বিজ্ঞাপন
১৬ কোটি টাকায় যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ডেন ভিসা নিয়েছেন বরিশালের সাবেক মেয়র খোকন
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
বিজ্ঞাপন
প্রায় ১৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ডেন ভিসা নিয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) সাবেক মেয়র ও শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই সেরনিয়াবাত খোকন আব্দুল্লাহ—এমন তথ্য উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। অভিযোগ রয়েছে, গণ-আন্দোলনের মুখে দেশ ছাড়ার আগে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ব্যবসায় বিনিয়োগ করে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করছেন। এদিকে, পালিয়ে থাকার সময় ঠিকাদারদের কোটি কোটি টাকার ব্যাকডেটের চেকে সই এবং কমিশন নেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে।
চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো-খুলনায় পালিয়ে থাকা অবস্থায় বিসিসির বেশ কয়েকজন ঠিকাদারের পাওনা প্রায় ২৭ কোটি টাকার চেকে ব্যাক ডেটে সই করেন খোকন। বরিশাল থেকে চেক খুলনায় নিয়ে সই করিয়ে আবার বরিশালে আনার কাজটি করেন খোকনের তৎকালীন এপিএস রুবেল। তাকে সহায়তা করেন বিসিসির প্রকৌশল (সিভিল) ও হিসাব শাখার দুই কর্মকর্তা। তাদের একজন বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের নেতা। আর চেক সই করার বিনিময়ে মোট বিলের শতকরা ২০ থেকে ৪০ পার্সেন্ট টাকা নেন শেখ মুজিবের ভগিনীপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের পুত্র সাবেক এই মেয়র। টাকা হাতে পাওয়ার পর চেকে সই করেন তিনি।
ওই রাতে খোকনের বাসায় থাকা ওই ৩ নেতার একজন জানান, ‘একসঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হলেও যাওয়ার সময় কাউকে কিছু না বলে চুপচাপ চলে যান খোকন। রাত ৩টা নাগাদ বিশেষ একটি বাহিনীর দুটি গাড়ি সামনে পেছনে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যায় সাবেক এই মেয়র ও তার স্ত্রীকে বহনকারী গাড়ি। তার বেড়িয়ে যাওয়ার অন্তত আধা ঘণ্টা পর আমরা জানতে পারি যে তিনি চলে গেছেন। বরিশাল থেকে সোজা খুলনায় গিয়ে ওঠেন সোনাডাঙ্গা এলাকায় শ্যালক মিঠুর বাড়িতে। সেখানে কয়েকদিন থাকার পর আশ্রয় নেন খুলনা বিএনপির প্রভাবশালী এক নেতার বাসায়। আওয়ামী শাসনামলের দীর্ঘ সময় ওই নেতাকে মোংলা বন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্যে সহায়তা করেছিলেন খোকন। তিনি নিজেও ছিলেন মোংলা বন্দর স্টিভেডর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করতেন সমুদ্রগামী জাহাজে। রাতের বাকিটা সময় আমরা ওই বাসায় থেকে খুব ভোরে চলে আসি।’
কলকাতায় অবস্থানরত বরিশালের এক আ.লীগ নেতা বলেন, ‘এখানে ১ মাসের জন্য একটি গাড়ি ভাড়া নেন খোকন। গাড়ি ও ড্রাইভার তার বাসাতেই থাকত। ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর এই দম্পতিকে হাত ধরাধরি করে হাঁটতে দেখা গেছে কলকাতার এক্সেস মলে। কলকাতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে থাকা ছেলের কাছে যাওয়ার চেষ্টা শুরু করেন খোকন। ছেলে প্রত্যুষ যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেন হওয়ায় খুব একটা কষ্ট হয়নি তাদের। ডিসেম্বরের শুরুর দিকে স্ত্রীকে নিয়ে কলকাতা থেকে উড়োজাহাজে যুক্তরাষ্ট্র যান খোকন।’
এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য খোকন আব্দুল্লাহর প্রচলিত সবকটি নম্বরে কল করা হলেও বন্ধ পাওয়া যায়। দলের কারও সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই বলে জানিয়েছেন তার একসময়কার ঘনিষ্ঠরা।