Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

মাদকের টাকার জন্যই মা ও তিন মেয়েকে খুন করতে পারে অন্তর

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম

মাদকের টাকার জন্যই মা ও তিন মেয়েকে খুন করতে পারে অন্তর

বিজ্ঞাপন

‘২০২৫ সালে দুই মাস (জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি) এই ভবনের ৪র্থ তলায় একটি মেয়ে নিয়ে ভাড়া থাকতেন অন্তর মজুমদার। তারা উভয়ই নামাজও পড়তেন। ঘাতকের মাথায় টুপিও থাকত ও মেয়েটিও মাঝে মাঝে বোরকা পড়তেন; কিন্তু অন্তর ছিলেন মাদকাসক্ত। ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রির আড়ালে মাদক সেবন করতেন। এ কারণেই হয়তো মা ও তিন মেয়েকে ধারাল ছেনি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পালাতে চেয়েছিলেন অন্তর; কিন্তু তা আর পারেনি- ক্ষুব্ধ জনতা গণপিটুনি দিয়ে অন্তরকে মেরে ফেলেছে।’

মঙ্গলবার (৩০ জুন) লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আইন কমিটির মাসিক  সভায় থানার ওসি শাহীন মিয়া এসব তথ্য জানান।

ওসি আরও বলেন, প্রায় ৭-৮ বছর ধরে অন্তর মাদকাসক্ত। তিনি তার বাড়িতে মাদকের টাকার জন্য বাবা ও মাকে মারধর ও বসতঘর ভাঙচুর করত। তার আচরণ ভালো ছিল না। এ কারণে তিনি গ্রাম ও পরিবার থেকে বিতাড়িত হন। ফেনী শহরে এক ফলের দোকানে কাজের সময় মালিকের টাকা চুরি করেন তিনি। এ কারণে তাকে বেঁধে মারধর করলে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে অন্তরকে ছাড়িয়ে আনেন বাবা ও মা।

তিনি বলেন, অন্তর দুই মাস রায়পুরের ধানহাটা এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে বাসা ভাড়া নিয়ে ছিলেন। কিন্তু ভাড়া দিতে না পারায় তাকে বাড়িওয়ালা বাসা থেকে বের করে দেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন- রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা, হাসপাতালের আরএমও মামুনুর রশীদ পলাশ, কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জেডএম নাজমুল ইসলাম মিঠু, সাধারণ সম্পাদক সফিকুর রহমান ভুঁইয়া, পৌর বিএনপির সভাপতি এবিএম জিলানী, উপজেলা জামায়াতের আমির নাজমুল হুদা, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তাবারক হোসেন আজাদ, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জিয়াউল কাদের বাবলু প্রমুখ।

২৫ জুন সকাল ৮টায় বাসায় ঢুকে ছেনি দিয়ে শাহিনুর বেগম (৩৮) ও তার তিন মেয়ে সাইমা আক্তার (২০), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ও ফাতেমা আক্তার সিপাকে (৯) কুপিয়ে হত্যা করে অন্তর। এ সময় পাশের এক নারীর কারণে বাইরে থেকে দরজা লাগানো থাকায় ভবনের ছাদ দিয়ে পালাতে চেয়েছিলেন তিনি; কিন্তু স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করেন তাকে।

ওসি শাহীন মিয়া বলেন, মা ও তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহত শাহিনুরের ছেলে জিহাদুল ইসলাম শিফাত বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার