বিজ্ঞাপন
এমপি ইস্যুতে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের চাপে রেখেছে শিবির
কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন এমপি গাজী নজরুল : হারাতে পারেন এমপি পদ
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৭:২০ এএম
বিজ্ঞাপন
নিজ দলীয় এমপির নৈতিক স্খলনজনিত কর্মকান্ডে শীর্ষস্থানীয়দের ওপর বেশ চাপ সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে শিবিরের পক্ষ থেকে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চাপে রয়েছে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা। নৈতিক পদস্খলন ঘটলে যত বড় নেতাই হোক না কেন, কেউ ছাড় পাবেন না বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এর আগে সোমবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে গাজী নজরুল ইসলামকে এক নারীর সঙ্গে দেখা যায়। তবে এমপি দাবি করেছেন, ওই নারী তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে পারিবারিকভাবে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ব্ল্যাকমেইলের উদ্দেশ্যে তার সাবেক গাড়িচালক এই ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দিয়েছে। তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামও ভিডিও বার্তায় দ্বিতীয় বিয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার হুমকি দিয়েছেন।
জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তের জন্য আমরা কমিটি গঠন করে দিয়েছি। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়াই অনেক কিছু ভাইরাল হয়। কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবেও করতে পারে, আবার দলের কোনো সদস্যের নৈতিক পদস্থলনের কারণেও এমনটি হতে পারে। সব কিছু বিবেচনা করেই তদন্ত করা হচ্ছে।’
বিয়ের ক্ষেত্রে দলকে আগে জানানো হয়েছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জুবায়ের বলেন, ‘বিয়ে মানুষের একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়। আমরা যতটুকু জেনেছি, তিনি পরিবারকে জানিয়ে বিয়ে করেছেন। তবে কেন্দ্রকে জানানো হয়নি।’ এ ঘটনায় দল বিব্রত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দলের কেউ ভালো কিছু করলে দল গর্ববোধ করে, তেমনি কেউ গর্হিত কিছু করলে বিব্রত হবে—এটাই স্বাভাবিক।’
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের কেন্দ্রীয় এক দায়িত্বশীল জানিয়েছেন, ঘটনাটি বহুদূর গড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। শীর্ষস্থানীয়দের ওপর বেশ চাপ সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে শিবিরের পক্ষ থেকে। তার ভাষ্য, ‘সম্ভাব্য যা হতে পারে, তা হলো—নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে কিংবা স্বেচ্ছায় পদত্যাগে বাধ্য করা হতে পারে। যেটাই হোক, তিনি দল থেকে বেরিয়ে যাবেন। পাশাপাশি এমপি পদ থেকেও সরতে জামায়াত নির্দেশ দেবে।’
ওই দায়িত্বশীল আরও জানান, এতে সাতক্ষীরা-৪ আসন শূন্য ঘোষিত হবে এবং উপনির্বাচনের ঘোষণা আসবে। সেই নির্বাচনে জামায়াত আলোচিত কোনো নেতাকে প্রার্থী দিয়ে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টায় জিতিয়ে এনে সংসদে পাঠানোর পরিকল্পনা করতে পারে।