বিজ্ঞাপন
৮ মাস হোটেলে থেকে ভাড়া না দেয়ার অভিযোগ এনসিপির ৫ নেতার বিরুদ্ধে
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:৩২ এএম
বিজ্ঞাপন
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণের পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকার ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (আবাসিক হোটেল)-এ প্রায় আট মাস অবস্থান, প্রায় ১১ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ টাকা ভাড়া বকেয়া রাখা এবং ‘অশ্লীল-অনৈতিক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই সময় দুটি কক্ষে নিয়মিত কয়েক ডজন নেতা যাতায়াত করতেন এবং নারীদেরও অবাধ আনাগোনা ছিল। অভিযোগের বিষয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, দলীয় শৃঙ্খলা কমিটি বিষয়টি তদন্ত করছে।
হোটেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্ত পাঁচ নেতা হলেন—ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার, সাদেক মির্জা, মিরাসাত হোসেন হিমেল, শাখাওয়াত হোসেন ও তাওসীপ। এর মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব। অন্যরাও একই কমিটির বিভিন্ন দায়িত্বে রয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ কার্যালয় সংস্কারের কাজের কথা জানিয়ে এনসিপির কয়েকজন সমন্বয়ক ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হোটেলের ৭২৫ ও ৭২৭ নম্বর কক্ষ দুটি ব্যবহার করেন। প্রতিটি কক্ষের দৈনিক ভাড়া ছিল ৩ হাজার টাকা। বুকিংয়ের সময় ১০ হাজার টাকা অগ্রিম পরিশোধ করা হলেও পরে আর কোনো ভাড়া পরিশোধ করা হয়নি বলে দাবি করেছে হোটেল কর্তৃপক্ষ।
হোটেলের মহাব্যবস্থাপক খন্দকার রুহুল আমিনের স্বাক্ষরিত অভিযোগে বলা হয়েছে, পাঁচ নেতার নেতৃত্বে আরও কয়েক ডজন নেতা সেখানে নিয়মিত রাত্রিযাপন করতেন। একই সঙ্গে নারীদের যাতায়াত এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও করা হয়েছে। হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, এ-সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজ তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দলীয় পরিচয়ের কারণে সরল বিশ্বাসে তাদের হোটেলে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে বকেয়া ভাড়া পরিশোধ না করেই তারা চলে যান। পাওনা টাকা চাইলে হোটেল কর্তৃপক্ষকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের সহযোগিতায় টাকা আদায় সম্ভব না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
হোটেল ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনালের হিসাব বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ কাজল বলেন, এনসিপির নেতারা প্রায় আট মাস দুটি কক্ষ ব্যবহার করলেও অগ্রিম ১০ হাজার টাকা ছাড়া আর কোনো ভাড়া পরিশোধ করেননি। তার দাবি, ওই কক্ষগুলোতে প্রায়ই বিভিন্ন ব্যক্তি আসতেন এবং নারীদেরও নিয়মিত যাতায়াত ছিল। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে তারা তা আমলে নেননি। পরে নির্বাচন শেষে তারা হোটেল ছেড়ে চলে গেলে কর্তৃপক্ষ তালা ভেঙে কক্ষ দুটি পুনরায় ভাড়া দেয়।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার বলেন, হোটেলের ভাড়ার বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। নারী নিয়ে হোটেলে অবস্থানের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে প্রচারিত একটি ভিডিও ২০২৩ সালের পুরোনো বলে দাবি করেন।
সাদেক মির্জা বলেন, ওই হোটেলের দুটি কক্ষে কয়েকজন অবস্থান করলেও ভাড়া পরিশোধের বিষয়টি তিনি জানেন না। আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক কারণে কয়েকবার সেখানে গিয়েছিলেন এবং রাত হয়ে যাওয়ায় অনেকে সেখানে থাকতেন বলে জানান তিনি।
অন্য অভিযুক্ত শাখাওয়াত হোসেন বলেন, হোটেলের কক্ষ তার নামে বুকিং হয়নি। ভাড়ার বিষয়টিও তিনি জানেন না। তবে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন এবং দুই কক্ষে পাঁচ থেকে দশজন পর্যন্ত অবস্থান করেছেন বলে স্বীকার করেন।
মিরাসাত হোসেন হিমেল বলেন, তিনি ওই হোটেলে গিয়েছেন কি না, তা তার মনে নেই। কে অভিযোগ করেছেন, সেটি জানতে চান তিনি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, অভিযোগটি দলীয় শৃঙ্খলা কমিটির কাছে গেছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।