বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সুরমা নদীর পানি কমতে থাকায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আভাস দিয়েছে। এদিকে আগামী রবি থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে ৯ জেলার নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ও সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের একজন কর্মকর্তা বলেন, যে দুটি পয়েন্টে পানি এখন বিপৎসীমার ওপরে আছে- সেখানে পানি নেমে যাবে। উজানে ভারত থেকে আসা পানির ঢলও নেই এখন। বৃষ্টিপাতও কমেছে। সব মিলিয়ে এখানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। সাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে, তবে, এর প্রভাবেও দুই জেলায় ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আগামী তিন দিনে নেই।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়েছে, অন্যদিকে সুরমা নদীর পানি কমেছে; যা আগামী তিন দিন কমতে পারে। এদিন সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সুরমা-কুশিয়ারা নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। গেল ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি বেড়েছে, যা আগামী পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে; তবে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
একই সময়ে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি বেড়েছে, যা আগামী পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে; তবে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। শেষ ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের মনু, ধলাই, খোয়াই ও সারিগোয়াইন নদীর পানি বেড়েছে; যা আগামী তিন দিন কমতে পারে। একই সময়ে উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি কমেছে, যা আগামী তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের উপকূলীয় কীর্তনখোলা, লোয়ার-মেঘনা, পশুর, ইছামতি ইত্যাদি নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং স্বাভাবিক জোয়ার বিরাজমান আছে। আগামী তিন দিন নদীগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোয়ার থাকতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) সরদার উদয় রায়হান জানান, চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে (১৯-২৩ জুলাই) উত্তরাঞ্চলীয় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়ে কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর প্রবাহিত হয়ে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম জেলার নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সুরমা-কুশিয়ারা নদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে এবং নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও প্লাবিত হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র পূর্বাভাসে জানিয়েছে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, ভারত আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে, যা আগামী দুদিন আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। আগামী ১৬ জুলাই হতে ২৩ জুলাই অথবা সন্নিহিত সময়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের আসাম, মেঘালয়, অরুণাচল ও হিমালয়-পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতসহ সামগ্রিকভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।