Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

বসের ‘অনৈতিক প্রস্তাবে’ রাজি না হওয়ায় নারীকর্মীকে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম

বসের ‘অনৈতিক প্রস্তাবে’ রাজি না হওয়ায় নারীকর্মীকে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ

বিজ্ঞাপন

এপেক্স ফার্মা নামে একটি বেসরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের এক নারী মেডিকেল প্রমোশন কর্মকর্তা (এমপিও) তার ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার, বেআইনি চাকরিচ্যুতি, বেতন বঞ্চনা এবং মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে প্রতিকার চেয়ে তিনি স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা ‘রাইটস যশোরের’ কাছে লিখিত আবেদনও করেছেন।

অভিযোগকারী ওই নারী কর্মচারীর দাবি, চলতি  ৯ এপ্রিল তিনি ‘মেডিকেল প্রমোশন অফিসার’ পদে ‘এপেক্স ফার্মা’য় যোগদান করেন। নিয়োগপত্র অনুযায়ী তার মাসিক বেতন ২০ হাজার টাকা। টিএ-ডিএ ৭ হাজার টাকা। শর্ত অনুযায়ী টার্গেট পূরণ করলে তার অতিরিক্ত ভাতা পাওয়ার কথা ছিল।

তিনি দাবি করেন, চাকরিতে যোগদানের পর থেকে প্রতিষ্ঠানের রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার সেলিম রেজা তাকে অশালীন ও অনৈতিক প্রস্তাব দিতে থাকেন। এসব প্রস্তাব সেলিম রেজা অভিযোগকারীর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে একের পর এক ম্যাসেজের মাধ্যমেও প্রকাশ করেন। 

রিজিওনাল সেলস ম্যানেজারের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ওই নারীকর্মীকে নানাভাবে হয়রানি এবং পরবর্তীতে চাকরি থেকে অবৈধভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

লিখিত অভিযোগে ওই ভুক্তভোগী নারী উল্লেখ করেন, চাকরিতে যোগদানের মাস থেকেই তার বেতনের একটি অংশ কেটে রাখা হয়। পরে বিষয়টি জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিভিন্ন অজুহাত দেন এবং আশ্বাস দিলেও সেই অর্থ আর পরিশোধ করা হয়নি।

তিনি বলেন, সেলিম রেজা তাকে ‘ব্যক্তিগত সম্পর্কের’ প্রস্তাব দেন। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তায় তিনি অভিযোগকারীকে একান্তে দেখা ও এক রাত তার সঙ্গে থাকার আহ্বান জানান। তার কথায় রাজি হলে আগের মাসে কেটে রাখা টাকা ফেরত, চাকরি নিরাপদ থাকবে এবং বেতন বাড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

অভিযোগকারী নারী বলেন, তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানাই, আমি শুধুমাত্র চাকরি করতে এসেছি। এরপর থেকেই তার প্রতি রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার সেলিম রেজার আচরণ আরও কঠোর হয়ে ওঠে। তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে একটি সতর্কীকরণ (ওয়ার্নিং) চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু ওই অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। তার ভাষ্য, তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এর প্রমাণও রয়েছে।

অভিযোগে ওই ভুক্তভোগী নারী আরও উল্লেখ করেন, তার প্রাপ্য বেতন পরিশোধ না করে চাকরি থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রাপ্য বেতন পরিশোধ, বেআইনি চাকরিচ্যুতির প্রতিকার এবং যৌন হয়রানির অভিযোগের বিচার দাবি করেছেন।

তিনি বলেন, বিষয়টি আমি এখনো হেড অফিসে জানাইনি। আমার ন্যায্যতার জন্যে প্রয়োজনে আদালতেও যাব। 

আরও পড়ুন
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এপেক্স ফার্মার রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার সেলিম রেজা তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, উনি মিথ্যাচার করছেন। 

হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনের স্ক্রিনশর্টের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার ছবি ব্যবহার করে অন্য নম্বর থেকে এই কথোপকথন করা হয়েছে। এগুলো এডিটেড। আমি তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করব।

সেলিম রেজা বলেন, চুক্তিপত্র অনুযায়ী ওই নারীকর্মী তার যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাইটস যশোরের ডেপুটি ম্যানেজার এসএম আজহারুল ইসলাম বলেন, চাকরিতে এদেশের নারীরা এখনো যে সুরক্ষিত নন, এই ঘটনা তার একটা বড় উদাহরণ। এটি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। বিষয়টি নিয়ে রাইটস যশোরও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার