বিজ্ঞাপন
ইউপি সদস্য থেকে এমপি, রাজনৈতিক উত্থানের গল্প শোনালেন আব্দুল গফুর
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
বিজ্ঞাপন
ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সদস্য (মেম্বার) থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়ার গল্প শুনিয়েছেন কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল গফুর।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৩তম দিন মঙ্গলবার (২৩ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজের রাজনৈতিক উত্থানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
আব্দুল গফুর বলেন, তিনি সবচেয়ে নিচু স্তর থেকে রাজনীতি শুরু করেছিলেন। ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হিসেবে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করে পরে চেয়ারম্যান, এরপর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৩ সাল থেকে তার এই দীর্ঘ রাজনৈতিক সফরে কোনও বিরতি ছিল না বলেও সংসদকে জানান তিনি।
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে আব্দুল গফুর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে দেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট হিসেবে উল্লেখ করলেও এটিকে উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবায়ন-অযোগ্য বলে সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, এই বাজেটে সুশাসনের চরম অভাব রয়েছে। বাজেটটি অতিমাত্রায় ঋণনির্ভর, বিশেষ করে দেশীয় ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের পরিকল্পনা এতে রয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী তা ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা একেবারেই অসম্ভব।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের নানা সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। আব্দুল গফুর বলেন, শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের কথা বলা হলেও আগের বক্তাদের সূত্র ধরে তিনি ১৪ হাজার কোটি টাকার হিসাবের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এই বিপুল অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হবে, তার কোনও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা বাজেটে নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের নির্বাচনি এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার জরাজীর্ণ অবকাঠামোর চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বসার জায়গা নেই। বর্ষাকালে চাল দিয়ে পানি পড়ায় খাতা-পত্র ও বসার স্থান রক্ষায় প্লাস্টিক বা ওয়েল পেপার ব্যবহার করতে হয়। অথচ কতটি বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা হবে, সে বিষয়ে বাজেটে কোনও সুনির্দিষ্ট ঘোষণা নেই।
স্বাস্থ্য খাতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তার নির্বাচনি এলাকার মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এসব হাসপাতালে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী ভর্তি থাকেন এবং বহির্বিভাগে ১ থেকে দেড় হাজার রোগী সেবা নেন।
ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহাল অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে রোগীরা তো বটেই, সুস্থ মানুষও গেলে অসুস্থ হয়ে পড়ার মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতের এই দুরবস্থা দূর করতে তিনি অর্থমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এছাড়া ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে তার এলাকার এক দরিদ্র রোগীর দিনের পর দিন বারান্দায় পড়ে থাকার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, দেশের গরিব মানুষ সরকারি হাসপাতালে গিয়ে যথাযথ সেবা পাচ্ছে না। চিকিৎসা খাতের এই অনিয়মগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
নিজের এলাকার নদীভাঙন সমস্যার কথাও তুলে ধরেন আব্দুল গফুর। তিনি বলেন, ভেড়ামারা ও মিরপুরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদীর একটি অংশে বর্তমানে কাজ চলমান রয়েছে। কিছুদিন আগে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন এবং তিনি নিজেও পানি সম্পদ মন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দিয়েছেন। গত বছর থেকেই ভেড়ামারার চারটি ইউনিয়ন নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। এই ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
আব্দুল গফুর আক্ষেপ করে বলেন, এত বড় বাজেট বাস্তবায়নের জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি রোধে যে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রয়োজন, প্রস্তাবিত বাজেটে তার কোনও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই।