বিজ্ঞাপন
শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ, পরীক্ষা ও প্রশ্নের সমাধানের ঘোষণার পরও আন্দোলন কেন
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
বিজ্ঞাপন
বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়া, পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নপত্রে অসঙ্গতি এবং শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া একটি বক্তব্যের জেরে আন্দোলনে নেমেছেন পরীক্ষার্থীরা। তাদের আন্দোলনের মধ্যে সরকার ইতোমধ্যে সমাধানের ব্যবস্থা নিয়েছে। ৪ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ, অসঙ্গতিপূর্ণ প্রশ্নের পূর্ণ মার্ক (মূল্যায়ন) প্রদান, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে যারা পরীক্ষা দিতে পারেননি তাদের পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণার পরও পরীক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এটা কিসের ইঙ্গিত, সেই প্রশ্নই এখন উঠেছে।
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবার মোট ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। তবে সম্প্রতি ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন পাঁচটি জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে কিছু বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বাইরেও ঢাকাসহ দেশের কিছু কিছু জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে বেশ কিছু পরীক্ষার্থী বৈরী আবহাওয়া ও বহুবিধ প্রতিকূলতার কারণে নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।
এছাড়া সোমবার (১৩ জুলাই) সকালের পরীক্ষা চলাকালীন পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) ১ম পত্রের সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭নং প্রশ্নে মারাত্মক ত্রুটি বা অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়। প্রশ্নপত্রে এ ধরনের ত্রুটি/অসঙ্গতি থাকায় পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীদের চরম মানসিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।
এসব অভিযোগের পরই আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি ব্যাখ্যা দিয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হলেও অন্য বোর্ডের কেন্দ্রগুলো পরীক্ষা নেওয়ার উপযোগী রয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে সাময়িক ভোগান্তি হলেও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে সক্ষম হয়েছেন। একই সঙ্গে ১২ লাখের বেশি পরীক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম, ফল প্রকাশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া বিবেচনায় বারবার পরীক্ষা স্থগিত করা বাস্তবসম্মত নয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে কোনো এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বা পরীক্ষা গ্রহণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের দাবি
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে— দুর্যোগ পরিস্থিতি পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১৩ জুলাই পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ।
যদিও আজ (১৫ জুলাই) শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি থেকে সরে এসে ছয় দফা দাবি নিয়ে সচিবালয়ে যান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছয়জন প্রতিনিধি। তাদের ৬ দাবিগুলো হলো- ১. দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় যারা পুনরায় অংশ নিতে চায়, তাদের সেই সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ২. যারা একই বিষয়ের পরীক্ষা পুনরায় দেবে, তাদের ক্ষেত্রে আগের ও পুনঃপরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বরটি চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করতে হবে। ৩. প্রশ্নপত্রে থাকা ভুল প্রশ্নের জন্য শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দিতে হবে। ৪. চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে স্থিতিশীল হওয়ার জন্য কিছু সময় দিয়ে এরপর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ৫. পূর্বঘোষণা ছাড়া প্রশ্নপত্রের ধরনে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় শিক্ষার্থীদের কাছে অপরিচিত ছিল। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নম্বর মূল্যায়ন করতে হবে। ৬. পরীক্ষা চলাকালে ‘সচেতন গার্ড’-এর নামে কিছু শিক্ষকের কঠোর ও বিভ্রান্তিকর আচরণ বন্ধ করতে হবে, যাতে পরীক্ষার্থীরা ভীত না হয় বা মানসিক চাপে না পড়ে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বক্তব্য
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, পরীক্ষা পদ্ধতির সিস্টেম অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার, ডিসি-ইউএনওরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবেন যে পরীক্ষা নেওয়া যাবে কিনা। তারা দুর্যোগ দেখলে পরীক্ষা নেওয়া বন্ধও করতে পারেন। আমরা তাদের সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করেছি। তারা জানিয়েছেন ঠিকমতোই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য আমাদেরও মায়া আছে। সেজন্য আমরা সবসময় মনিটরিং করেছি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে পরীক্ষা আমরা একযোগে নিয়ে থাকি। এইচএসসি পরীক্ষার প্রায় ২ হাজার ৭০০ কেন্দ্র রয়েছে এবং ৬৪টি জেলায় একই সময়ে পরীক্ষা শুরু হয়। ইতিমধ্যে আপনারা শুনেছেন, চট্টগ্রামে যখন বন্যা হলো— তখন আমরা পর্যায়ক্রমে প্রথমে রাঙামাটি, তারপর বান্দরবান, পরে খাগড়াছড়ি এবং এরপর পুরো চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করেছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা লক্ষ করছিলাম যে— বৃষ্টি হচ্ছিল এবং আমরা পরিস্থিতি নিয়মিত মনিটরিং করছিলাম। সেই সময় ৬৪ জেলার এসপি (পুলিশ সুপার), আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এবং প্রত্যেকটি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। পাশাপাশি আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি। তারা জানিয়েছিল যে— আর বৃষ্টি হবে না। বিকাল ৫টা পর্যন্ত আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সংশ্লিষ্ট সবাই বলেছেন যে— আবহাওয়া ভালো থাকবে, সে কারণেই আমরা পরীক্ষা বহাল রেখেছি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের মাঠ পানিতে ভরে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিই, পরীক্ষাকেন্দ্র স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে। পরে পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে ওই স্কুলের পাঁচতলা ভবনে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আমরা পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছি।
