Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

টাকার জন্য স্ত্রীকে নির্যাতনের পর মহাসড়কে ফেলে যান শিক্ষক

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ পিএম

টাকার জন্য স্ত্রীকে নির্যাতনের পর মহাসড়কে ফেলে যান শিক্ষক

বিজ্ঞাপন

টাকার জন্য স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ঢাকার প্রাইম ইউনিভার্সিটির শিক্ষক বিদ্যুৎ কুমার দত্তের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় তার স্ত্রী শিউলি রানী রায় (৩২) সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) হাসপাতালে শিউলি ও তার পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ করেন। 

শিউলি রানী রায় কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার নিরোধ কুমার রায়ের মেয়ে। তার স্বামী বিদ্যুৎ কুমার দত্ত (৪০) কুষ্টিয়ার আমলাপাড়ার বাসিন্দা। পরিবারের ভাষ্য, সাত বছর আগে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাঁরা রাজধানীর মিরপুরের মাজার রোড এলাকায় বসবাস করছেন।

শিউলি রায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই ছোটখাটো বিষয় নিয়ে শাশুড়ি ও ননদেরা আমাকে দোষারোপ করতেন। পরে আমার স্বামীর বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক অশান্তি আরও বাড়ে। বিদেশে যাওয়ার জন্য তিনি আমার কাছে টাকা চাইতেন। আমি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে প্রায়ই আমাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হতো।’

শিউলির অভিযোগ, ‘১২ জুলাই রাতে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আমার স্বামী রুটি বেলার বেলন দিয়ে আমাকে মারধর করেন। এতে আমার মাথা, মুখমণ্ডল, হাত, পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। এ সময় ডান চোখেও আঘাত পাই।’

শিউলি আরও বলেন, ‘মারধরের ঘটনার পর বাবার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুলে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হন। পথে সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে গলফ ক্লাব এলাকায় মোটরসাইকেল থেকে সড়কে পড়ে আমি অচেতন হয়ে যাই। পরে স্থানীয় লোকজন আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।’

হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের এক স্টাফ বলেন, ‘মোটরসাইকেল থেকে পড়ে শিউলি অচেতন হয়ে গেলে পেছন থেকে আসা একটি প্রাইভেট কারের চালক তাঁকে উদ্ধার করে রক্তাক্ত অবস্থায় আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এ সময় উপস্থিত লোকজন তাঁর স্বামীকেও হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে তিনি হাসপাতাল থেকে চলে যান। শিউলির চেতন ফেরার পর তাঁর কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জেনে আমরা বিষয়টি তাঁর পরিবারের সদস্যদের জানাই।’

শিউলির পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনার জন্য অর্থের প্রয়োজনের কথা বলে শ্বশুরের কাছ থেকে টাকা এনে দিতে শিউলিকে চাপ দিতেন বিদ্যুৎ কুমার দত্ত। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে দাম্পত্যকলহ চলছিল। শিউলির শ্বশুরবাড়ির সদস্যরাও শিউলিকেই দোষারোপ করতেন।

শিউলির ভাই শুভ রায় বলেন, ‘হত্যার উদ্দেশ্যেই আমার বোনকে মারধরের পর মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। যাতে তাঁর মৃত্যুর কারণ দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়া যায়।’

শুভ রায় আরও বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা আশুলিয়া থানায় অভিযোগ দিয়েছি। তবে ওই অভিযোগে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা না থাকায় আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ দত্তের বক্তব্য জানতে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার