Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

অধিবেশন চলাকালেই শিক্ষামন্ত্রীকে ডেকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভৎসনা

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম

অধিবেশন চলাকালেই শিক্ষামন্ত্রীকে ডেকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভৎসনা

বিজ্ঞাপন

শিক্ষামন্ত্রীর বেফাস মন্তব‌্যে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার বিকেলে যখন রাজপথে, ঠিক তখন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন চলছিল। এর মধ‌্যেই আসরের নামাজের বিরতির সময় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান ডেকে নেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে।

সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি আগেই অবস্থান করছিলেন। তাদের উপস্থিতিতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষামন্ত্রীকে কথা বলার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক এবং সজাগ থাকার জন‌্য বলেন।

সারা দেশে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতেই জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছেন।

এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে সারা দেশে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।

সবশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে, শিক্ষামন্ত্রীকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে পদত্যাগ করতে এবং তার ‘অসংগতিপূর্ণ’ বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে আলটিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। 

তিনি বলেন, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং তার অসংগতিপূর্ণ কথাবার্তার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘দফা এক, দাবি এক, মিলনের পদত্যাগ’, ‘ভোগান্তির দায় নিতে হবে’, ‘বন্যা-জলাবদ্ধতায় পরীক্ষা নয়’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের হাতে পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষাগুলো নতুন প্রশ্নপত্রে পুনরায় গ্রহণ করা হবে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে নিজের একটি ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের কারণে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিলের ওপর আনীত সংশোধনী প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বোর্ডের আওতাধীন জেলাগুলোতে বন্যার কারণে পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছে এবং এই পরীক্ষাগুলো পুনরায় নিতেই হবে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের দাবি ও অভিযোগ জানালেও মন্ত্রণালয় শুরু থেকেই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, চট্টগ্রাম বোর্ডের জন্য যখন পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, যুক্তিবিদ্যা এবং হিসাববিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা অন্য আরেকটি প্রশ্নপত্র সেটে নেওয়া হবে, ঠিক সেই সময়েই স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো পুনরায় নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে মন্ত্রী সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তার একটি মন্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া সমালোচনার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি জানান, কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আঘাত করার জন্য তিনি কোনো কথা বলেননি। তার এই ব্যক্তিগত মন্তব্যে যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন বা আহত হয়ে থাকেন, তবে তার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন।

মন্ত্রী বলেন, আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি করেছেন। সেই ব্যাপারেও বলতে চাই। আমি কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু বলি নাই। যদি কেউ আহত হয়ে থাকেন ‘সিম্প্লি’ আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।

উল্লেখ্য, গতকাল রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি ফোনালাপে শিক্ষামন্ত্রী এখনকার শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে সম্বোধন করেছেন। এ ঘটনায় আজ সারা দিন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করছেন ঢাকাসহ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার