বিজ্ঞাপন
যে দেশের ভিসা থাকলে ঘুরতে পারবেন ২২ দেশে, জেনে নিন
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশি ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে বর্তমানে যুক্তরাজ্যের (ইউকে) ভিসা শুধু ব্রিটেন ভ্রমণের অনুমতিপত্র নয়, বরং বহুদেশ ভ্রমণের একটি কার্যকর ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একটি বৈধ ও ব্যবহৃত ইউকে ভিসা কিংবা রেসিডেন্স পারমিটের মাধ্যমে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশ, ভিসা অন অ্যারাইভাল অথবা সহজ শর্তে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া যায়।
ভ্রমণবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈধ ইউকে ভিসাধারী বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের অন্তত ২২টি দেশে বিশেষ ভ্রমণ সুবিধা ভোগ করতে পারেন। ফলে, একটি ভিসা ব্যবহার করেই একাধিক দেশ ঘুরে দেখার সুযোগ তৈরি হয়, যা ভিসা ফি, আবেদন প্রক্রিয়ার সময় এবং সামগ্রিক ভ্রমণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে সহায়তা করে।
বর্তমানে বৈধ ইউকে ভিসাধারীদের জন্য সুবিধাজনক গন্তব্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- ১. আলবেনিয়া ২. সার্বিয়া ৩. মন্টিনিগ্রো ৪. নর্থ মেসিডোনিয়া ৫. জর্জিয়া ৬. তুরস্ক (ই-ভিসা সুবিধা) ৭. সৌদি আরব ৮. মিশর ৯. আজারবাইজান ১০. মেক্সিকো ১১. কোস্টারিকা ১২. পানামা ১৩. ডোমিনিকান রিপাবলিক ১৪. অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা ১৫. অ্যাঙ্গুইলা ১৬. ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস ১৭. তুর্কস অ্যান্ড কাইকোস দ্বীপপুঞ্জ ১৮. মরক্কো ১৯. স্কটল্যান্ড ২০. ওয়েলস ২১. উত্তর আয়ারল্যান্ড ২২. যুক্তরাজ্যের অন্যান্য অঞ্চল
এছাড়া ভিসার ধরন, মেয়াদ ও সংশ্লিষ্ট দেশের নীতিমালার ওপর নির্ভর করে আরও কয়েকটি গন্তব্যে বিশেষ প্রবেশ সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ইউরোপীয় শেনজেন ভিসা প্রাপ্তি তুলনামূলকভাবে কঠিন হয়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রথমবার আবেদনকারীরা স্বল্পমেয়াদি ভিসা পান এবং আবেদন প্রক্রিয়াও দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ হয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনেও কঠোর যাচাই-বাছাই ও সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ার কারণে অনিশ্চয়তা থেকে যায়।
এমন বাস্তবতায় ইউকে ভিসা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। একবার ভিসা পাওয়া গেলে শুধু যুক্তরাজ্য নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের একাধিক দেশ ভ্রমণের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ফলে পর্যটক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের মধ্যে ইউকে ভিসার প্রতি আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।
তাছাড়া, ইউকে ভিসাধারীদের জন্য অনেক দেশে প্রবেশের শর্ত তুলনামূলক সহজ হওয়ায় আলাদা ভিসা আবেদন, অতিরিক্ত ফি এবং দীর্ঘ অপেক্ষার ঝামেলা এড়ানো সম্ভব হয়। পর্যাপ্ত সময় ও পরিকল্পনা থাকলে এক সফরেই কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করা যায়। এতে ভ্রমণ ব্যয় কমার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও সমৃদ্ধ হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশকে একই ভ্রমণ পরিকল্পনায় যুক্ত করে তুলনামূলক কম খরচে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সফর সম্পন্ন করা সম্ভব। তবে, ইউকে ভিসার আবেদন করার সময় ব্যাংক স্টেটমেন্ট, আয়ের উৎস, পেশাগত তথ্য, ভ্রমণ ইতিহাস এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাযথভাবে প্রস্তুত রাখা জরুরি। কোনো ধরনের জাল বা ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করলে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি ভিসা নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। স্বচ্ছ আর্থিক সক্ষমতা, সঠিক তথ্য, শক্তিশালী ভ্রমণ ইতিহাস এবং সুপরিকল্পিত ভ্রমণ পরিকল্পনা থাকলে ইউকে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। এর মাধ্যমে তুলনামূলক কম খরচে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের একাধিক দেশ ভ্রমণের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে।
সময়ে সময়ে বিভিন্ন দেশের ভিসা ও প্রবেশ সংক্রান্ত নীতিমালা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস, কনস্যুলেট অথবা সরকারি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করে নেওয়া উচিত।