায় হত্যার শিকার হয়েছেন শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমান এবং স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন জিল্লুর রহমান।

তবে মেয়াদ পূর্ণ করেছেন আবদুর রহমান বিশ্বাস, সাহাবুদ্দিন আহমদ, ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ও আবদুল হামিদ।

বিভিন্ন কারণে পদত্যাগ করেছেন বা পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন ১০ জন রাষ্ট্রপতি। তারা হলেন শেখ মুজিবুর রহমান, আবু সাঈদ চৌধুরী, মোহাম্মদ মোহাম্মদউল্লাহ, খন্দকার মোশতাক আহমদ, আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, আবদুস সাত্তার, আ ফ ম আহসানউদ্দিন চৌধুরী, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও মো. সাহাবুদ্দিন।

বাংলাদেশে এখন কেমন ‘রাষ্ট্রপতি পদ’

বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে রাষ্ট্রপতি পদটি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রের প্রধান ও প্রথম ব্যক্তি হলেও সরকার পরিচালনা করেন মূলত প্রধানমন্ত্রী ও তার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রীপরিষদ। তাই জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন অর্জনকারী দল বা সরকারি দলের সমর্থনের ওপরই নির্ভর করে রাষ্ট্রপতির ভাগ্য। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল চাইলে পছন্দমতো ব্যক্তিকে যেমন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে বা মনোনীত করে, তেমনি তাদের সমর্থন না থাকলে পদ থেকে সরে যেতে হয় রাষ্ট্রপতিকে।

তবে রাষ্ট্রপতি পদের সাংবিধানিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে ইতোপূর্বে অনেক সময় মতের মিল না হওয়ায় পরও রাষ্ট্রপতিকেও তার মেয়াদ সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে দেওয়া হয়েছে। এমনকি নতুন সরকার গঠনের পরও ভিন্ন মতাদর্শের রাষ্ট্রপতিকে তার মেয়াদ শেষ করতে দেওয়া অথবা সন্মানজনক বিদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে সংসদে বিজয়ী দলের ইচ্ছায় মনোনীত রাষ্ট্রপতিকেও মেয়াদ শেষ না করে স্বেচ্ছায় অবসরে পাঠানোর নজিরও রয়েছে।

আবার একাধিকবার রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসনব্যবস্থা চলাকালে সর্বোময় ক্ষমতায় অধিকারী থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতিরা কেউ সামরিক চাপের মুখে রাষ্ট্রপতিত্ব ছেড়েছেন, কেউ সামরিক অভ্যুত্থানে প্রাণ হারিয়েছেন, এমনকি কেউ গণআন্দোলনের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হয়ে জেল-জরিমানাও গুনেছেন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিদের বিদায় যেভাবে

শেখ মুজিবুর রহমান

পাকিস্তানের কারাগারে থাকা অবস্থায় ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে তার নাম ঘোষণা করা হয়। তবে তার অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয় সৈয়দ নজরুল ইসলামকে।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান স্বাধীনতা অর্জনের পর পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফেরেন শেখ মুজিবুর রহমান। এর একদিন পরেই ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন তিনি।

আবু সাঈদ চৌধুরী

১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ছেড়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি করা হয়। ১৯৭৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর মন্ত্রীর পদমর্যাদায় সরকারের বৈদেশিক সম্পর্কের বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় তাকে।

মোহাম্মদ মোহাম্মদউল্লাহ

আবু সাঈদ চৌধুরীর পদত্যাগের পর ১৯৭৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ মোহাম্মদউল্লাহ প্রথমে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। এরপর ১৯৭৪ সালের ২৭ জানুয়ারি তাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয়।

পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা চালু হলে তিনি পদত্যাগ করেন।

শেখ মুজিবুর রহমান

১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি দেশে বাকশাল চালু এবং রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করে আওয়ামী লীগ সরকার। সেদিন শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে আবারও রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কিছু সামরিক কর্মকর্তার হাতে সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হন তিনি।

খন্দকার মোশতাক আহমেদ

শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমদ। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে একটি অভ্যুত্থানের পর ৫ নভেম্বর তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।

আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম

১৯৭৫ সালের ৬ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম। এরপর তিনি সংসদ ভেঙে দিয়ে দেশে সামরিক আইন জারি করেন এবং নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ঘোষণা করেন।

পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিয়োগ করেন। এরপর ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন।

তবে পরবর্তীতে নিজের আত্মজীবনীতে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের ইচ্ছার কথা লিখেছেন সায়েম।

জিয়াউর রহমান

১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন তৎকালীন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান। ১৯৭৮ সালে উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে প্রধান করে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) গঠন করেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এরপর এক নির্বাচনের মাধ্যমে নিজে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তবে এই নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

এরপর ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেন জিয়াউর রহমান। এরপর ১৯৭৯ সালে আয়োজিত এক নির্বাচনে এই দল ২০৭ আসনে জিতে সরকার গঠন করে। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন তিনি।

আবদুস সাত্তার

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর প্রথমে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার। পরবর্তীতে নভেম্বরে একটি বিতর্কিত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন তিনি। তবে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ তাকে পদত্যাগে বাধ্য করেন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ।

আ ফ ম আহসানউদ্দিন চৌধুরী

আবদুস সাত্তারকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে ঘোষণা করেন সেনাপ্রধান এইচ এম এরশাদ। এরপর ১৯৮২ সালের ২৭ মার্চ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আহসান উদ্দিন চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি মনোনীত করেন।

তবে সামরিক আইন চলমান থাকায় প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের উপদেশ বা অনুমোদন ছাড়া তখন রাষ্ট্রপতির কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা ছিল না। প্রায় ২০ মাস পর এরশাদের ইচ্ছায় পদত্যাগ করেন তিনি।

এইচ এম এরশাদ

১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন সেনাপ্রধান এইচ এম এরশাদ। রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় ১৯৮৬ সালে এবং ১৯৮৮ সালে দুটি বিতর্কিত নির্বাচনের আয়োজন করেন তিনি। একপর্যায়ে তীব্র গণআন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৪ ডিসেম্বর পদত্যাগের ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে ৬ ডিসেম্বর রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাব মেনে নিয়ে উপ-রাষ্ট্রপতি মওদুদ আহমদকে পদত্যাগ করিয়ে প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদকে উপ-রাষ্ট্রপতি পদে নিয়োগ দেন। এরপর এরশাদ নিজে পদত্যাগ করেন এবং ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন উপ-রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ।

সাহাবুদ্দিন আহমদ

এরশাদের পদত্যাগের পর একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আয়োজন করেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ। ১৯৯১ সালের সেই নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি। এরপর সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে জাতীয় সংসদে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী আনা হয়। ফলে দায়িত্ব হস্তান্তর করে আবারও ১০ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি হিসেবে ফিরে যান তিনি। এরপর ১৯৯৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর নেন।

আবদুর রহমান বিশ্বাস

১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন আব্দুর রহমান বিশ্বাস। এর আগে তিনি জিয়াউর রহমান ও আব্দুস সাত্তারের সরকারের মন্ত্রিসভাতেও ছিলেন। ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন আওয়ামী সরকার নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করলেও আবদুর রহমানই রাষ্ট্রপতি হিসেবে থেকে যান। ১৯৯৬ সালের ৮ অক্টোবর তার রাষ্ট্রপতিত্বের পূর্ণ মেয়াদ স্বাভাবিকভাবে শেষ হয়।

সাহাবুদ্দিন আহমদ

এরপর অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ও সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। তিনি ১৯৯৬ সালের ৯ অক্টোবর থেকে ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০০ সালে ‘জননিরাপত্তা আইন’ নামের একটি বিতর্কিত আইন প্রণয়নকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হয় রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদের। কিন্তু এরপরও তাকে তার স্বাভাবিক মেয়াদ শেষ করার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করায় তিনি পূর্ণাঙ্গ মেয়াদ শেষে পরবর্তী রাষ্ট্রপতির কাছে স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।

একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী

২০০১ সালের নির্বাচনে আবারও বিএনপি সরকার গঠন করলে ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পান দলটির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। কিন্তু সরকারের ইচ্ছায় মাত্র সাত মাসের মাথায় ২০০২ সালের ২১ জুন পদত্যাগ করেন তিনি।

জমিরউদ্দিন সরকার

রাজনৈতিক বিরোধের জেরে একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার। ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন তিনি।

ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ

২০০২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বিএনপির পছন্দে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের মেয়াদ শেষ হলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বের সঙ্গে ২০০৬ সালে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বও নেন। কিন্তু নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান বানানোর দাবি জানায় বিরোধী দল আওয়ামী লীগ। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে সামরিক হস্তক্ষেপে এক-এগারোর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানের দায়িত্ব পান বাংলাদেশ ব্যাংকের ফখরুদ্দীন আহমদ। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জিতে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠনের পর ১১ জানুয়ারি দায়িত্ব হস্তান্তর করেন তিনি।

জিল্লুর রহমান

২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান। ২০১৩ সালের ২০ মার্চ ৮৪ বছর বয়সে বার্ধ্যক্যজনিত কারণে অবস্থায় মারা যান তিনি।

আবদুল হামিদ

জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন স্পিকার মো. আবদুল হামিদ। পরে ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ২০১৮ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হন। টানা ১০ বছর দায়িত্ব পালন শেষে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল তিনি বিদায় নেন। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী রাষ্ট্রপতি।

মো. সাহাবুদ্দিন

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল মো. সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলেও তিনি রাষ্ট্রপতি পদে থেকে যান। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগকে ছাড়াই অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করে। এরপরও ২৪ জুলাই পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন এই অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ। অবশেষে তিনটি পৃথক সরকারের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন শেষে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার