বিজ্ঞাপন
প্রবাসীদের ভোগান্তি কমাতে চলতি মাসেই আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ পিএম
বিজ্ঞাপন
দেশের অর্থনীতি সচল রাখা ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন প্রবাসীরা। তবে পদে পদে তাঁদের নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে বিদেশের বাংলাদেশ দূতাবাস, এমনকি দালাল চক্রের প্রতারণা ও অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়ের মতো বহুমুখী সমস্যার মুখোমুখি হন তাঁরা। এসব সংকট নিরসন ও হয়রানি কমাতে সরকার চলতি মাসেই ডিজিটাল ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে। এই এক কার্ডের মাধ্যমেই ব্যাংকিং সুবিধা, বিমা, বিনিয়োগ ও সম্পদ সুরক্ষাসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা পাওয়া যাবে।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ের সঙ্গে যুক্ত করে এই প্রবাসী কার্ড দেওয়া হবে এবং চলতি মাসের মধ্যেই এটি চালুর আশা করা হচ্ছে। এই কার্ডের ফলে বিমানবন্দরে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়ার পাশাপাশি দূতাবাসেও অগ্রাধিকার পাবেন কার্ডধারীরা। বিভিন্ন সেবার ফি ও অন্যান্য পেমেন্ট অনলাইনেই করা যাবে। প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের সঠিক হিসাব থাকার পাশাপাশি প্রতারণা ও হুন্ডির ব্যবহার অনেকটাই কমে আসবে।
প্রবাসীদের আর্থিক সুরক্ষায় এই কার্ড বিশেষ ভূমিকা রাখবে। অনেক প্রবাসী দেশে টাকা পাঠিয়ে বা সম্পত্তি কিনে পরে নানা জটিলতায় পড়েন। কার্ডটি চালু হলে তাঁরা নিজের অ্যাকাউন্টে টাকা রাখতে পারবেন এবং তার ওপর সুদও পাবেন। পরিবারের প্রয়োজনে একজন সদস্যকে সম্পূরক বা সাপ্লিমেন্টারি কার্ড দেওয়ার সুযোগ থাকবে, যেখানে আগে থেকেই মাসিক উত্তোলনের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া যাবে। ফলে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ আরও নিরাপদ থাকবে।
সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রবাসীরা। তাঁরা মনে করছেন, দেশে ও বিদেশে একই কার্ডের মাধ্যমে সহজ লেনদেনের সুবিধা তাঁদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমিয়ে আনবে। তবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) পক্ষ থেকে তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পুরো ব্যবস্থাকে ডিজিটাল ডেটাবেজের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে রাজনৈতিক প্রভাব বা অসাধু কোনো গোষ্ঠী যেন এর অপব্যবহার করতে না পারে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। শুধু কার্ড চালু করলেই হবে না, বরং সমাজের সর্বস্তরে এর কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।