বিজ্ঞাপন
সচিবালয়ে ৬ দফা দাবি নিয়ে আলোচনায় বসলেন শিক্ষার্থীরা
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:১২ পিএম
বিজ্ঞাপন
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি থেকে সরে এসেছেন। তারা ছয় দফা দাবি নিয়ে আলোচনায় বসতে সচিবালয়ে প্রবেশ করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের ছয়জন প্রতিনিধি রয়েছেন।
শিক্ষাভবনের সামনে থেকে সচিবালয়ের উদ্দেশে বুধবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে তারা রওনা হন। তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করছেন বলে একাধিক শিক্ষার্থী দাবি করেছেন। তবে সচিবালয়ের বাইরে অবস্থান করা শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাইছেন।
শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবি হচ্ছে:
১. দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় যারা পুনরায় অংশ নিতে চান, তাদের সেই সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
২. যারা একই বিষয়ের পরীক্ষা পুনরায় দেবেন, তাদের ক্ষেত্রে আগের ও পুনঃপরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করতে হবে।
৩. প্রশ্নপত্রে থাকা ভুল প্রশ্নের জন্য শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দিতে হবে।
৪. চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে স্থিতিশীল হওয়ার জন্য কিছু সময় দিয়ে এরপর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. পূর্বঘোষণা ছাড়া প্রশ্নপত্রের ধরনে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় শিক্ষার্থীদের কাছে অপরিচিত ছিল। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নম্বর মূল্যায়ন করতে হবে।
৬. পরীক্ষা চলাকালে ‘সচেতন গার্ড’-এর নামে কিছু শিক্ষকের কঠোর ও বিভ্রান্তিকর আচরণ বন্ধ করতে হবে, যাতে পরীক্ষার্থীরা ভীত বা মানসিক চাপে না পড়ে।
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করলেও সচিবালয়ে আলোচনায় অংশ নিতে যাওয়া প্রতিনিধিদলের দাবির তালিকায় মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি রাখা হয়নি।
এর আগে এদিন পরীক্ষা শেষে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে জড়ো হয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেন। পরে শিক্ষা ভবন মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের অগ্রযাত্রা আটকে দেয়।
শিক্ষার্থীদের আগমনের আগেই শিক্ষা ভবন মোড়ে অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে সচিবালয়মুখী যাত্রা ঠেকাতে ব্যারিকেডে শিকল পেঁচিয়ে তালাবদ্ধ করা হয়। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি একটি জলকামানও প্রস্তুত রাখা হয়।
বিকাল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে শিক্ষার্থীরা ব্যারিকেডের সামনে অবস্থান নেন। তবে এ সময় তারা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেননি এবং কোনো ধরনের সহিংসতার ঘটনাও ঘটেনি।
প্রায় দুই ঘণ্টা শান্তিপূর্ণ অবস্থান শেষে শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে দিলে পুলিশ ব্যারিকেড সরিয়ে নেয় এবং শিক্ষা ভবন এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।
এদিকে, সচিবালয়ে আলোচনার মধ্যেই শাহবাগ মোড়ে কিছু শিক্ষার্থী অবস্থান নিয়েছেন। বিকালে তারা ছয়দফা দাবি আদায়ে শাহবাগ মোড় অবরুদ্ধ করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, ‘দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড় এলাকা অবরুদ্ধ করেছেন। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি।’
অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলেও জানান তিনি। শাহবাগ মোড় এলাকা অবরুদ্ধ করায় আশপাশের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।