বিজ্ঞাপন
‘ফার্মের মুরগি’ প্রসঙ্গে কী বলেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী?
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
বিজ্ঞাপন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও সিটি কলেজের এক পরীক্ষার্থীর মধ্যে কথোপকথনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি এই ভাবে মিটিংয়ে বলেছিলাম- এরা তো ফার্মের মুরগি, এগুলো তো মাথায় বৃষ্টি পড়লেই জ্বর আসে। আমার মেয়ের তাই হয়। একদিন বৃষ্টিতে ভিজবে জ্বর আসবে, তখন পরের তিনদিন তো আর পরীক্ষা দিতে পারবে না এরা।’
সোমবার ( ১৩ জুলাই) রাতে সিটি কলেজের ওই পরীক্ষার্থীকে মুঠোফোনে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী মুঠোফোনে বলেন, ‘ওয়েদার পডকাস্টিং সেন্টারের ডিজিকে ফোন করার পর তিনি জানান- আগামীকাল সোমবার (১৩ জুলাই) বৃষ্টি হবে না। আজ রোববার (১২ জুলাই) রাতেই বৃষ্টি শেষ।
মুঠোফোনে ওই পরীক্ষার্থী বলেন, ‘কিন্তু স্যার যাদের জ্বর হয়ে গেছে, আমরা তো সিটি কলেজের স্টুডেন্ট, যারা পরীক্ষা দিচ্ছি তাদের অলরেডি অনেকের জ্বর। কারণ বৃষ্টিতে ভিজে অবস্থা খারাপ। ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা দিনে বৃষ্টিতে ভিজছে, আইসিটি পরীক্ষার দিনেও প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ৫টা পর্যন্ত মিটিং করেছি। সেখানে সবাই বলছেন আমরা প্রিপেয়ার্ড। শিক্ষার্থীরাও প্রিপেয়ার্ড। মিটিং করেছি, সেখানে কেউ পরীক্ষা পেছানোর জন্য রাজি হয় না। আমি রাজি ছিলাম... অন্যদের চেয়ে আমি পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্তের পক্ষে ছিলাম। যাই হোক তুমি পরীক্ষা দিয়ে ফেলো। আশা করি ভালো হবে।’
পরীক্ষার রুটিন নিয়েও মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করে ওই ছাত্রী বলেন, ‘উচ্চতর দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষার আগে একদিন ছুটি। এত চ্যাপ্টার...মাঝে একদিন মাত্র ছুটি। সেটা কি হয় স্যার? একদিনে কি এতগুলো চ্যাপ্টার রিভাইস করা পসিবল স্যার? ফিজিক্স সেকেন্ড পেপারের মতো বিষয়ে... যেখানে ১১টা চ্যাপ্টার স্যার। কীভাবে সম্ভব?’
জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি তোমাকে বলি, তোমাদের স্টেকহোল্ডারদের (অংশীজন) সঙ্গে কথা বলে রুটিন দিয়েছি। তারপরও বলেছি, যদি এ রুটিন গ্রহণযোগ্য না হয়, তাহলে আমি চেঞ্জ করবো। কিন্তু কেউ তো আমাকে কোনো রেসপন্স করেনি।’
ওই ছাত্রী আরও বলেন, ‘কিন্তু স্যার শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারছে যে তাদের ওপর দিয়ে কি যাচ্ছে। পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, জীববিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র এবং উচ্চতর গণিত দ্বিতীয়পত্রে এক দিন করে ছুটি। এটা কি মানা যায় স্যার?’
এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘এমনিতেই তো রুটিন করা হচ্ছিল যে সকাল-বিকেল পরীক্ষা নিয়ে দ্রুত শেষ করবে। যেটা আমরাও ছাত্রজীবনে দিয়েছি। তখন আমি বললাম যে, এটা সম্ভব না। ওরা পারবে না, কষ্ট হয়ে যাবে। অন্তত একদিন গ্যাপ দিয়ে দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হোক। সেটাই এখন নেওয়া হচ্ছে। আমি সবকিছু চিন্তাভাবনা করেই করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এগুলো বলে আর লাভ হবে না। বিকেল ৫টা পর্যন্ত মিটিং করেছি। নো বডি একসেপ্ট মি, যে পরীক্ষা পেছানোর ব্যাপারে। তুমি তো সিটি কলেজ। চিন্তা কইরো না তো। এখন গরম এক কাপ কফি দিতে বলো, খেয়ে পড়তে বসে যাও।’