Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

প্রথম বিসিএসেই বাজিমাত : পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম কে এই তানভীর

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম

প্রথম বিসিএসেই বাজিমাত : পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম কে এই তানভীর

বিজ্ঞাপন

সীমাবদ্ধতা ও অভাব-অনটনকে জয় করে সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছেন নেত্রকোনার তানভীর রহমান। প্রথমবার বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়েই বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন তিনি। মধ্যবিত্ত শিক্ষক পরিবারের এই সন্তানের অনন্য সাফল্যে আনন্দে ভাসছে পুরো নেত্রকোনা।

রোববার (২৮ জুন) প্রকাশিত ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে এই গৌরবময় কৃতিত্ব অর্জন করেন তানভীর। তিনি নেত্রকোনা সদর উপজেলার রায়দুম বাগড়া গ্রামের শামছুদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রহমান ও গৃহিণী রিনা পারভীনের বড় ছেলে। তিন ভাইবোনের মধ্যে তানভীর সবার বড়।

বর্তমানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত তানভীর রহমান ঢাকায় অবস্থান করায় তার সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ছেলের এই অবিস্মরণীয় সাফল্যে আবেগাপ্লুত তার পরিবার ও এলাকাবাসী।

তানভীরের বাবা আব্দুর রহমান বলেন, ‘ফলাফলের খবর শুনেই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছি। ছোটবেলা থেকেই তানভীর পড়াশোনায় ভীষণ মনোযোগী ছিল। গ্রামের বাড়ি থেকে পাঁচ কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে যেত। তখন এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না; হারিকেন আর মোমবাতির আলোয় গভীর রাত পর্যন্ত পড়েছে সে। পরিবারের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সে কখনো স্বপ্ন দেখা বন্ধ করেনি।’

ছেলের সংগ্রামী দিনগুলোর কথা স্মরণ করে মা রিনা পারভীন বলেন, ‘আমাদের ছোট একটি টিনশেড ঘরে একসঙ্গে থাকা, খাওয়া ও পড়াশোনা করা খুবই কষ্টসাধ্য ছিল। কিন্তু আমার ছেলে কখনো হাল ছাড়েনি। আড্ডা বা ঘোরাঘুরি না করে নিজের পড়াশোনায় মগ্ন থাকত। তানভীরের নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা আর কঠোর পরিশ্রমই আজ তাকে এই অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।’

মেধাবী এই কর্মকর্তার শিক্ষাজীবনও সাফল্যে মোড়ানো। ২০১৯ সালে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাসের পর ভর্তি হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগে। ২০২৫ সালে বুয়েট থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিয়মিত বিসিএসের প্রস্তুতি নেন তিনি।

প্রথমবার পরীক্ষা দিয়েই পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হওয়ার বিষয়টিকে অনেকেই বিস্ময়কর মনে করলেও তানভীরের ছোট বোন সাদিয়ার কাছে এটি প্রত্যাশিতই ছিল। তিনি বলেন, ‘ভাইয়া ছোটবেলা থেকেই খুব নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করতেন এবং নিজের লক্ষ্য নিয়ে সচেতন ছিলেন। তাই তার এই সাফল্যে আমরা বিস্মিত নই, বরং অত্যন্ত গর্বিত।’

এলাকাবাসীর কাছেও তানভীর এখন অনুপ্রেরণার নাম। তাদের ভাষ্য, একজন সাধারণ শিক্ষক বাবার সন্তান হয়েও দেশের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এমন সাফল্য অর্জনে তারা বিস্মিত। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি তানভীরের এই জয়গাথা প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণে এক নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার