বিজ্ঞাপন
৪৫ বছর পর যেভাবে ধরা পড়লেন শহীদ জিয়া হত্যা মামলার পলাতক আসামি
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
বিজ্ঞাপন
পঁয়তাল্লিশ বছর আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম পলাতক আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেন। বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কোর্ট মার্শালের জন্য তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তার হামলায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। হত্যা মামলার অভিযোগপত্র ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, ওই ঘটনায় অংশ নেওয়া সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন ছিলেন অন্যতম।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ঘটনার সময় তিনিই প্রথম জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোনে রাষ্ট্রপতির নিহত হওয়ার খবর জানান।
হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর নিহত হন। ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেও মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পালিয়ে যাওয়ার পর মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ সময় ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন। পরে ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন এবং দীর্ঘদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে থাকেন।
অবশেষে দীর্ঘ ৪৫ বছর পর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন তার বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর নিজস্ব বিচারিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমান একজন সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন এবং রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।