তিনি বলেন, এ ছাড়া সারা দেশের জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন— কোথাও পরীক্ষা গ্রহণে কোনো ধরনের দুর্যোগজনিত সমস্যা হয়নি। শুধু কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে এ ঘটনা ঘটেছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আমরা নির্দেশ দিয়েছিলাম— সেখানে বিলম্বে পরীক্ষা শুরু করা হবে। যে মেয়েটির কাপড় ভিজে গিয়েছিল, তার বাড়ি থেকে কাপড় এনে দেওয়া হয়েছে। তাকে এক ঘণ্টা পরে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষার সময়ও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জাতিকে জানাতে চাই, আমাদের পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসক, ইউএনও, পুলিশ প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যে— কোনো কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব কিনা। প্রয়োজনে তারা পরীক্ষা স্থগিতও করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা বারবার তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন— না স্যার, আমরা ঠিকমতো পরীক্ষা নিচ্ছি। আপনারাও দেখেছেন কোথায় কোথায় বৃষ্টির পানি ছিল। সেগুলো আমরা সবাই লক্ষ করেছি। কোমলমতি সন্তানদের জন্য আমাদেরও মায়া রয়েছে। সে কারণেই আমরা সব সময় পরিস্থিতি মনিটরিং করি।
এদিকে প্রশ্নপত্রে ভুল বা অসঙ্গতি নিয়ে গতকাল (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, পদার্থবিজ্ঞানের ৬ ও ৭- দুটি প্রশ্ন ভুল হয়েছে। আমরা দায়িত্ব পেয়েছি মাত্র চার মাস। এই প্রশ্ন আগের মডারেটররা করেছিলেন। আমরা ক্ষমতায় এসে কোনো প্রশ্ন তৈরি করিনি। বিগত সরকারের মডারেটররাই প্রশ্ন করেছে। তবুও আমরা তাৎক্ষণিক ঘোষণা দিয়েছি প্রশ্ন দুটির ফুল মার্ক দিয়ে দেব।
আজও (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে যেসব শিক্ষার্থী চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাঁরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে তাঁদের এই পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। এ ছাড়া পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রে যে দুটি প্রশ্ন ভুল ছিল, সে দুটিতে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট অনিবার্য কারণে যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেননি, তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ইতিমধ্যে স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত একই তারিখে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রে ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নে দায়ী ব্যক্তিদের ইতিমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে যে ভুল হয়েছে, তার জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর কথপোকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ভিডিওতে মন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘ওরা তো ফার্মের মুরগী, একটু বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর চলে আসবে।’ এ নিয়ে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলে আন্দোলনে নেমেছেন পরীক্ষার্থীরা। রাজধানীর সায়েন্সল্যাবে একাধিক দাবি নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। রাজধানীসহ সারা দেশেই পরীক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেছেন।
পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গতকাল (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রী বলেন, আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি জানিয়েছেন। আমি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে কিছু বলিনি। তারপরও কেউ যদি আহত হয়ে থাকেন- আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। এ সময় উপস্থিত সংসদ সদস্য টেবিল চাপড়ে মন্ত্রীর এ দুঃখ প্রকাশকে স্বাগত জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের বক্তব্য
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকেও পরীক্ষার্থী তথা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, দেশজুড়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা-২০২৬ চলমান রয়েছে। বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে কেন এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শুভানুধ্যায়ীদের উদ্বেগ ও প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও যথেষ্ট ভেবেছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, পারিপার্শ্বিক সব পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং অন্যান্য অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে, বর্তমানে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে জানা গেছে, দেশজুড়ে পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, পরীক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানতুল্য। তাদের ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন ও মানসিক অবস্থার গুরুত্ব সরকার গভীরভাবে উপলব্ধি করে। জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশে পরীক্ষা নিশ্চিত করা একটি দায়বদ্ধতা। পরীক্ষার্থীদের যেন কোনো দুর্ভোগ না হয় সেটি যেমন সরকারের লক্ষ্য, ঠিক তেমনি তাদের দীর্ঘদিনের পাঠ্যক্রম ও মানসিক প্রস্তুতিকে মূল্যায়ন করে যথাসময়ে ও সুষ্ঠুভাবে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সম্পন্ন করাও দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষাই অগ্রাধিকার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনের পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া
এরপরও দ্বিতীয় দিনের মতো সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন পরীক্ষার্থীরা। এই আন্দোলনের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও পক্ষে-বিপক্ষে নানা প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন অনেকে। কেউ বলছেন, তাদের অটোপাশ দিলেই সব সমাধান। আবার কেউ বলছেন, পরীক্ষার্থীদের আন্দোলন যৌক্তিক।
এমন পরিস্থিতিতে সচেতন মহলে এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, সবকিছু সমাধানের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়ার পরও কেন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন পরীক্ষার্থীরা? কোনো গোষ্ঠীর ইন্ধন রয়েছে কিনা, সেটি সরকারের গভীরভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন অনেকে।