বিজ্ঞাপন
যে কারণে চাকরিচ্যুত হলেন এনবিআরের প্রথম সচিব তানজিনা
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:০১ পিএম
বিজ্ঞাপন
ছুটি না নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ায় কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার তানজিনা রইসকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আহসান হাবিব সই করা প্রজ্ঞাপন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ৯ জুলাই এই নারী কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তানজিনা রইস সর্বশেষ এনবিআরের প্রথম সচিব (মূসক পরিবীক্ষণ ও করদাতা সেবা) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
আরও পড়ুন
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তানজিনা রইসকে ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর এক মাসের অর্জিত ছুটি মঞ্জুর করে থাইল্যান্ড যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। তিনি ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর থেকে ছুটি ভোগ করা শুরু করেন। ছুটি শেষ হলেও তিনি কর্মস্থলে যোগদান না করায় ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি এনবিআর থেকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। জবাবে তিনি ই-মেইল যোগে জানান যে, তিনি আগেই ছুটির মেয়াদ আরও ৩ মাস বাড়ানোর আবেদন করেছিলেন।
আরও পড়ুন
তবে কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি সঠিক নিয়ম ও বিধি মেনে আবেদন করেননি। ২০২৫ সালের ৪ মার্চ তার ছুটির আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে অবিলম্বে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি কাজে যোগ দেননি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য করে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ২০২৫ সালের ৯ জুলাই তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
আরও পড়ুন
অনুমতি ছাড়া ৬০ দিনের বেশি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তা নির্দিষ্ট সময়ে লিখিত জবাব না দেওয়ায় এনবিআরের সদস্য ড. মোহা. আল আমিন প্রামাণিককে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্তে তানজিনা রইসের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ প্রমাণিত হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু ৭ কার্যদিবসের মধ্যেও তিনি কোনো জবাব দেননি। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এই বরখাস্তের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করে। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতিও এই গুরুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
আরও পড়ুন
এনবিআর সূত্রে জানা যায়, বিসিএস (শুল্ক ও আবগারি) ক্যাডারের এই কর্মকর্তার স্বামী অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হয়েছেন। এই কর্মকর্তা ২০১৮ সালে যুগ্ম কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পশ্চিম)-এ কর্মরত ছিলেন। ওই বছরের শেষ দিকে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককোয়ারি ইউনিভার্সিটিতে ‘মাস্টার্স অব কমার্স উইথ এ স্পেশালাইজড ইন ফাইন্যান্স কোর্ড’ কোর্স করতে স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে যান। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এই মাস্টার্স করতে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত শিক্ষা ছুটি মঞ্জুরি করে। মাস্টার্স শেষে তিনি দেশে চলে আসেন।
আরও পড়ুন
সূত্র আরও জানায়, অস্ট্রেলিয়া থেকে আসার পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি সন্তানের চিকিৎসা করাতে থাইল্যান্ড গিয়েছেন। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে সন্তানের চিকিৎসা করাতে তাকে ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১৫ দিনের ছুটি দেওয়া হয়। সেখান থেকে দেশে না ফিরে ছুটি না নিয়ে তিনি অস্ট্রেলিয়া চলে গেছেন। আর ফিরে আসেননি। কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, ছুটি না নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি অস্ট্রেলিয়া পড়তে গিয়ে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন বলে জানা গেছে।